শুক্রবার, ২৪ এপ্রিল ২০২৬, ০২:১৩ অপরাহ্ন
১৬ বছর পরে চক্রান্ত ভেঙে জেগে উঠল রাজশাহীর ঐতিহাসিক দামকুড়া পশুহাট!
গোলাম কিবরিয়া, বিশেষ প্রতিনিধি রাজশাহী
রাজশাহীর পবা উপজেলার ঐতিহ্যবাহী দামকুড়া পশুহাট এক যুগেরও বেশি সময় পর আবার প্রাণ ফিরে পেয়েছে। এক সময়ের জমজমাট হাটটি ২০০৮ সালের পর একটি সিন্ডিকেটের হাতে পড়ে নিঃশব্দে হারিয়ে যায়। কেউ বলছেন ‘চক্রান্ত’, কেউ বলছেন ‘অপকৌশল’। কারণ, দামকুড়া পশুহাট বন্ধ করে দিতে সিন্ডিকেটের লোকজন হাটটি নামমাত্র দামে ইজারা নিয়ে ফেলে রাখত। উদ্দেশ্য ছিল ১০ কিলোমিটার দূরের সিটি হাটকে চাঙ্গা রাখা। তবে সব বাধা পেরিয়ে এবার ফের চালু হলো হাট, আর তা এক উৎসবমুখর পরিবেশে।
উদ্বোধনী দিনে হাটে ছিল ক্রেতা-বিক্রেতাদের উপচে পড়া ভিড়। গরু বিক্রি করে প্রথম বিক্রেতা পেলেন বিশেষ উপহার, প্রথম ক্রেতাকেও দেওয়া হয় এক হাজার টাকা ও ছাতা। হাটটির নতুন ইজারাদার সাবেক ইউপি চেয়ারম্যান শাহজাহান আলী এক বছরের জন্য হাটটি ইজারা নিয়েছেন ১ কোটি ১১ লাখ ১১ হাজার ১১১ টাকায়। অথচ গত সরকারের সময় একে একে ৩৬ লাখ, ৩৭ লাখ টাকায় ইজারা নিয়েছিল সেই একই সিন্ডিকেট। দীর্ঘদিন ইজারা ধরে রাখা রেজাউনুর রহমান ও তাঁর পরিবার, যারা একই সঙ্গে সিটি হাটেরও ইজারাদার ছিলেন, সরকারের পতনের পর গা ঢাকা দিয়েছেন।
এই নতুন হাটে টোলও রাখা হয়েছে সাধারণের নাগালে। গরুপ্রতি মাত্র ৪০০ টাকা ও ছাগলপ্রতি ১৫০ টাকা। সিটি হাটে যেখানে ক্রেতার কাছ থেকে ৮০০ টাকা ও বিক্রেতার কাছ থেকে আরও ২০০ টাকা নেওয়া হয়, সেখানে দামকুড়ায় বিক্রেতার কোনো খরচই নেই! সরকারি নিয়মের তুলনায় অনেক কম টোল হওয়ায় ক্রেতা-বিক্রেতারা বেশ উচ্ছ্বসিত।
শাহজাহান আলী বলেন, “১৯৮৯ সালে চালু হওয়া দামকুড়া পশুহাট একটি ঐতিহ্য। তা কৌশলে ধ্বংস করার চেষ্টা হয়েছিল। এবার সেই ষড়যন্ত্র ভেঙে আমরা হাটকে ফিরিয়ে এনেছি।” এখন থেকে প্রতি বুধবার ও রোববার নিয়মিত বসবে এই হাট। সরকারও ফিরে পাবে বহু বছর ধরে হারানো রাজস্ব।
আর এখানেই জাগছে আশার আলো—যেখানে বন্ধ হয়েছিল ষড়যন্ত্রে, সেখানেই এবার শুরু হচ্ছে নতুন সম্ভাবনার গল্প।