শনিবার, ২৫ এপ্রিল ২০২৬, ০৫:২৮ অপরাহ্ন
ধর্মীয় বিরোধ নাকি পরিকল্পিত হামলা? আমতলীতে ইসমাইল শাহ মাজারে আগুন, আহত ২০
বরগুনার আমতলীতে ইসমাইল শাহ মাজারের ওরস চলাকালে ভয়াবহ হামলা ও অগ্নিসংযোগের ঘটনা ঘটেছে, যাতে অন্তত ২০ জন আহত হয়েছেন। রবিবার (১৬ মার্চ) রাত সোয়া ১২টার দিকে আমতলী পৌর শহরের বটতলা এলাকায় এই উত্তেজনাকর পরিস্থিতির সৃষ্টি হয়।
জানা যায়, ১৯৯৬ সালে প্রতিষ্ঠিত ইসমাইল শাহ মাজারে প্রতিবছর দুইদিনব্যাপী ওরস উদযাপন করা হয়। এবারও ২৮তম ওরসের আয়োজন চলছিল। তবে রাতেই পরিস্থিতি উত্তপ্ত হয়ে ওঠে যখন ইসলামী আন্দোলন বাংলাদেশ আমতলী শাখার সভাপতি মাওলানা ওমর ফারুক জেহাদী ও সাধারণ সম্পাদক গাজী বায়েজিদের নেতৃত্বে শতাধিক সমর্থক ওরস বন্ধের দাবি জানান। মাজারের খাদেম অ্যাডভোকেট মোস্তাফিজুর রহমান বাবুল এতে অসম্মতি জানালে বাগ্বিতণ্ডা চরমে পৌঁছায়।
অভিযোগ উঠেছে, ইসলামী আন্দোলনের সমর্থকরা লাঠিসোটা নিয়ে মাজারে হামলা চালিয়ে ভাঙচুর ও অগ্নিসংযোগ করেন, এতে ওরসে অংশ নেওয়া ভক্তরা আতঙ্কে ছুটোছুটি করেন। পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণে আনতে দ্রুত ঘটনাস্থলে ছুটে আসেন উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা (ইউএনও) ও থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি)।
মাজারের খাদেম অ্যাডভোকেট মোস্তাফিজুর রহমান বাবুল বলেন, ‘মাওলানা ওমর ফারুক জেহাদী ও গাজী বায়েজিদের নেতৃত্বে হামলাকারীরা লুটপাট চালিয়ে ভক্তদের মারধর করে এবং মাজারের গিলাব ও দুটি বৈঠকখানা পুড়িয়ে দেয়। আহতদের মধ্যে কয়েকজনকে হাসপাতালে ভর্তি করা হয়েছে।’
অন্যদিকে, আমতলী ইসলামী আন্দোলনের সভাপতি মাওলানা ওমর ফারুক দাবি করেন, ‘রমজান মাসে গান-বাজনা ও মাজার পুজা বন্ধের আহ্বান জানানো হয়েছিল। কিন্তু খাদেম তা না মানায় ভক্তদের সঙ্গে উত্তেজনা ছড়িয়ে পড়ে এবং পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণের বাইরে চলে যায়।’
ফায়ার সার্ভিসের ওয়ারহাউস ইন্সপেক্টর মোহাম্মদ হানিফ জানান, দুই ঘণ্টার চেষ্টায় আগুন নিয়ন্ত্রণে আনা সম্ভব হলেও মাজারের সামিয়ানা ও দুটি ঘর পুড়ে গেছে।
আমতলী থানার ওসি আরিফুল ইসলাম বলেন, ‘পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণে আনা হয়েছে এবং তদন্ত সাপেক্ষে আইনানুগ ব্যবস্থা নেওয়া হবে।’
উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা মুহাম্মদ আশরাফুল আলম জানান, ‘ঘটনার সঙ্গে জড়িতদের বিরুদ্ধে কঠোর ব্যবস্থা নেওয়া হবে।’