শনিবার, ২৫ এপ্রিল ২০২৬, ০৭:০০ অপরাহ্ন
মো:বনি আমিন, মনপুরা উপজেলা প্রতিনিধি
মনপুরার মেঘনায় টানা দুই মাস মাছ ধরা নিষিদ্ধ! কাজ নেই, আয়ের পথ বন্ধ, অথচ খরচ কমেনি একটুও। অর্ধ লাখের বেশি জেলে দিশেহারা, ব্যবসায়ীরাও লোকসানের মুখে।
উপজেলার ১৫টি ঘাটের প্রায় দুই হাজার ফিশিং ট্রলারের জেলেরা এখন বেকার। কেউ সংসারের খরচ জোগাতে হিমশিম খাচ্ছেন, কেউ আবার অন্য কোনো উপায় না পেয়ে ধারদেনায় জর্জরিত। তবে মৎস্য বিভাগ বলছে, এবারই প্রথম কিছু সংখ্যক জেলেকে খাদ্য সহায়তা দেওয়া হবে।
১ মার্চ থেকে ৩০ এপ্রিল পর্যন্ত নিষেধাজ্ঞা থাকায় জনতা ঘাটের কামাল উদ্দিনের মতো শত শত মাঝি-মাল্লা জাল গুছিয়ে অলস বসে আছেন। বাজারে নিত্যপণ্যের দাম আকাশছোঁয়া, আর ঘরে উপার্জনের পথ নেই—এ যেন নিঃশ্বাস নেওয়াও কষ্টকর হয়ে উঠেছে!
রামনেওয়াজ এলাকার মৎস্যজীবী নাজিম উদ্দিন মাঝি বলেন, “১৫ বছর ধরে এই নদীর সঙ্গে জীবন কাটাচ্ছি। কখনো রোজগার ভালো, কখনো লোকসান। কিন্তু এবার নিষেধাজ্ঞার ধাক্কায় সংসার চালানোই দায় হয়ে গেছে।”
মনপুরা উপজেলা মৎস্য কর্মকর্তা কামাল হোসেন জানিয়েছেন, এবার প্রথমবারের মতো সমুদ্রগামী ৬৬৬৩ জেলেকে তিন ধাপে ৪০ কেজি করে খাদ্য সহায়তা দেওয়া হবে। তবে বাকি হাজারো জেলে কী করবে? বেকার জীবন কবে শেষ হবে?—এই প্রশ্নের উত্তরই যেন এখন সবচেয়ে বড় অনিশ্চয়তা।