রবিবার, ২৬ এপ্রিল ২০২৬, ০৩:১৭ পূর্বাহ্ন
জাহিদ হাসান, জেলা প্রতিনিধি জামালপুর
ময়মনসিংহে জেলা গোয়েন্দা পুলিশের (ডিবি) দুর্ধর্ষ অভিযানে আন্তঃজেলা ডাকাত দলের ৬ সদস্য গ্রেফতার হয়েছে। একইসঙ্গে ডাকাতির মালামাল কেনাবেচায় জড়িত এক ব্যবসায়ীসহ ডাকাতির কাজে ব্যবহৃত ট্রাকও জব্দ করা হয়েছে। দুই দিন ধরে নারায়ণগঞ্জ, গাজীপুর ও নেত্রকোনায় চালানো টানা অভিযানের পর ডাকাতদের আটক করা হয় বলে অতিরিক্ত পুলিশ সুপার (পদোন্নতিপ্রাপ্ত) শামীম আহমেদ এক প্রেস ব্রিফিংয়ে জানান।
প্রেস ব্রিফিংয়ে অতিরিক্ত পুলিশ সুপার বলেন, গত ২৯ জানুয়ারি বিকালে রাজীব পরিবহনের একটি ট্রাক (রেজিঃ নং- ঢাকা মেট্রো ট ২৪-৮২৫৬) চালক জুয়েল মিয়া ও হেলপার আলম মিয়াসহ চট্টগ্রামের মীরসরাইয়ের বারইহাট বাজার থেকে ১৫ টন রড নিয়ে শেরপুরের উদ্দেশ্যে রওনা দেয়। ৩০ জানুয়ারির ভোরে ময়মনসিংহের ত্রিশালের রায়মনি এলাকায় পৌঁছালে একটি খালি ট্রাক দিয়ে তাদের পথরোধ করা হয়। এসময় পাঁচজন সশস্ত্র ডাকাত দেশীয় অস্ত্র, দা ও রড নিয়ে হামলে পড়ে চালক ও হেলপারকে মারধর করে, হেলপারকে ট্রাক থেকে ফেলে দেয় এবং রডভর্তি ট্রাক নিয়ে চম্পট দেয়।
ত্রিশাল থানা ডাকাতির ঘটনা জানার পরপরই ঘটনাস্থল পরিদর্শন করে, চালককে জিজ্ঞাসাবাদ করে এবং পার্শ্ববর্তী থানা ও টহল পুলিশকে সতর্ক করে তাৎক্ষণিক অভিযান শুরু করে। পুলিশের কঠোর তৎপরতায় ডাকাতরা ভালুকা-গফরগাঁও সড়কের ধীতপুর বাওয়ারগ্রামে লুণ্ঠিত ট্রাক ফেলে পালিয়ে যায়। তবে তারা ১৫ টনের মধ্যে প্রায় দেড় টন রড লুট করে নিয়ে যায়।
ডাকাতির ঘটনায় রাজীব পরিবহনের ম্যানেজার লুৎফর রহমান বাদী হয়ে ত্রিশাল থানায় মামলা (মামলা নং-২০) দায়ের করেন। মামলা রুজুর পরপরই পুলিশ সুপারের নির্দেশে ডিবি পুলিশ ছায়া তদন্ত শুরু করে।
ডিবির ওসি আবুল হোসেনের তত্ত্বাবধানে পুলিশ পরিদর্শক মহিদুল ইসলাম ও এসআই আশরাফুল আলমের নেতৃত্বে একটি চৌকস দল ২২ ও ২৩ ফেব্রুয়ারি নারায়ণগঞ্জ, গাজীপুর ও নেত্রকোনায় গোপন অভিযান চালিয়ে ডাকাত দলের ৬ সদস্য— মোঃ শরীফ হোসেন, মোঃ নাঈম আহম্মেদ, মোঃ ইয়াসিন, মোঃ রাজন, মোঃ হাসান ও মোঃ মামুন মিয়াকে গ্রেফতার করে।
গ্রেফতারকৃতদের স্বীকারোক্তির ভিত্তিতে ডাকাতির কাজে ব্যবহৃত ট্রাক ও লুট হওয়া রডের বড় অংশ উদ্ধার করা হয়। সেইসঙ্গে ডাকাতির পণ্য (রড) কেনাবেচায় জড়িত ব্যবসায়ী ইদ্রিস আলীকেও গ্রেফতার করা হয়, যিনি পুলিশের জিজ্ঞাসাবাদে স্বীকার করেছেন যে, ডাকাতি করা মালামাল জেনেও তিনি রড কিনেছিলেন।
প্রেস ব্রিফিংয়ে ডিবির ওসি আবুল হোসেন, পুলিশ পরিদর্শক (তদন্ত) মহিদুল ইসলামসহ অন্যান্য ঊর্ধ্বতন কর্মকর্তারা উপস্থিত ছিলেন।