রবিবার, ২৬ এপ্রিল ২০২৬, ০৭:২৬ পূর্বাহ্ন
বরগুনায় এক মর্মান্তিক হত্যাকাণ্ডের ঘটনায় স্ত্রীর রক্তে হাত রাঙিয়ে থানায় আত্মসমর্পণ করলেন স্বামী! পারিবারিক কলহের জেরে আসমা আক্তার পুতুল (৩০) নামে এক গৃহবধূকে ছুরিকাঘাতে হত্যা করেছেন স্বামী মো. আবুল কালাম (৩৫)। তবে কী এমন ঘটল যে নিজ স্ত্রীকে নির্মমভাবে খুন করতে হলো, সে রহস্য এখনো অজানা।
রোববার (১৬ ফেব্রুয়ারি) রাত ৮টার দিকে বরগুনা পৌরসভার বাগানবাড়ি এলাকার এক ভাড়া বাসায় ঘটে যায় এই নৃশংস ঘটনা।
নিহত আসমা আক্তার বরগুনার চান্দখালী ইউনিয়নের বকুলতলী গ্রামের ইউনুসের মেয়ে।
ঘটনার পর বরগুনা সদর থানার ওসি দেওয়ান জগলুল হাসান জানান, ঘাতক স্বামী থানায় এসে আত্মসমর্পণ করলে দ্রুত পুলিশ ঘটনাস্থলে পৌঁছে তদন্ত শুরু করে।
স্থানীয় সূত্রে জানা গেছে, আবুল কালাম তার স্ত্রী ও দুই সন্তান নিয়ে সেখানে ভাড়া থাকতেন। তিনি পেশায় চায়ের দোকানি, আর স্ত্রী পুবালী ব্যাংকের পরিচ্ছন্ন কর্মী হিসেবে কাজ করতেন। তবে এই দম্পতির সম্পর্কে টানাপোড়েন চলছিল বেশ কিছুদিন ধরে। স্ত্রী তার বেতনের টাকা স্বামীকে দিতে অস্বীকৃতি জানালে সংসারে অশান্তি চরমে পৌঁছায়।
এ ঘটনায় এক ভয়ংকর মোড় নেয় রোববার রাতে। সন্তানদের ঘুমের ওষুধ খাইয়ে ঘুম পাড়ানোর পর স্ত্রীকে ছুরিকাঘাতে রক্তাক্ত করে বাসা থেকে পালিয়ে যান আবুল কালাম। প্রতিবেশীরা চিৎকার শুনে ছুটে এসে পুলিশ ও হাসপাতাল কর্তৃপক্ষকে খবর দেন। গুরুতর আহত অবস্থায় হাসপাতালে নেওয়া হলে চিকিৎসক আসমাকে মৃত ঘোষণা করেন।
বাড়ির মালিক মো. রাসেল জানান, প্রায় দুই বছর ধরে কালাম তার স্ত্রী-সন্তানদের নিয়ে এখানে ছিলেন। তাদের মধ্যে দৃশ্যমান কোনো ঝগড়া আগে চোখে পড়েনি। তবে এভাবে রাতের অন্ধকারে এমন ভয়াবহ ঘটনা ঘটবে, তা কেউ কল্পনাও করেনি।
ওসি দেওয়ান জগলুল হাসান বলেন, আত্মসমর্পণের পর কালামকে জিজ্ঞাসাবাদ করা হচ্ছে। হত্যাকাণ্ডে ব্যবহৃত ছুরিটি উদ্ধারের চেষ্টা চলছে। মামলার প্রস্তুতি শেষে আদালতে পাঠানো হবে।
এই ঘটনায় পুরো এলাকা জুড়ে চাঞ্চল্য ছড়িয়ে পড়েছে। কেউ ভাবতেও পারেনি, এতদিনের সংসার এক রাতে এভাবে শেষ হয়ে যাবে!