রবিবার, ২৬ এপ্রিল ২০২৬, ০৪:৫০ পূর্বাহ্ন
ইসলামী বক্তা ড. মিজানুর রহমান আজহারি বলেছেন, যারা আল্লাহর রাসুল (স.)-এর শান ও মর্যাদাকে খাটো করে, অবমাননাকর ও অশ্লীল শব্দ ব্যবহার করে, তাদের সর্বোচ্চ শাস্তির বিধান হওয়া উচিত। তিনি দাবি করেছেন, বাংলাদেশে ব্লাসফেমি আইন বাস্তবায়নই হতে পারে এর স্থায়ী সমাধান।
শনিবার (২২ ফেব্রুয়ারি) বিকেলে চাঁপাইনবাবগঞ্জে এক বিশাল তাফসির মাহফিলে তিনি এসব কথা বলেন। সদর উপজেলার মহারাজপুর ইউনিয়নের লালাপাড়া এলাকায় আয়োজিত এ মাহফিলের উদ্যোক্তা ছিল জাবলুন নূর ফাউন্ডেশন।
ড. আজহারি বলেন, “নতুন বাংলাদেশ পেয়েছি। এখানে বিভেদ নয়, দরকার ঐক্য। একা থাকলে মানুষ দুর্বল, কিন্তু ঐক্যবদ্ধ থাকলে শক্তি তৈরি হয়। সেই শক্তি যেন ইসলামের কল্যাণে ব্যবহৃত হয়। আমরা উন্নত দেশ চাই, ন্যায়বিচার চাই, কিন্তু কিছু ষড়যন্ত্রকারী এ একতাকে দুর্বল করার চেষ্টায় লিপ্ত। প্রতিবেশী দেশগুলোর সঙ্গে আমাদের সম্পর্কের বাস্তবতা বুঝে প্রতিটি পদক্ষেপ নিতে হবে।”
তিনি আরও বলেন, “যদি আমরা ঐক্যবদ্ধ থাকি, তাহলে কেউ আমাদের ক্ষতি করতে পারবে না। আমরা এমন রাজনৈতিক পরিমণ্ডল চাই, যেখানে কারও ওপর অন্যায়-জুলুম করার সুযোগ থাকবে না। স্বাধীনতার পর থেকে আমরা লুটপাট, টাকার পাচার আর বিশৃঙ্খলা দেখেছি, কিন্তু নতুন বাংলাদেশে এসবের পুনরাবৃত্তি চাই না। দেশের বিশ্ববিদ্যালয়গুলো গবেষণার কেন্দ্র হোক, যেন তরুণদের হাতে অস্ত্র নয়, কলম থাকে।”
জনপ্রিয় এ ইসলামি বক্তা ক্ষোভ প্রকাশ করে বলেন, “শান্তিপ্রিয় মুসলমানদের উসকানি দিতে বারবার নবী (স.)-কে গালি দেওয়া হচ্ছে। এমন সব অশ্লীল শব্দ ব্যবহার করা হচ্ছে, যা মুখে আনাও অসম্ভব। অন্তর্বর্তী সরকারের প্রতি আমাদের স্পষ্ট আবেদন— আমাদের সহ্যের পরীক্ষা নেবেন না। যদি ধৈর্যের সীমা ছাড়িয়ে যায়, তাহলে জনতাই আইন হাতে তুলে নেবে। আমরা এমন পরিস্থিতি চাই না।”
মাহফিলে প্রায় সোয়া এক ঘণ্টা বক্তব্য দেন তিনি। এরপর তিনি আসন্ন রমজানের করণীয়, রোজার ফজিলত ও ইসলামের আলোকে আত্মশুদ্ধির বার্তা তুলে ধরেন।
জাবলুন নূর ফাউন্ডেশনের চেয়ারম্যান ও জেলা জামায়াতের আমির আবু জর গিফারীর সভাপতিত্বে আয়োজিত এই মাহফিলে প্রধান অতিথি ছিলেন জামায়াতের নির্বাহী পরিষদের সদস্য ও ঢাকা মহানগর দক্ষিণের আমির নুরুল ইসলাম বুলবুল। চাঁপাইনবাবগঞ্জসহ আশপাশের বিভিন্ন জেলা থেকে লক্ষাধিক মানুষ মাহফিলে অংশ নেন।
মাহফিলের সার্বিক নিরাপত্তা নিশ্চিত করতে আইনশৃঙ্খলা বাহিনীর বিপুল সদস্য মোতায়েন ছিল, পাশাপাশি স্বেচ্ছাসেবকরাও সক্রিয় ভূমিকা পালন করেন।