বুধবার, ২৪ জুন ২০২৬, ০৩:০৪ অপরাহ্ন
হিজরি বর্ষপঞ্জির প্রথম মাস মহররম ইসলামের অন্যতম সম্মানিত মাস। পবিত্র কোরআনে উল্লেখিত চারটি হারাম মাসের একটি হলো মহররম। এ মাসে আল্লাহ তাআলা বিশেষভাবে সব ধরনের জুলুম, অন্যায় ও পাপাচার থেকে বিরত থাকার নির্দেশ দিয়েছেন। কোরআন ও হাদিসে এ মাসের মর্যাদা এবং ইবাদতের গুরুত্ব সম্পর্কে স্পষ্টভাবে আলোচনা করা হয়েছে।
হাদিসে মহররমকে ‘আল্লাহর মাস’ হিসেবে উল্লেখ করা হয়েছে। আবু হুরায়রা (রা.) থেকে বর্ণিত একটি হাদিসে রাসুলুল্লাহ (সা.) বলেছেন,
‘রমজানের পর আল্লাহর মাস মুহাররমের রোজা হল সর্বশ্রেষ্ঠ।’
(সহিহ মুসলিম ২/৩৬৮; জামে তিরমিজি ১/১৫৭)
এ হাদিসের মাধ্যমে রমজানের পর নফল রোজার মধ্যে মহররমের রোজার বিশেষ মর্যাদা তুলে ধরা হয়েছে।
মহররম মাসের ১০ তারিখ, অর্থাৎ আশুরার দিনের রোজার ফজিলত আরও বেশি। আবদুল্লাহ ইবনে আব্বাস (রা.) বর্ণনা করেন,
‘আমি রাসুলুল্লাহ (সা.)-কে রমজান ও আশুরায় যেরূপ গুরুত্বের সঙ্গে রোজা রাখতে দেখেছি অন্য সময় তা দেখিনি।’
(সহিহ বুখারী ১/২১৮)
এ থেকে বোঝা যায়, আশুরার রোজা নবী করীম (সা.)-এর কাছে অত্যন্ত গুরুত্ববহ একটি নফল ইবাদত ছিল।
আলী (রা.) থেকে বর্ণিত একটি হাদিসে এসেছে, এক ব্যক্তি রমজানের পর কোন মাসে রোজা রাখা উত্তম—এ প্রশ্ন করলে রাসুলুল্লাহ (সা.) বলেন,
‘রমজানের পর যদি তুমি রোজো রাখতে চাও, তবে মুহররম মাসে রাখ। কারণ, এটি আল্লাহর মাস। এ মাসে এমন একটি দিন আছে, যে দিনে আল্লাহ তাআলা একটি জাতির তওবা কবুল করেছেন এবং ভবিষ্যতেও অন্যান্য জাতির তওবা কবুল করবেন।’
(জামে তিরমিজি ১/১৫৭)
আশুরার রোজার মর্যাদা সম্পর্কে অন্য এক হাদিসে রাসুলুল্লাহ (সা.) ইরশাদ করেন,
‘আমি আশাবাদী যে, আশুরার রোজার কারণে আল্লাহ তাআলা অতীতের এক বছরের (সগীরা) গুনাহ ক্ষমা করে দিবেন।’
(সহিহ মুসলিম ১/৩৬৭; জামে তিরমিজি ১/১৫৮)
হাদিসে আশুরার রোজার পাশাপাশি আগের বা পরের দিন একটি অতিরিক্ত রোজা রাখারও উৎসাহ দেওয়া হয়েছে। এতে বলা হয়েছে,
‘তোমরা আশুরার রোজা রাখ এবং ইহুদীদের সাদৃশ্য পরিত্যাগ করে; আশুরার আগে বা পরে আরো একদিন রোযা রাখ।’
(মুসনাদে আহমদ ১/২৪১)
এছাড়া আবু হুরায়রা (রা.) থেকে বর্ণিত আরেক হাদিসে রাসুলুল্লাহ (সা.) বলেন,
‘আমি যদি আগামী বছর বেঁচে থাকি তাহলে ৯ তারিখেও অবশ্যই রোজা রাখব।’
(সহিহ মুসলিম ১/৩৫৯)
হাদিসের আলোকে ইসলামি পণ্ডিতরা মহররমের ৯ ও ১০ অথবা ১০ ও ১১ তারিখ রোজা রাখাকে অধিক উত্তম হিসেবে উল্লেখ করেছেন।