বুধবার, ২৪ জুন ২০২৬, ০৩:০৩ অপরাহ্ন
ইসলাম একটি পূর্ণাঙ্গ জীবনব্যবস্থা, যেখানে মানুষের আত্মিক উন্নয়নের পাশাপাশি শারীরিক সুস্থতা ও সক্ষমতার প্রতিও বিশেষ গুরুত্ব দেওয়া হয়েছে। মহানবী সল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লামের জীবনাদর্শে এমন কয়েকটি খেলাধুলা ও শারীরিক অনুশীলনের দৃষ্টান্ত পাওয়া যায়, যা ব্যক্তি ও সমাজ উভয়ের জন্যই উপকারী। এসব অনুশীলন শুধু বিনোদনের মধ্যে সীমাবদ্ধ নয়, বরং আত্মরক্ষা, দক্ষতা ও শারীরিক সক্ষমতা বৃদ্ধিতেও গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা রাখে।
ইসলামের প্রাথমিক যুগে তীরন্দাজি ছিল সামরিক প্রস্তুতির একটি গুরুত্বপূর্ণ অংশ। রসুলুল্লাহ (সা.) তীর নিক্ষেপ শেখার প্রতি উৎসাহ দিয়েছেন এবং এটিকে মর্যাদাপূর্ণ কাজ হিসেবে উল্লেখ করেছেন। হাদিসে এসেছে, অর্থ: “তোমরা তীর নিক্ষেপ করো এবং অশ্বারোহণ করো; তবে তোমাদের তীর নিক্ষেপ করাই আমার কাছে বেশি প্রিয়।” (মুসলিম: ১৯১৮)
সে সময় ঘোড়া ছিল যাতায়াত ও যুদ্ধের অন্যতম প্রধান বাহন। তাই ঘোড়ায় দক্ষতা অর্জনকে গুরুত্ব দেওয়া হতো। হাদিসে বর্ণিত আছে, হজরত আবদুল্লাহ ইবন ওমর (রা.) বলেন, রসুলুল্লাহ (সা.) ঘোড়ার প্রতিযোগিতার আয়োজন করেছিলেন। (বুখারি: ২৮৭০)
সাঁতার এমন একটি দক্ষতা, যা দৈনন্দিন জীবন ও জরুরি পরিস্থিতি উভয় ক্ষেত্রেই উপকারী। ইসলাম উপকারী জ্ঞান ও প্রয়োজনীয় দক্ষতা অর্জনকে উৎসাহিত করে। হাদিসে এসেছে, অর্থ: “আল্লাহর স্মরণবিহীন সব কিছুই অনর্থক, তবে চারটি বিষয় ব্যতীত…” যার মধ্যে সাঁতার শিক্ষার কথাও উল্লেখ রয়েছে। (নাসাঈ: ৮৯৪০)
পরিবারে আনন্দ, সৌহার্দ্য ও সুস্থ সম্পর্ক গড়ে তুলতেও বৈধ বিনোদনের অনুমোদন রয়েছে ইসলামে। হজরত আয়েশা (রা.) বর্ণনা করেন, তিনি একবার রসুলুল্লাহ (সা.)-এর সঙ্গে দৌড় প্রতিযোগিতায় অংশ নিয়ে তাঁকে পরাজিত করেছিলেন। (আবু দাউদ: ২৫৭৮)
কুস্তি বা মল্লযুদ্ধ শারীরিক শক্তি, সহনশীলতা এবং আত্মরক্ষার গুরুত্বপূর্ণ মাধ্যম। সীরাতের বর্ণনায় পাওয়া যায়, নবীজি (সা.) মক্কার বিখ্যাত মল্লযোদ্ধা রুকানাকে কুস্তিতে পরাজিত করেছিলেন। এছাড়া হাদিসে এসেছে, অর্থ: “শক্তিশালী মুমিন দুর্বল মুমিনের চেয়ে উত্তম এবং আল্লাহর নিকট অধিক প্রিয়।” (মুসলিম: ২৬৬৪)
যে ধরনের অনুশীলন মানুষের মনোযোগ, দক্ষতা এবং আত্মরক্ষার সক্ষমতা বৃদ্ধি করে, ইসলাম সেগুলোকে উৎসাহিত করেছে। লক্ষ্যভেদ, ঘোড়া প্রশিক্ষণ ও যুদ্ধ প্রস্তুতির বিভিন্ন অনুশীলন এ শ্রেণির অন্তর্ভুক্ত। হাদিসে এসেছে, অর্থ: “নিশ্চয়ই আল্লাহ একটি তীরের মাধ্যমে তিন ব্যক্তিকে জান্নাতে প্রবেশ করাবেন— তীর প্রস্তুতকারী, তীর নিক্ষেপকারী এবং যে তাকে সহযোগিতা করে।” (তিরমিজি: ১৬৩৭)
ইসলামের দৃষ্টিতে এসব খেলাধুলা ও শারীরিক অনুশীলন কেবল বিনোদনের মাধ্যম নয়; বরং সুস্থ, দক্ষ ও দায়িত্বশীল ব্যক্তি গড়ে তোলার গুরুত্বপূর্ণ উপায় হিসেবেও বিবেচিত।