শনিবার, ১৮ জুলাই ২০২৬, ১০:১২ অপরাহ্ন
বিরূপ আবহাওয়া ও বন্যা পরিস্থিতির মধ্যেও দেশের অধিকাংশ অঞ্চলে ২০২৬ সালের এইচএসসি ও সমমানের পরীক্ষা পূর্বনির্ধারিত সময়সূচি অনুযায়ী অনুষ্ঠিত হবে বলে জানিয়েছে বাংলাদেশ আন্তঃশিক্ষা বোর্ড সমন্বয় কমিটি। তবে কোনো এলাকায় প্রাকৃতিক দুর্যোগের কারণে পরীক্ষার্থীদের নিরাপত্তা বা পরীক্ষা পরিচালনায় গুরুতর প্রতিবন্ধকতা দেখা দিলে সংশ্লিষ্ট জেলা প্রশাসক পরিস্থিতি মূল্যায়ন করে তাৎক্ষণিক সিদ্ধান্ত গ্রহণ করতে পারবেন।
সোমবার (১৩ জুলাই) আন্তঃশিক্ষা বোর্ড সমন্বয় কমিটির সভাপতি এবং ঢাকা শিক্ষা বোর্ডের চেয়ারম্যান প্রফেসর সৈয়দ আক্তারুজ্জামানের স্বাক্ষরিত এক বিজ্ঞপ্তিতে এ তথ্য জানানো হয়।
বিজ্ঞপ্তিতে বলা হয়েছে, চলমান এইচএসসি ও সমমানের পরীক্ষা নিয়ে বিরূপ আবহাওয়ার কারণে শিক্ষার্থী, অভিভাবক ও সংশ্লিষ্টদের উদ্বেগের বিষয়টি শিক্ষা বোর্ড গুরুত্বের সঙ্গে বিবেচনা করছে।
এতে আরও উল্লেখ করা হয়, ২০২৬ সালের এইচএসসি ও সমমান পরীক্ষায় দেশের ২ হাজার ৬৯৭টি কেন্দ্রে মোট ১২ লাখ ৭০ হাজার ৫৮৩ জন পরীক্ষার্থী অংশ নিচ্ছেন। অতিবৃষ্টির ফলে সৃষ্ট বন্যায় চট্টগ্রাম শিক্ষা বোর্ডের কয়েকটি কেন্দ্র ক্ষতিগ্রস্ত হওয়া এবং পরীক্ষার্থীদের নিরাপদে কেন্দ্রে পৌঁছাতে সমস্যার কারণে শুধুমাত্র ওই বোর্ডের পরীক্ষা আগামী ১৬ জুলাই পর্যন্ত স্থগিত রাখা হয়েছে। উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা ও জেলা প্রশাসকদের মতামতের ভিত্তিতে এই সিদ্ধান্ত নেওয়া হয়েছে।
আন্তঃশিক্ষা বোর্ড সমন্বয় কমিটির ভাষ্য অনুযায়ী, দেশের অন্যান্য শিক্ষা বোর্ডের অধিকাংশ পরীক্ষাকেন্দ্র এখনো পরীক্ষা গ্রহণের উপযোগী রয়েছে। জেলা প্রশাসন, স্থানীয় প্রশাসন এবং আইনশৃঙ্খলা রক্ষাকারী বাহিনীর সঙ্গে সার্বক্ষণিক সমন্বয়ের মাধ্যমে পরীক্ষা আয়োজনের অনুকূল পরিবেশ রয়েছে বলে সংশ্লিষ্ট প্রশাসনের প্রতিবেদনে উল্লেখ করা হয়েছে। সেই মূল্যায়নের ভিত্তিতেই অন্যান্য সব শিক্ষা বোর্ডে পূর্বনির্ধারিত সূচি অনুযায়ী পরীক্ষা অব্যাহত রাখা হয়েছে।
বিজ্ঞপ্তিতে জানানো হয়, সোমবার সকালে বিরূপ আবহাওয়ার কারণে কুমিল্লা সরকারি মহিলা কলেজ কেন্দ্রের পরীক্ষার্থীরা যাতায়াতে সাময়িক ভোগান্তির মুখে পড়েন। তবে স্থানীয় প্রশাসন, কেন্দ্র কর্তৃপক্ষ এবং অভিভাবকদের সহযোগিতায় শিক্ষার্থীরা নির্ধারিত সময়ের মধ্যেই কেন্দ্রে পৌঁছে পরীক্ষায় অংশগ্রহণ করতে সক্ষম হয়েছেন।
বোর্ডের মতে, ১২ লাখের বেশি পরীক্ষার্থীর প্রস্তুতির বিষয়টি বিবেচনায় নিয়ে বারবার পরীক্ষা স্থগিত করা হলে শিক্ষার্থীদের শিক্ষাজীবন, ফলাফল প্রকাশ, বিশ্ববিদ্যালয় ও অন্যান্য উচ্চশিক্ষা প্রতিষ্ঠানে ভর্তি কার্যক্রমসহ সামগ্রিক শিক্ষা ক্যালেন্ডার ব্যাহত হওয়ার ঝুঁকি তৈরি হতে পারে। পাশাপাশি অভিন্ন প্রশ্নপত্র ব্যবস্থার কারণে একটি বোর্ডের পরিস্থিতির জন্য দেশের সব বোর্ডের পরীক্ষা স্থগিত রাখাও বাস্তবসম্মত নয়।
তবে কোনো এলাকায় পরিস্থিতির আরও অবনতি হলে পরীক্ষার্থীদের জীবন ও নিরাপত্তাকে সর্বোচ্চ অগ্রাধিকার দিয়ে প্রয়োজনীয় সিদ্ধান্ত গ্রহণ করা হবে বলে বিজ্ঞপ্তিতে আশ্বাস দেওয়া হয়েছে।
এদিকে শিক্ষার্থী ও অভিভাবকদের সরকারি নির্দেশনা অনুসরণের আহ্বান জানিয়েছে শিক্ষা বোর্ড। বিরূপ আবহাওয়ার মধ্যে পরীক্ষাকেন্দ্রে যাওয়ার ক্ষেত্রে পর্যাপ্ত সময় হাতে রেখে সতর্কতার সঙ্গে রওনা হওয়ার পরামর্শ দেওয়া হয়েছে। একই সঙ্গে সুষ্ঠু, শান্তিপূর্ণ ও নির্বিঘ্নভাবে পরীক্ষা সম্পন্ন করতে সংশ্লিষ্ট সব কর্তৃপক্ষ সমন্বিতভাবে দায়িত্ব পালন করছে বলেও বিজ্ঞপ্তিতে উল্লেখ করা হয়েছে।