বৃহস্পতিবার, ১৬ এপ্রিল ২০২৬, ০৩:০৯ অপরাহ্ন
দেশের বিভিন্ন প্রান্ত থেকে ছাত্র ও সাধারণ মানুষ রাজধানীর কেন্দ্রীয় শহীদ মিনারে ‘মার্চ ফর ইউনিটি’ কর্মসূচিতে যোগ দিতে ভিড় জমাচ্ছেন। আজ মঙ্গলবার ভোর থেকেই তাঁরা শহীদ মিনারের দিকে যাত্রা শুরু করেন।
জাতীয় নাগরিক কমিটির সদস্য এবং ‘মার্চ ফর ইউনিটি’-এর সমাবেশের আয়োজক মোল্লা ফারুক এহসান গণমাধ্যমকে বলেন, ‘আজকের সমাবেশ সফল হবে বলে আশা করছি। মানুষের মধ্যে ব্যাপক আগ্রহ দেখা যাচ্ছে।’ তাঁর মতে, দুপুর পর্যন্ত প্রায় এক হাজার বাস রাজধানীতে পৌঁছেছে। বাসগুলো পুরাতন বাণিজ্য মেলার মাঠে রাখা হয়েছে বলে তিনি জানান। এদিকে, বাগেরহাটের মোল্লাহাট উপজেলায় বৈষম্যবিরোধী ছাত্র আন্দোলনের একটি বাসে হামলার ঘটনা ঘটেছে বলে মোল্লা ফারুক এহসান জানান। তিনি এই ঘটনার তীব্র নিন্দা করেন। ঢাকার কেন্দ্রীয় খেলার মাঠেও বেশ কয়েকটি বাস দেখা গেছে।
সমাবেশ থেকে দ্রুত একটি ঘোষণাপত্র প্রকাশ, সংস্কার কার্যক্রম দ্রুত বাস্তবায়ন এবং অপরাধীদের বিচারসহ নানা দাবি জানানো হবে বলে আয়োজকদের পক্ষ থেকে জানানো হয়েছে।
সমাবেশ সূত্রে আরও জানা গেছে, শহীদ মিনারে আজ ভোর থেকেই মঞ্চ তৈরির কাজ শুরু হয়। দেশের বিভিন্ন জেলার শিক্ষার্থীরা রাতেই ঢাকার উদ্দেশ্যে রওনা দিয়েছেন।
বৈষম্যবিরোধী ছাত্র আন্দোলন এবং জাতীয় নাগরিক কমিটির ‘জুলাই বিপ্লবের ঘোষণাপত্র’ নিয়ে গত দুই দিন ধরে রাজনৈতিক অঙ্গনে নানা আলোচনা চলছে। গতকাল সোমবার রাত প্রায় পৌনে দুইটার দিকে রাজধানীর বাংলামোটরে তাঁদের কার্যালয়ে সংবাদ সম্মেলন করে বৈষম্যবিরোধী ছাত্র আন্দোলন জানায়, আজ দুপুর তিনটায় শহীদ মিনারে ‘মার্চ ফর ইউনিটি’ কর্মসূচি পালন করা হবে।
এর আগে গত রাত সোয়া ৯টার দিকে রাষ্ট্রীয় অতিথি ভবন যমুনার সামনে অন্তর্বর্তীকালীন সরকারের প্রধান উপদেষ্টার প্রেস উইং একটি জরুরি ব্রিফিংয়ে জানায়, জাতীয় ঐকমত্যের ভিত্তিতে জুলাই গণ-অভ্যুত্থানের একটি ঘোষণাপত্র তৈরির উদ্যোগ নেওয়া হয়েছে। বৈষম্যবিরোধী ছাত্র আন্দোলন এবং অন্য অংশগ্রহণকারী রাজনৈতিক দল ও সংগঠনগুলোর মতামতের ভিত্তিতে এই ঘোষণাপত্রটি চূড়ান্ত করা হবে।
গত রোববার আনুষ্ঠানিক সংবাদ সম্মেলনে বৈষম্যবিরোধী ছাত্র আন্দোলন জানিয়েছিল, ৩১ ডিসেম্বর কেন্দ্রীয় শহীদ মিনারে ‘জুলাই বিপ্লবের ঘোষণাপত্র’ প্রকাশ করা হবে। এরপর গতকাল সন্ধ্যায় জানানো হয়, ঘোষণাপত্র পাঠের আগে শহীদ মিনারে ‘ফ্যাসিবাদী জমানায় ফ্যাসিবাদী দল আওয়ামী লীগ ও তাদের সহযোগীদের দ্বারা সংঘটিত নির্যাতন-নিপীড়ন, গুম-খুন-ধর্ষণ, দুর্নীতি ও লুটপাট এবং জুলাই গণহত্যা’ শীর্ষক একটি তথ্যচিত্র প্রদর্শিত হবে।
সংবাদ সম্মেলনে আরও জানানো হয় যে, ঘোষণাপত্রের খসড়া ইতোমধ্যে বিভিন্ন রাজনৈতিক দলের কাছে পাঠানো হয়েছে। তাঁদের মতামতের ভিত্তিতে এই খসড়া সংশোধন, পরিমার্জন এবং পরিবর্ধন করা হবে।