রবিবার, ১৪ জুন ২০২৬, ০৪:২৩ অপরাহ্ন
নোয়াখালীর হাতিয়া উপজেলায় ১২ বছর বয়সী এক কিশোরীকে ধর্ষণের অভিযোগ উঠেছে জাহাজমারা পুলিশ তদন্ত কেন্দ্রের ইনচার্জ (পুলিশ পরিদর্শক) খোরশেদ আলমের বিরুদ্ধে। অভিযোগ প্রকাশ্যে আসার পর তাকে দায়িত্ব থেকে সরিয়ে নোয়াখালী পুলিশ লাইন্সে সংযুক্ত করা হয়েছে। ঘটনাটি এলাকায় ব্যাপক আলোচনার জন্ম দিয়েছে।
শনিবার (১৩ জুন) রাতে বিষয়টি নিশ্চিত করেন হাতিয়া থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) মোহাম্মদ কবির হোসেন।
ভুক্তভোগী কিশোরীর পরিবার ও তার দেওয়া জবানবন্দি থেকে জানা যায়, মেয়েটির মা ও ভাই দীর্ঘদিন ধরে জাহাজমারা পুলিশ তদন্ত কেন্দ্রের মেসে রান্নার কাজ করতেন। সেই সুবাদে কিশোরীরও নিয়মিত সেখানে যাতায়াত ছিল।
অভিযোগে বলা হয়েছে, দায়িত্ব গ্রহণের পর থেকেই পুলিশ পরিদর্শক খোরশেদ আলম বিভিন্ন অজুহাতে মেয়েটিকে তার সরকারি বাসভবনে ডেকে নিতেন। সেখানে ভয়ভীতি প্রদর্শন করে একাধিকবার ধর্ষণ করা হয়েছে বলে অভিযোগ করা হয়েছে।
পরিবারের দাবি, ঘটনাগুলো কাউকে জানালে ক্ষতির আশঙ্কা দেখিয়ে মেয়েটিকে নিয়মিত হুমকি দেওয়া হতো। পাশাপাশি তাকে বিভিন্ন সময় অর্থের প্রলোভনও দেখানো হয়েছে। পরিবারের নিরাপত্তার কথা বিবেচনা করে এতদিন বিষয়টি প্রকাশ করা হয়নি বলেও অভিযোগে উল্লেখ করা হয়েছে।
স্থানীয়দের ভাষ্য, এ ঘটনায় এলাকায় তীব্র প্রতিক্রিয়া সৃষ্টি হয়েছে। তারা ঘটনার নিরপেক্ষ ও সুষ্ঠু তদন্তের দাবি জানিয়েছেন। পাশাপাশি অভিযোগ প্রমাণিত হলে সংশ্লিষ্ট কর্মকর্তার বিরুদ্ধে কঠোর আইনগত ব্যবস্থা গ্রহণের আহ্বান জানিয়েছেন।
তবে অভিযোগ অস্বীকার করেছেন পুলিশ পরিদর্শক খোরশেদ আলম। তিনি বলেন, তার বিরুদ্ধে আনা অভিযোগ সম্পূর্ণ ভিত্তিহীন ও উদ্দেশ্যপ্রণোদিত। জাহাজমারায় কর্মরত এক এএসআইয়ের অনিয়মের কারণে তাকে অন্যত্র বদলি করা হয়েছিল। ওই ঘটনায় ক্ষুব্ধ হয়ে সংশ্লিষ্ট ব্যক্তি তার বিরুদ্ধে অপপ্রচার চালাচ্ছেন বলে দাবি করেন তিনি।
খোরশেদ আলম আরও বলেন, অভিযোগকারী কিশোরী ওই এএসআইয়ের বাসায় কাজ করত। ফলে পরিকল্পিতভাবে তাকে জড়িয়ে মিথ্যা অভিযোগ আনা হয়েছে বলে তিনি মনে করেন। সুষ্ঠু তদন্তের মাধ্যমে প্রকৃত ঘটনা সামনে আসবে বলেও মন্তব্য করেন তিনি।
এ বিষয়ে হাতিয়া থানার ওসি মোহাম্মদ কবির হোসেন বলেন, অভিযোগ পাওয়ার সঙ্গে সঙ্গেই সংশ্লিষ্ট কর্মকর্তাকে দায়িত্ব থেকে প্রত্যাহার করে পুলিশ লাইন্সে সংযুক্ত করা হয়েছে। বিষয়টিকে অত্যন্ত সংবেদনশীল হিসেবে বিবেচনা করা হচ্ছে। অভিযোগের সত্যতা যাচাই করে প্রয়োজনীয় আইনগত ব্যবস্থা গ্রহণ করা হবে।