বুধবার, ২২ এপ্রিল ২০২৬, ০৫:৩৮ পূর্বাহ্ন
অনলাইন ডেস্ক ,
শহীদ আবরার ফাহাদের ষষ্ঠ শাহাদাত বার্ষিকী উপলক্ষে উদ্বোধন হতে যাচ্ছে ঐতিহাসিক “আগ্রাসনবিরোধী ৮ স্তম্ভ”। এ মহতী উদ্যোগের নেতৃত্বে থাকছেন ৮ স্তম্ভের স্বপ্নদ্রষ্টা, আবরার ফাহাদ স্মৃতি সংসদের আহ্বায়ক ও জাতীয় নাগরিক পার্টির সদস্য সচিব আখতার হোসেন।
মঙ্গলবার বিকেল ৩টায় ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের পলাশী চত্বরে আবরার ফাহাদ স্মৃতি সংসদের আয়োজনে অনুষ্ঠিত স্মরণসভায় এই স্মারক স্থাপনার উদ্বোধন করবেন শহীদ আবরারের বাবা বরকত উল্লাহ।
আবরারের প্রথম শাহাদাত বার্ষিকীতে ছাত্র অধিকার পরিষদের উদ্যোগে প্রথমবারের মতো নির্মাণ করা হয়েছিল এই ৮ স্তম্ভ, যার নেতৃত্বে ছিলেন আখতার হোসেন। কিন্তু উদ্বোধনের ২৪ ঘণ্টার মধ্যেই ঢাকা দক্ষিণ সিটি করপোরেশনের নির্দেশে সেটি গুঁড়িয়ে দেওয়া হয়। এরপর থেকেই স্মৃতিসৌধ নির্মাণের নেতৃত্বের কারণে আখতার হোসেন বারবার হামলা ও নির্যাতনের মুখে পড়েন। স্তম্ভের ফলকে লেখা ছিল— “অনন্ত মহাকালে মোর যাত্রা, অসীম মহাকাশের অন্তে”— যে উক্তিটি আবরার নিজ ফেসবুক প্রোফাইলেও ব্যবহার করেছিলেন।
৮ স্তম্ভের প্রতিটি দিকেই নিহিত আছে বাংলাদেশের মুক্তি ও মর্যাদার স্বপ্ন— সার্বভৌমত্ব, গণতন্ত্র, গণপ্রতিরক্ষা, সাম্প্রদায়িক সম্প্রীতি, অর্থনৈতিক স্বনির্ভরতা, দেশীয় শিল্প- কৃষি ও নদী-বন-বন্দর রক্ষা, সাংস্কৃতিক স্বাধীনতা এবং মানবিক মর্যাদা।
আখতার হোসেন জানান, ভারতীয় আগ্রাসনের বিরুদ্ধে স্পষ্ট অবস্থান নেওয়ার অপরাধেই ছয় বছর আগে বুয়েটের ছাত্র আবরার ফাহাদকে ছাত্রলীগের সন্ত্রাসীরা নির্মমভাবে হত্যা করে। এই স্মারক তাই শুধু স্মৃতিচিহ্ন নয়, এটি আগ্রাসনবিরোধী এক প্রতীকে রূপ নিচ্ছে।
তিনি আরও বলেন, “এই আটটি স্তম্ভ আসলে আমাদের জাতীয় চেতনার আট দিক। আমরা যদি এগুলো বাস্তবায়ন করতে পারি, তবে আগ্রাসনমুক্ত, স্বাবলম্বী ও মর্যাদাবান বাংলাদেশ গড়া সম্ভব।”
২০১৯ সালের ৬ অক্টোবর রাতে বুয়েটের শেরেবাংলা হলের কক্ষে ডেকে নিয়ে ছাত্রলীগের নেতাকর্মীরা আবরার ফাহাদকে নির্যাতন করে হত্যা করে। সেই নির্মম হত্যাকাণ্ডের ছয় বছর পর আজও তাঁর স্বপ্নই আমাদের প্রেরণা হয়ে আছে।