বুধবার, ২২ এপ্রিল ২০২৬, ১১:২৫ পূর্বাহ্ন
অনলাইন ডেস্ক,
গাজায় চলমান হত্যাযজ্ঞ ও ইসরায়েলি আগ্রাসনের বিরুদ্ধে তীব্র ক্ষোভ প্রকাশ এবং আন্তর্জাতিক মানবিক উদ্যোগ ‘গ্লোবাল সুমুদ ফ্লোটিলা’র প্রতি সংহতি জানিয়ে রাজধানীর শাহবাগে মানববন্ধন অনুষ্ঠিত হয়েছে। বৃহস্পতিবার বিকেলে Community for Freedom and Justice ব্যানারে আয়োজিত এ কর্মসূচিতে অংশ নেন বিভিন্ন শ্রেণি-পেশার মানুষ।
মানববন্ধনে বক্তারা ইসরায়েলের হামলা ও অবরোধকে “নির্মম গণহত্যা” আখ্যা দিয়ে আন্তর্জাতিক সম্প্রদায়কে নীরবতা ভেঙে কার্যকর পদক্ষেপ নেওয়ার আহ্বান জানান।
এ সময় স্লোগানে মুখর হয়ে ওঠে শাহবাগ এলাকা—
“From the river to the sea, Palestine will be free”,
“লাব্বাইক ইয়া আকসা”,
“ইন্তিফাদা জিন্দাবাদ”,
“জায়োনবাদ নিপাত যাক, ফিলিস্তিন মুক্তিপাক”,
“One two three four, Zionism no more” ইত্যাদি ধ্বনিতে আকাশ-বাতাস মুখরিত হয়।
বক্তারা বলেন, ফিলিস্তিনের মানুষ দীর্ঘদিন ধরে অন্যায়ের শিকার। মুসলিম হিসেবে তাদের বেদনা বাংলাদেশের মানুষও অনুভব করে। স্বাধীনতার পর থেকেই বাংলাদেশ ফিলিস্তিনের পাশে থেকেছে এবং থাকবে।
এর আগে বুধবার মধ্যরাতে ইসরায়েলি নৌ-কমান্ডোরা ‘গ্লোবাল সুমুদ ফ্লোটিলা’র ৪৪টি জাহাজের মধ্যে প্রায় ৪০টিতে জোরপূর্বক প্রবেশ করে জিপিএস সিগন্যাল বন্ধ করে শত শত মানবাধিকার কর্মীকে আটক করে নিয়ে যায়। এই বর্বরতার তীব্র নিন্দা জানায় মানববন্ধনে অংশগ্রহণকারীরা।
রয়টার্স যাচাই করা ভিডিওতে দেখা যায়, সৈন্যবেষ্টিত জাহাজের ডেকে বসে আছেন সুইডিশ কর্মী গ্রেটা থুনবার্গ। আটককৃতদের মধ্যে রয়েছেন দক্ষিণ আফ্রিকার প্রয়াত নেতা নেলসন ম্যান্ডেলার নাতি মান্ডলা ম্যান্ডেলা।
এ উদ্যোগে ৫৭ দেশের ৫০০ মানবাধিকার কর্মী, চিকিৎসক, শিল্পী, আইনজীবী, ধর্মীয় নেতা ও নাবিক অংশ নেন। তারা খাদ্য ও ওষুধভর্তি জাহাজ নিয়ে গাজার উদ্দেশে যাত্রা করেছিলেন, যা ছিল মানবতার পক্ষে সাহসী অবস্থান।
মানববন্ধনে বক্তারা বলেন, “ইসরায়েলি আগ্রাসন এখন মানব ইতিহাসের এক কালো অধ্যায়।”
রাজনৈতিক কর্মী ফারজানা লিপি বলেন, “ইসরায়েল সাত দশক ধরে ফিলিস্তিনিদের রক্ত ঝরাচ্ছে। গাজা আজ ধ্বংসস্তূপে পরিণত। মুসলিম উম্মাহকে এখনই ঐক্যবদ্ধ হতে হবে।”
ছাত্রনেতা বিএম কাউসার বলেন, “মানবাধিকার লঙ্ঘনের এই ধারাবাহিকতা চলতে থাকলে পৃথিবীতে কোনোদিন শান্তি প্রতিষ্ঠিত হবে না।”
এক্টিভিস্ট নাহিয়ান বলেন, “গাজা ও রাফায় ইসরায়েলের হামলা নজিরবিহীন। জাতিসংঘ, পশ্চিমা বিশ্ব, ওআইসি ও আরব নেতাদের এখনই পদক্ষেপ নিতে হবে।”
হাফিজ উল্লাহ বলেন, “ইসরায়েলের আগ্রাসন রুখতে মুসলিম বিশ্বকে একজোট হতে হবে। ইসরায়েলি পণ্য বয়কট ও আন্তর্জাতিক চাপই হতে পারে প্রতিরোধের পথ।”
সাবিহা জাকির বলেন, “গাজায় চলছে নারকীয় গণহত্যা, অথচ বিশ্ব বিবেক নীরব। এই নীরবতা ভাঙতে হবে।”
প্ল্যাটফর্ম সংগঠক নিজাম উদ্দীন বলেন, “ফিলিস্তিনের গণহত্যা এখন শুধু সংখ্যায় সীমাবদ্ধ হয়ে গেছে। প্রতিদিন নিহতের সংখ্যা জানায় গণমাধ্যম, কিন্তু বিশ্ব নীরব দর্শক।”
বক্তারা আরও বলেন, ফিলিস্তিনের পাশে দাঁড়াতে ধর্মবিশ্বাস নয়, প্রয়োজন মানবতার। যাদের মধ্যে সামান্যও ন্যায়বোধ আছে, তারা নিশ্চয়ই গাজার গণহত্যার বিরুদ্ধে আওয়াজ তুলবে।