শুক্রবার, ২৪ এপ্রিল ২০২৬, ০৪:২৫ অপরাহ্ন
বিশ্বকাপে ৩২ দল! টেস্টেও আসছে বিপ্লবী পরিবর্তন
অনলাইন ডেস্ক
আন্তর্জাতিক ক্রিকেট কাউন্সিল (আইসিসি) চলমান বার্ষিক সাধারণ সভায় (এজিএম) পুরুষদের টি-টোয়েন্টি বিশ্বকাপ ৩২ দলের বিশাল ফরম্যাটে রূপান্তরের ভাবনা তুলেছে। সিঙ্গাপুরে আয়োজিত এই বৈঠক চলবে ২০ জুলাই পর্যন্ত।
বিশ্বব্যাপী ক্রিকেট অনুরাগীদের নজর কেড়েছে ইতালির ঐতিহাসিকভাবে ২০২৬ সালের টি-টোয়েন্টি বিশ্বকাপে কোয়ালিফাই করার ঘটনা। আইসিসির অভিমত, ঐতিহ্যবাহী দেশগুলো ছাড়াও এখন নতুন নতুন দেশ ক্রিকেট দুনিয়ায় জায়গা করে নিচ্ছে—আর সেখানেই তারা দেখছে ভবিষ্যতের বিস্তার।
এই বিষয়টি গভীরভাবে যাচাই-বাছাই করতে গঠন করা হয়েছে ছয় সদস্যের একটি ‘ওয়ার্কিং গ্রুপ’, যার নেতৃত্বে আছেন নিউজিল্যান্ডের সাবেক তারকা রজার টোউজ। এই কমিটিতে ভারত, অস্ট্রেলিয়া ও ইংল্যান্ডের প্রতিনিধিরাও রয়েছেন।
২০২৪ সালের টি-টোয়েন্টি বিশ্বকাপে ২০টি দেশ অংশ নেয়, যা হয়েছিল ওয়েস্ট ইন্ডিজ ও যুক্তরাষ্ট্রে। একই কাঠামো থাকছে পরবর্তী আসরেও, তবে এরপরই আসতে পারে ৩২ দলের নতুন মহাযজ্ঞ।
ওয়ানডে বিশ্বকাপ: ১৪ দলেই আপাতত স্থিরতা
অন্যদিকে, ২০২৭ সালের ওয়ানডে বিশ্বকাপে অংশগ্রহণকারী দলের সংখ্যা ১৪টি থাকছে, যা অপরিবর্তিত রাখার সিদ্ধান্ত নিয়েছে আইসিসি। আগের দুটি বিশ্বকাপে ছিল মাত্র ১০টি দল। যদিও এবার দলের সংখ্যা বাড়লেও অতিরিক্ত সম্প্রসারণের পথে হাঁটছে না সংস্থাটি।
টেস্ট ক্রিকেট: আসছে স্তরভিত্তিক চ্যাম্পিয়নশিপ মডেল
সভায় টেস্ট ক্রিকেট নিয়ে আলোচনাও ছিল বিশেষ গুরুত্বপূর্ণ। আইসিসি এবার টেস্ট ফরম্যাটে দুই স্তরের কাঠামোর প্রস্তাব তুলেছে—যেখানে থাকবে প্রমোশন-রিলিগেশন পদ্ধতি। অর্থাৎ ভালো পারফরম্যান্স করলে দল উঠবে, খারাপ করলে নেমে যাবে।
আইসিসি চেয়ারম্যান জয় শাহের তত্ত্বাবধানে এই কাঠামো নিয়ে আলোচনা নতুন মাত্রা পেয়েছে। গত বছর ভারতের বিপক্ষে অস্ট্রেলিয়ার ঐতিহাসিক বর্ডার-গাভাস্কার সিরিজে ৮.৩৭ লাখ দর্শকের উপস্থিতি টেস্ট ক্রিকেটের প্রাণ ফেরানোর অন্যতম ইঙ্গিত।
প্রথম স্তরে যে সাত দল:
অস্ট্রেলিয়া, ভারত, ইংল্যান্ড, দক্ষিণ আফ্রিকা, নিউজিল্যান্ড, পাকিস্তান ও শ্রীলঙ্কা।
দ্বিতীয় স্তরে সম্ভাব্য দল:
বাংলাদেশ, ওয়েস্ট ইন্ডিজ, আফগানিস্তান, আয়ারল্যান্ড ও জিম্বাবুয়ে।
এই কাঠামোতে রাজস্ব ভাগাভাগি কেমন হবে, ছোট দলগুলোর উন্নয়ন কীভাবে নিশ্চিত হবে—তা নিয়েও চলেছে দীর্ঘ ও গভীর আলোচনা।