বুধবার, ০৩ জুন ২০২৬, ০৭:০১ পূর্বাহ্ন
ঘুমালেই কি ভেঙে যায় অজু? জেনে নিন সত্যটা!
অনলাইন ডেস্ক
পবিত্রতা অর্জনের এক গুরুত্বপূর্ণ মাধ্যম অজু। শারীরিক পবিত্রতার ক্ষেত্রে গোসলের পরই এর স্থান। পবিত্র কোরআনে মহান আল্লাহ বলেন, তিনি পবিত্রতা অর্জনকারীদের ভালোবাসেন (সুরা তাওবা, আয়াত: ১০৮)। হাদিসে বারবার এসেছে অজুর ফজিলত ও গুরুত্ব।
অজু প্রসঙ্গে আবু হুরায়রা (রা.) বলেন, রাসুলুল্লাহ (সা.) ইরশাদ করেছেন—যখন কোনো মুসলিম বা মুমিন বান্দা অজু করে এবং তার মুখ ধোয়, তখন পানির ফোঁটার সঙ্গে তার চেহারার পাপসমূহ ধুয়ে যায়, যা সে চোখ দিয়ে দেখেছিল। সে যখন হাত ধোয়, তখন হাত দিয়ে করা পাপও পানি বা তার শেষ ফোঁটার সঙ্গে বের হয়ে যায়। শেষ পর্যন্ত সে তার সব গুনাহ থেকে পাক হয়ে যায়। (তিরমিজি: ২, মুসলিম: ৪৭০)
অজুর সময় ধীরে-সুস্থে করার ব্যাপারে রয়েছে কঠোর সতর্কতা। আব্দুল্লাহ ইবনে ওমর (রা.) বলেন, একবার সফরে রাসুল (সা.) পেছনে রয়ে গেলেন। আমরা সালাতে দেরি করে ফেলি এবং দ্রুত অজু করছিলাম—পায়ের গোড়ালি ঠিকভাবে ধোয়ার আগেই। তখন রাসুল (সা.) উচ্চস্বরে বলেন, “পায়ের গোড়ালির শুষ্কতার জন্য জাহান্নামের শাস্তি রয়েছে।” তিনি তা দুই বা তিনবার বলেন। (বুখারি: ৫৮)
তবে অনেকেই প্রশ্ন করেন—অজু অবস্থায় ঘুমিয়ে পড়লে অজু ভেঙে যায় কি না?
গণমাধ্যম জানায়, শায়খ আহমাদুল্লাহসহ অধিকাংশ আলেমের মতে, যদি কেউ বসে বসে ঝিমায় বা ঘুমের ভাব আসে তবে অজু ভাঙবে না। কিন্তু যদি হেলান দিয়ে বা শুয়ে ঘুমিয়ে পড়ে, তাহলে অজু নষ্ট হয়ে যাবে।
এই বিষয়ে আনাস (রা.)-এর একটি হাদিস থেকে জানা যায়, একবার এশার জামাত দাঁড়িয়ে গিয়েছিল, তখন এক ব্যক্তি রাসুল (সা.)-কে বললেন, তার প্রয়োজন রয়েছে। নবীজি তার সঙ্গে এতক্ষণ আলাপ করলেন যে অনেকে বসে বসে ঘুমিয়ে পড়ল। এরপর সবাই উঠে সালাত আদায় করলেন। (মুসলিম: ৭২২)
এইসব দলিল-প্রমাণে বোঝা যায়, বসে থাকা অবস্থায় সামান্য ঝিমুনি বা হালকা ঘুমে অজু ভঙ্গ হয় না। তবে সাবধানতার সঙ্গে পবিত্রতা রক্ষা করাই উত্তম।