বৃহস্পতিবার, ২৫ জুন ২০২৬, ১১:৪০ পূর্বাহ্ন
সাত কলেজে দ্বিতীয়বার ভর্তির সুযোগ, স্বপ্ন ছোঁয়ার সময় এখন!
অনলাইন ডেস্ক
রাজধানীর ঐতিহ্যবাহী সাতটি সরকারি কলেজে ২০২৪–২৫ শিক্ষাবর্ষে ভর্তির আবেদন প্রক্রিয়া খুব শিগগিরই শুরু হচ্ছে। এবার শিক্ষার্থীদের জন্য বড় সুখবর—সেকেন্ড টাইম বা দ্বিতীয়বার ভর্তি পরীক্ষায় অংশ নেওয়ার সুযোগ রাখা হয়েছে। সংশ্লিষ্টদের ভাষ্যমতে, ভর্তি প্রক্রিয়ার যাবতীয় প্রস্তুতি এখন শেষ পর্যায়ে।
ঢাকা কলেজ, তিতুমীর কলেজ, ইডেন মহিলা কলেজ, বেগম বদরুন্নেছা সরকারি মহিলা কলেজ, সরকারি বাঙলা কলেজ, শহীদ সোহরাওয়ার্দী কলেজ এবং কবি নজরুল সরকারি কলেজ—এই সাতটি ঐতিহ্যবাহী কলেজে প্রতিবছর ভর্তি পরীক্ষার মাধ্যমে প্রায় চল্লিশ হাজার শিক্ষার্থী ভর্তি হয়ে থাকেন।
বিশ্বস্ত সূত্রে জানা গেছে, এই সাত কলেজকে কেন্দ্র করে ‘ঢাকা সেন্ট্রাল ইউনিভার্সিটি’ নামে একটি নতুন পাবলিক বিশ্ববিদ্যালয় প্রতিষ্ঠার পরিকল্পনা অনেক দূর এগিয়েছে। তবে এখনো প্রশাসনিক কাঠামোর চূড়ান্ত রূপরেখা নির্ধারিত না হওয়ায় ভর্তি পরীক্ষার সময়সূচি ঘোষণায় কিছুটা বিলম্ব হচ্ছে। তবুও শিক্ষার্থীদের ভর্তির সুযোগ যাতে বিন্দুমাত্র ক্ষতিগ্রস্ত না হয়, সেদিকে সর্বোচ্চ মনোযোগ দিচ্ছে কর্তৃপক্ষ।
এ বিষয়ে সাত কলেজের প্রশাসক ও ঢাকা কলেজের অধ্যক্ষ অধ্যাপক একেএম ইলিয়াস গণমাধ্যমকে জানান, শিক্ষার্থীদের যেন কোনো ধরনের ভোগান্তি না হয়, সে বিষয়ে আমরা শুরু থেকেই সতর্ক। খুব শিগগিরই ভর্তি আবেদন শুরু হবে। এবারের ভর্তি প্রক্রিয়ায় দ্বিতীয়বার পরীক্ষার সুযোগ অন্তর্ভুক্ত করা হয়েছে, যা বহু শিক্ষার্থীর বহুদিনের দাবি ছিল।
তিনি আরও জানান, নতুন বিশ্ববিদ্যালয়ের বিষয়টি সরকারের উচ্চপর্যায়ের বিবেচনায় থাকলেও একাডেমিক বর্ষ ও ভর্তি কার্যক্রম যথাসময়ে শুরু করতে আমরা পুরোপুরি প্রস্তুত।
ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের অধীনে যারা ইতোমধ্যে আবেদন করেছেন, তাদের বিষয়ে জানতে চাইলে তিনি বলেন, আগের সব আবেদনই সম্পূর্ণ বৈধ হিসেবে গণ্য হবে। নতুন করে কোনো আবেদন করতে হবে না। আমরা সেই আবেদনগুলো ডাটাবেজে সুরক্ষিত রেখেছি এবং সেগুলোর ভিত্তিতেই ভর্তি কার্যক্রম এগিয়ে যাবে।
তিনি বলেন, শিক্ষার্থীদের যেন দ্বিতীয়বার কোনো আবেদন করতে না হয় বা বিভ্রান্তিতে না পড়েন, সে বিষয়ে আমরা অত্যন্ত গুরুত্ব দিয়ে কাজ করছি। প্রয়োজন হলে কারিগরি সমন্বয় আমরা অভ্যন্তরীণভাবে করব, যাতে শিক্ষার্থীদের অতিরিক্ত কষ্ট বা অর্থনৈতিক চাপ না পড়ে।
তিনি আরও আশ্বস্ত করে বলেন, নতুন বিশ্ববিদ্যালয়ের উদ্যোগ চললেও শিক্ষার্থীদের সুবিধা একচুলও কমবে না। বরং আমরা আরও আধুনিক, প্রযুক্তিনির্ভর ও স্বচ্ছ একটি ভর্তি প্রক্রিয়া নিশ্চিত করতে কাজ করছি, যাতে এই রূপান্তরের সূচনায় শিক্ষার্থীরা একটি ইতিবাচক অভিজ্ঞতা পান।
তবে ভর্তির নতুন কাঠামোর আলোকে আসন সংখ্যায় কিছুটা পরিবর্তন আসতে পারে বলে আভাস পাওয়া গেছে। বিষয়টি এখনো চূড়ান্ত নয়। কর্তৃপক্ষ জানিয়েছে, সার্বিক পরিস্থিতি বিবেচনায় আসন সংখ্যা নির্ধারণ করা হবে।