বৃহস্পতিবার, ২৫ জুন ২০২৬, ১১:৫৯ পূর্বাহ্ন
বাংলাদেশ ছেড়েছেন বহু আগেই, কিন্তু অভিনয় কখনও ছাড়েননি আনিসুর রহমান মিলন
অনলাইন ডেস্ক
বাংলাদেশের রূপালি পর্দা থেকে অনেক দূরে থাকলেও অভিনয়ের প্রতি ভালোবাসা যেন রক্তে মিশে আছে আনিসুর রহমান মিলনের। ঢালিউডে তুমুল জনপ্রিয়তা অর্জনের পর এখন তিনি নিজের জায়গা করে নিয়েছেন বহুজাতিক বিনোদনের তীর্থভূমি হলিউডে। একসময় যেখানে কাজের ফাঁকে যুক্তরাষ্ট্রে ঘুরে যেতেন, এখন সেখানেই তাঁর স্থায়ী নিবাস, জীবন আর ক্যারিয়ারের নতুন অধ্যায়।
শুধু বিদেশে থাকা নয়, এখন তিনি যুক্তরাষ্ট্রের প্রভাবশালী অভিনয়শিল্পী সংগঠন ‘স্ক্রিন অ্যাক্টরস গিল্ড–আমেরিকান ফেডারেশন অব টেলিভিশন অ্যান্ড রেডিও আর্টিস্টস’ বা সেগ-আফট্রার সদস্য। আর এই সদস্যপদই মিলনের জন্য খুলে দিয়েছে হলিউডের দরজা। পার্শ্বচরিত্রের অভিনেতা হিসেবে তালিকাভুক্ত হয়ে তিনি অভিনয় করেছেন ‘এম আর-৯: ডু অর ডাই’ এবং সম্প্রতি মুক্তিপ্রাপ্ত সিনেমা ‘বনইয়ার্ড’-এ। এই ‘বনইয়ার্ড’ নির্মাণ করেছেন বাংলাদেশি বংশোদ্ভূত মার্কিন নির্মাতা আসিফ আকবার এবং সিনেমায় অভিনয় করেছেন দুবারের অস্কারজয়ী মেল গিবসন।
মিলন জানান, হলিউডে অভিনয় করা যেন একটি দীর্ঘ ও কঠিন যুদ্ধ। এখানে ‘এক্সট্রা’ চরিত্র পর্যন্ত পেতে হলে পেরোতে হয় কঠিন নিয়মের গেট। কিন্তু এই যাত্রার পুরস্কারও বেশ চমকপ্রদ—প্রতি মাসে সিনেমার আয়ের উপর ভিত্তি করে রয়্যালটি পান অভিনেতারা। আর সেই নিয়মেই এখন মাসে মাসে ডলার পাচ্ছেন মিলন!
তবে এই সফলতা অর্জনের পথ মোটেও সহজ ছিল না। মিলন জানান, যুক্তরাষ্ট্রে দীর্ঘদিন থাকার অভিজ্ঞতা, আগের অভিনয়ের ভিত্তি এবং ইউনিয়নের কঠিন নিয়ম মেনে চলার কারণেই তিনি আজ এই জায়গায় এসেছেন। এখন তিনি যুক্তরাষ্ট্রেই একটি কলেজে ফিল্ম নিয়ে পড়াশোনা করছেন, একই সঙ্গে অভিনয় বিষয়ক কর্মশালাও করাচ্ছেন।
ব্যক্তিজীবনেও এসেছে বড় পরিবর্তন। স্ত্রী পলি আহমেদের মৃত্যুর পর একমাত্র সন্তানকে সময় দিতে স্থায়ীভাবে যুক্তরাষ্ট্রে চলে আসেন মিলন। সম্প্রতি নতুন জীবনসঙ্গী হিসেবে বিয়ে করেছেন তানিয়া শারমীন শিপাকে এবং তাঁকেও যুক্তরাষ্ট্রে নেওয়ার পরিকল্পনা করছেন।
মিলনের কথায়, “দেশের ক্যামেরার সামনে দাঁড়ানোর অনুভূতি মিস করি। থিয়েটারও ভীষণভাবে টানে। তবে ছেলেকে ঘিরেই এখন জীবন আর হলিউডেই আমার পরবর্তী লড়াই।” আগামী জুলাইয়ে আসছে তাঁর নতুন হলিউড প্রজেক্ট, যদিও আপাতত এর বিস্তারিত প্রকাশে অনিচ্ছুক তিনি।