রবিবার, ২৮ জুন ২০২৬, ০১:৪৬ পূর্বাহ্ন
ইরানে আগুন, আকাশে ড্রোন—যুদ্ধ কি আসন্ন?
অনলাইন ডেস্ক
ইরানে ইসরায়েলের নজিরবিহীন হামলা ঘিরে আন্তর্জাতিক অঙ্গনে সৃষ্টি হয়েছে তীব্র প্রতিক্রিয়া। কেউ এটিকে সরাসরি ‘আন্তর্জাতিক আইন লঙ্ঘন’ আখ্যা দিয়েছেন, কেউ আবার বলছেন, এই হামলা গোটা অঞ্চলের স্থিতিশীলতাকে ভীষণভাবে নাড়িয়ে দিয়েছে। খবর গণমাধ্যমের।
সৌদি আরবের পররাষ্ট্র মন্ত্রণালয় এক বিবৃতিতে হামলার বিরুদ্ধে ‘তীব্র নিন্দা ও প্রতিবাদ’ জানিয়ে বলেছে, এই সরাসরি আগ্রাসন ইরানের সার্বভৌমত্বকে ক্ষুণ্ণ করেছে এবং এটি আন্তর্জাতিক নীতিমালার সরাসরি লঙ্ঘন।
তেহরানে চীনের দূতাবাস ঘটনাটিকে ‘অত্যন্ত জটিল ও উদ্বেগজনক পরিস্থিতি’ হিসেবে অভিহিত করে সতর্কবার্তা জারি করেছে। তারা চীনা নাগরিকদের ভিড় এড়িয়ে চলতে এবং উচ্চ নিরাপত্তা এলাকার কাছাকাছি না যেতে অনুরোধ জানিয়েছে।
যুক্তরাষ্ট্রের পররাষ্ট্রমন্ত্রী মার্কো রুবিও সাফ জানিয়ে দিয়েছেন, ইসরায়েলের এই অভিযানে যুক্তরাষ্ট্র জড়িত নয়। তার কথায়, “আমাদের প্রথম দায়িত্ব হলো মধ্যপ্রাচ্যে অবস্থানরত মার্কিন সেনাদের নিরাপত্তা নিশ্চিত করা।”
অস্ট্রেলিয়ার পররাষ্ট্রমন্ত্রী পেনি ওং এই উত্তেজনাকে অত্যন্ত বিপজ্জনক বলে উল্লেখ করে বলেন, “এখন আলোচনার মাধ্যমেই উত্তপ্ত পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণে আনতে হবে।”
নিউজিল্যান্ডের প্রধানমন্ত্রী ক্রিস্টোফার লাকসন ঘটনাটিকে “চমকে দেওয়া ও আশঙ্কাজনক” বলে অভিহিত করে বলেন, “ভুল সিদ্ধান্ত নেওয়ার ঝুঁকি এখন অনেক বেশি। ওমানে আসন্ন মার্কিন-ইরান পরমাণু আলোচনা হয়তো একটি সম্ভাব্য সমাধান দিতে পারত, কিন্তু এখন তার ভবিষ্যৎ অনিশ্চিত।”
জাতিসংঘ মহাসচিব আন্তোনিও গুতেরেস মধ্যপ্রাচ্যে যেকোনো সামরিক উত্তেজনার বিরুদ্ধে সরব হয়েছেন। তার মুখপাত্র এক বিবৃতিতে জানান, গুতেরেস দুই পক্ষকে শান্ত থাকার এবং সর্বোচ্চ সংযম প্রদর্শনের আহ্বান জানিয়েছেন।
১৩ জুন শুক্রবার ভোরে ইরানের একাধিক পারমাণবিক ও সামরিক স্থাপনায় হঠাৎ আক্রমণ চালায় ইসরায়েলি বাহিনী। এই আকস্মিক হামলায় নিহত হয়েছেন ইরানের শীর্ষ সামরিক কমান্ডার ও দুইজন জ্যেষ্ঠ পরমাণু বিজ্ঞানী।
ইরানের রাষ্ট্রীয় টেলিভিশনের বরাতে জানা যায়, তেহরানের বিপ্লবী গার্ডের সদর দপ্তর সরাসরি ক্ষতিগ্রস্ত হয়েছে। স্থানীয় সংবাদমাধ্যম জানায়, ঘটনাস্থলে ব্যাপক আগুন ও ধোঁয়া দেখা গেছে।
ইসরায়েলি সেনাবাহিনী টাইমস অব ইসরায়েলকে জানায়, ‘নেশন অব লায়ন্স’ নামের এক বিমান অভিযানে ইরানের পারমাণবিক কর্মসূচিকে লক্ষ্য করে এ হামলা চালানো হয়। তাদের দাবি, ইরান থেকে আসা তাৎক্ষণিক হুমকির প্রতিক্রিয়ায় তারা এ পদক্ষেপ নিয়েছে।
প্রধানমন্ত্রী বেনিয়ামিন নেতানিয়াহু বলেন, “ইরানের পারমাণবিক প্রকল্প, ক্ষেপণাস্ত্র ঘাঁটি এবং সেনা স্থাপনাগুলোকে লক্ষ্য করে এই সামরিক অভিযান পরিচালিত হচ্ছে। যতক্ষণ না আমাদের লক্ষ্য পূর্ণ হয়, অভিযান চলবে।”
এদিকে ইসরায়েল সরকার ‘বিশেষ জরুরি অবস্থা’ জারি করেছে। তারা বলছে, ইরান থেকে আসা সম্ভাব্য ক্ষেপণাস্ত্র ও ড্রোন হুমকি ঠেকাতে আগাম প্রতিরোধমূলক ব্যবস্থা নেওয়া হয়েছে।
ইরানি টিভি চ্যানেল প্রেস টিভি দাবি করেছে, হামলায় ‘অনেক হতাহত’ হয়েছে, যদিও সুনির্দিষ্ট সংখ্যা প্রকাশ করা হয়নি। ইসরায়েলি এক প্রতিরক্ষা কর্মকর্তার মতে, নিহতদের মধ্যে উচ্চপর্যায়ের পরমাণু বিজ্ঞানীও রয়েছেন বলে আশঙ্কা করা হচ্ছে।
যুক্তরাষ্ট্রের পররাষ্ট্রমন্ত্রী রুবিও আবারও জোর দিয়ে বলেন, “এই হামলায় যুক্তরাষ্ট্র কোনোভাবেই জড়িত নয়। তবে যদি ইরান আমাদের সেনাদের কিংবা স্বার্থকে লক্ষ্য করে হামলা করে, তার ফলাফল হবে ভয়াবহ।”
এই হামলার জবাবে ইরানও পাল্টা আঘাত হেনেছে। দ্য টাইমস অব ইসরায়েল জানায়, গত কয়েক ঘণ্টায় ইরান ১০০টিরও বেশি ড্রোন ইসরায়েলের দিকে পাঠিয়েছে। ইসরায়েলি প্রতিরক্ষা বাহিনী সেগুলো ভূপাতিত করার চেষ্টা করছে। সোশ্যাল মিডিয়ায় ছড়িয়ে পড়া ভিডিওতে ইরানি ড্রোনগুলোকে আকাশে উড়তে দেখা গেছে, গন্তব্য—ইসরায়েলের আকাশসীমা।