রবিবার, ২৮ জুন ২০২৬, ০৩:০০ পূর্বাহ্ন
ফিলিস্তিন রাষ্ট্র স্বীকৃতিতে ফ্রান্সের সাহসী কূটনৈতিক চাল!
অনলাইন ডেস্ক
ফিলিস্তিন-ইসরায়েল সংঘাতের স্থায়ী মীমাংসায় দ্বি-রাষ্ট্রভিত্তিক পথই একমাত্র সমাধান—এমন অঙ্গীকার পুনরায় তুলে ধরেছেন ফরাসি প্রেসিডেন্ট ইমানুয়েল ম্যাক্রোঁ। তিনি জোর দিয়ে জানিয়েছেন, ফ্রান্সের মধ্যপ্রাচ্য নীতি কোনো ‘দ্বিমুখী কৌশল’ নয়, বরং একটি ন্যায়ভিত্তিক ও টেকসই শান্তির লক্ষ্যে প্যারিস এখন সক্রিয়ভাবে ফিলিস্তিনকে স্বাধীন রাষ্ট্র হিসেবে স্বীকৃতি দেওয়ার বিষয়টি বিবেচনা করছে।
ইন্দোনেশিয়ায় সফরকালে এক গুরুত্বপূর্ণ বার্তায় ম্যাক্রোঁ বলেন, “শুধু রাজনৈতিক সমাধানের পথ ধরেই আমরা দীর্ঘস্থায়ী শান্তি অর্জন করতে পারি।” একই সময় তিনি ঘোষণা দেন, সৌদি আরবের সঙ্গে যৌথ উদ্যোগে নিউইয়র্কে গাজা ইস্যুতে একটি আন্তর্জাতিক সম্মেলনের আয়োজন করা হবে, যার কেন্দ্রবিন্দু হবে—ফিলিস্তিনের রাষ্ট্রীয় স্বীকৃতি ও ইসরায়েলের নিরাপত্তা এবং বৈধ অবস্থান নিশ্চিত করা।
বিশ্লেষকদের মতে, ফ্রান্সের এই অবস্থান ইসরায়েলের কাছে অস্বস্তির কারণ হতে পারে এবং পশ্চিমা মিত্রদের মধ্যে নীতিগত বিভাজন আরও তীব্রতর করতে পারে।
এর আগেও, ৯ এপ্রিল France 5 টিভিকে দেওয়া এক সাক্ষাৎকারে ম্যাক্রোঁ বলেছিলেন, “আমরা এমন এক পথে হাঁটছি, যেখানে ফিলিস্তিনকে স্বীকৃতি দেওয়ার প্রশ্ন সামনে এসেছে। আমি আশাবাদী, কয়েক মাসের মধ্যেই এটি বাস্তবায়িত হবে।” তিনি আরও জানান, “আমাদের লক্ষ্য জুন মাসে জাতিসংঘের অধীনে সৌদি আরবের সঙ্গে আয়োজিত কনফারেন্সে নেতৃত্ব প্রদান, যেখানে ফিলিস্তিনকে স্বীকৃতি দেওয়ার জন্য একটি বৈশ্বিক ঐকমত্য গড়ে তোলা হবে।”
উল্লেখ্য, জাতিসংঘের ১৯৩টি সদস্য দেশের মধ্যে ইতোমধ্যে ১৪৫টি দেশ ফিলিস্তিনকে স্বীকৃতি দিয়েছে। এগুলোর বেশিরভাগই মধ্যপ্রাচ্য, আফ্রিকা ও এশিয়াভিত্তিক। তবে যুক্তরাষ্ট্র, কানাডা, পশ্চিম ইউরোপের বেশিরভাগ দেশ, অস্ট্রেলিয়া, জাপান ও দক্ষিণ কোরিয়া এখনও এই স্বীকৃতি দেয়নি।
সম্প্রতি, গত এপ্রিলেই জাতিসংঘের নিরাপত্তা পরিষদে ফিলিস্তিনের পূর্ণ সদস্যপদ চেয়ে আনা প্রস্তাবে একমাত্র ভেটো দেয় যুক্তরাষ্ট্র।
প্রসঙ্গত, ১৯৮৮ সালের ১৫ নভেম্বর, প্রথম ইন্তিফাদার সময় ফিলিস্তিনের ঐতিহাসিক নেতা ইয়াসির আরাফাত জেরুজালেমকে রাজধানী ঘোষণা করে স্বাধীন ফিলিস্তিন রাষ্ট্র প্রতিষ্ঠার ঘোষণা দিয়েছিলেন।