বৃহস্পতিবার, ১৬ এপ্রিল ২০২৬, ০১:২৩ অপরাহ্ন
চাকরি স্থায়ীকরণের দাবিতে লাঠিচার্জ ও জলকামান: কর্মবিরতির হুঁশিয়ারি আউটসোর্সিং কর্মীদের
চাকরি স্থায়ীকরণের দাবিতে আন্দোলনরত আউটসোর্সিং কর্মীদের ওপর পুলিশের লাঠিচার্জ ও জলকামান নিক্ষেপের ঘটনায় তীব্র নিন্দা ও ক্ষোভ প্রকাশ করেছেন বাংলাদেশ আউটসোর্সিং কর্মচারী কল্যাণ পরিষদের নেতারা।
শনিবার (২২ ফেব্রুয়ারি) রাতে রাজধানীর সেগুনবাগিচায় ঢাকা রিপোর্টার্স ইউনিটির (ডিআরইউ) সামনে এক জরুরি সংবাদ সম্মেলনে তারা হুঁশিয়ারি দিয়ে বলেন, রোববার (২৩ ফেব্রুয়ারি) সকাল ১০টার মধ্যে দাবি মানা না হলে তারা অনির্দিষ্টকালের কর্মবিরতিতে যাবেন।
সংবাদ সম্মেলনে নেতারা অভিযোগ করেন, পুলিশ বিনা উসকানিতে শান্তিপূর্ণ সমাবেশে লাঠিচার্জ, সাউন্ড গ্রেনেড ও জলকামান নিক্ষেপ করেছে, যার ফলে অর্ধশতাধিক কর্মী আহত হয়েছেন। এর মধ্যে দুজনের অবস্থা আশঙ্কাজনক বলে জানানো হয়। নেতারা বলেন, যারা এই দমন-পীড়নের নির্দেশ দিয়েছে, তাদের শাস্তির আওতায় আনতে হবে এবং আহতদের সুচিকিৎসা নিশ্চিত করতে হবে।

তারা আরও জানান, সরকার যদি আগামীকাল সকাল ১০টার মধ্যে দাবি বাস্তবায়নের উদ্যোগ না নেয়, তাহলে সারা দেশের সরকারি, আধা-সরকারি ও স্বায়ত্তশাসিত প্রতিষ্ঠানগুলোতে কর্মরত আউটসোর্সিং কর্মচারীরা নিজ নিজ কর্মস্থলে অবস্থান কর্মসূচি পালন করবেন। প্রয়োজনে অনির্দিষ্টকালের জন্য কর্মবিরতি চলবে।
এর আগে, শনিবার দুপুরে জাতীয় প্রেস ক্লাবের সামনে চাকরি স্থায়ীকরণের দাবিতে সড়ক অবরোধ করেন আন্দোলনকারীরা। টানা দুই ঘণ্টা তোপখানা সড়কের উভয় পাশে যান চলাচল বন্ধ থাকে। পুলিশের বারবার অনুরোধ সত্ত্বেও আন্দোলনকারীরা সড়ক ছাড়তে অস্বীকৃতি জানান।
অবশেষে বিকেল সোয়া ৫টার দিকে পুলিশ কঠোর অবস্থান নেয়। জলকামান থেকে পানি ছোড়া হয়, পাঁচ রাউন্ড সাউন্ড গ্রেনেড বিস্ফোরণ ঘটানো হয় এবং আন্দোলনকারীদের ছত্রভঙ্গ করতে লাঠিচার্জ করা হয়। আকস্মিক পুলিশের এই অভিযানে আতঙ্ক ছড়িয়ে পড়ে।
আউটসোর্সিং কর্মীরা স্পষ্ট জানিয়ে দিয়েছেন, এবার তাদের দাবি বাস্তবায়ন না হলে তারা আরও কঠোর কর্মসূচির দিকে যাবেন। এখন দেখার বিষয়, সরকার তাদের দাবি নিয়ে কী সিদ্ধান্ত নেয়।