বৃহস্পতিবার, ১৬ এপ্রিল ২০২৬, ০৩:১২ অপরাহ্ন
সরকারি তিতুমীর কলেজকে বিশ্ববিদ্যালয় ঘোষণার দাবিতে উত্তাল হয়ে উঠেছে শিক্ষার্থীরা। টানা কয়েকদিন ধরে অব্যাহত আন্দোলনের অংশ হিসেবে সোমবার (৩ ফেব্রুয়ারি) দুপুর ১২টা ২০ মিনিটে কলেজের সামনের সড়ক অবরোধ করেন তারা। শিক্ষার্থীরা বাঁশ দিয়ে ব্যারিকেড গড়ে সড়কের দুই পাশ অবরুদ্ধ করে ফেলেন, ফলে যান চলাচল পুরোপুরি বন্ধ হয়ে যায়।
টানা কয়েকদিন ধরে চলা এই আন্দোলনে আজ শিক্ষার্থীদের দৃঢ় প্রত্যয় আরও স্পষ্ট হয়ে ওঠে। এক আন্দোলনকারী শিক্ষার্থী হাতে মাইক ধরে ঘোষণা দেন, আপাতত কলেজের সামনের সড়ক অবরোধ করা হচ্ছে, তবে শিগগিরই বৃহত্তর কর্মসূচি শুরু হবে। তিনি আরও জানান, অ্যাম্বুলেন্সসহ জরুরি যানবাহন ছাড়া কোনো গাড়ি চলতে দেওয়া হবে না।
আন্দোলনকারীদের মধ্যে থাকা শিক্ষার্থী আলী আহমেদ গণমাধ্যমকে জানান, মোট ১০ জন শিক্ষার্থী অনশন করছেন, যার মধ্যে ৬ জন আমরণ অনশনে রয়েছেন। বাকিদের মধ্যে ৩ জন অসুস্থ হয়ে হাসপাতালে ভর্তি হয়েছেন।
এর আগে রোববার বিকেলে শিক্ষা উপদেষ্টা ওয়াহিদউদ্দিন মাহমুদ মন্তব্য করেন, ‘দাবির মুখে নির্দিষ্ট সময় বেঁধে কোনো সিদ্ধান্ত নেওয়া সম্ভব নয়। সময়সীমা বেঁধে দিয়ে বিশ্ববিদ্যালয় প্রতিষ্ঠার দাবি যৌক্তিক নয়।’ তবে তার এই বক্তব্যকে প্রত্যাখ্যান করে শিক্ষার্থীরা সন্ধ্যা ৬টার পর মহাখালীতে ঢাকা-ময়মনসিংহ মহাসড়ক অবরোধ করেন।
রাতে এক সংবাদ সম্মেলনে শিক্ষার্থীরা নতুন কর্মসূচি ঘোষণা করেন। তারা জানান, সোমবার সকাল ১১টা থেকে রাত ১০টা পর্যন্ত ‘বারাসাত ব্যারিকেড টু ঢাকা নর্থ সিটি’ কর্মসূচি পালন করা হবে। এর আওতায় মহাখালী, আমতলী, রেলগেট ও গুলশান লিংক রোডও অবরোধের মধ্যে পড়বে। শিক্ষার্থীদের তিন দফা দাবির মধ্যে রয়েছে ‘তিতুমীর বিশ্ববিদ্যালয়’-এর রাষ্ট্রীয় স্বীকৃতি, একাডেমিক ক্যালেন্ডার প্রকাশ ও উন্নত শিক্ষার নিশ্চয়তা।
এই আন্দোলনের সূত্রপাত গত বৃহস্পতিবার, যখন তিতুমীর কলেজের কয়েকজন শিক্ষার্থী মূল ফটকের সামনে অবস্থান নিয়ে অনশন শুরু করেন। প্রথম দিন সকাল সাড়ে ১১টা থেকে রাত ৪টা পর্যন্ত তারা সড়ক অবরোধ করেন, যা শুক্রবারও অব্যাহত থাকে। শনিবারের পর রোববার এবং আজও শিক্ষার্থীরা তাদের দাবি আদায়ে রাজপথে রয়েছেন।
এই টানা আন্দোলন ও অবরোধের ফলে সাধারণ মানুষকে দুর্ভোগ পোহাতে হলেও শিক্ষার্থীদের মতে, এটি তাদের ন্যায্য অধিকারের লড়াই, এবং তারা শেষ পর্যন্ত এই দাবিতে অনড় থাকবেন।