বুধবার, ০৩ জুন ২০২৬, ০৫:২২ পূর্বাহ্ন
এই কাজগুলো করলে গরমে আপনি পাবেন আসমানি শান্তি!
অনলাইন
গরম শুধু মানুষের দেহে কষ্টের কারণ হয় না; জীবজন্তুরাও এর তীব্রতা সহ্য করতে গিয়ে দুর্ভোগে পড়ে। পাশাপাশি এর ভয়াবহতা দেশের অর্থনীতিতেও নেতিবাচক প্রভাব ফেলে। ফসলের ক্ষতি হয়, খাদ্য ঘাটতি দেখা দেয়। এ অবস্থায় একজন মুমিন কী করবেন—সে বিষয়ে ইসলাম গুরুত্বপূর্ণ দিকনির্দেশনা দিয়েছে।
ক্ষমা প্রার্থনায় মনোযোগী হওয়া
কোরআন-হাদিসে স্পষ্টভাবে বর্ণিত আছে, অতীত গুনাহর জন্য আল্লাহর কাছে ক্ষমা প্রার্থনা করলে তিনি দয়ার বৃষ্টি বর্ষণ করেন এবং প্রকৃতির কঠোরতা কমিয়ে দেন।
আল্লাহ বলেন, ‘আর বলছি, তোমাদের রবের কাছে ক্ষমা চাও, নিশ্চয়ই তিনি পরম ক্ষমাশীল। তিনি তোমাদের ওপর মুষলধারে বৃষ্টি বর্ষণ করবেন।’ (সুরা নুহ : ১০-১১)
অতএব, খরা বা অনাবৃষ্টির সময় সবার উচিত ইস্তিগফারে মনোনিবেশ করা।
তৃষ্ণার্তদের পানির ব্যবস্থা করা
গরমে তৃষ্ণায় কাতর মানুষ বা প্রাণীর মুখে পানি তুলে দেওয়ার ফজিলত অপরিসীম।
সাদ বিন ওবাদা (রা.)-এর বর্ণনায়, রাসুলুল্লাহ (সা.)-কে জিজ্ঞেস করা হয়, কোন দান সবচেয়ে উত্তম? তিনি বলেন, ‘পানি পান করানো।’ (ইবনে মাজাহ : ৩৬৮৪)
এই গরমে খেজুরের শরবত, ঠান্ডা পানি বা সহজলভ্য পানীয় বিতরণ করা অত্যন্ত সওয়াবের কাজ।
গাছ লাগিয়ে ছায়া দান করা
চরম গরম থেকে বাঁচতে গাছের ছায়ার বিকল্প নেই। গাছ রোপণ করা শুধু পরিবেশ রক্ষার উপায় নয়, বরং এটি নবীজি (সা.)-এর সুন্নত।
জাবির (রা.) বলেন, নবীজি (সা.) বলেছেন, ‘যে মুসলমান একটি ফলদ বৃক্ষ রোপণ করে, তার ফল খাওয়া, চুরি হওয়া, পশু-পাখির খেয়ে নেওয়া—সবই তার জন্য সদকার সওয়াব।’ (সহিহ মুসলিম : ৩৮২৪)
তাই গরমে গাছ লাগানো ও রক্ষণাবেক্ষণ করা শুধু পরিবেশ নয়, আত্মার জন্যও প্রশান্তিদায়ক।
গ্রীষ্মকাল নিয়ে নেতিবাচক মন্তব্য না করা
তীব্র গরমে কেউ কেউ রেগে গিয়ে সময়কে বা আবহাওয়াকে গালমন্দ করে ফেলেন। অথচ ইসলাম তা কঠোরভাবে নিরুৎসাহিত করে।
রাসুলুল্লাহ (সা.) বলেন, ‘আল্লাহ বলেন, আদম সন্তান সময়কে গালি দেয়, অথচ আমিই সময়।’ (সহিহ মুসলিম : ৫৬৬৭)
গ্রীষ্ম, শীত, দিন ও রাত সবই আল্লাহর হুকুমে চলে। তাই কষ্ট পেলেও মুখে রাগ ঝারার অধিকার নেই।
গরমে জোহর নামাজ একটু বিলম্বে আদায় করা
অত্যন্ত গরমের দিনে নবীজি (সা.) জোহরের সালাত কিছুটা দেরিতে আদায় করতেন যেন তাপ কিছুটা প্রশমিত হয়।
আবু জার গিফারি (রা.) বলেন, ‘এক সফরে নবী (সা.)-র সঙ্গে থাকাকালীন তিনি জোহরের সালাত বিলম্ব করেন, যতক্ষণ না টিলার ছায়া দেখা গেল।’ (বুখারি : ৫৩৯)
সুতরাং প্রয়োজনে জোহরের সালাত একটু সময় নিয়ে আদায় করাও সুন্নতের অনুসরণ।
বৃষ্টির জন্য বিশেষ সালাত আদায় করা
খরা ও তাপপ্রবাহে মানুষ যখন বিপর্যস্ত হয়ে পড়ে, তখন নবীজি (সা.) সালাতুল ইস্তিসকা আদায়ের পরামর্শ দিয়েছেন।
আব্বাদ ইবনু তামিম (রা.) বলেন, ‘একবার অনাবৃষ্টির সময় নবীজি (সা.) ঈদগাহে গিয়ে বৃষ্টির জন্য দোয়া করেন, চাদর উল্টান এবং দুই রাকাত নামাজ আদায় করেন।’ (নাসায়ি : ১৫০৯)
সবশেষে বলা যায়, প্রকৃতির কঠোর রূপের মোকাবিলায় ইসলামের এসব নির্দেশনা কেবল শারীরিক আরাম নয়, বরং আত্মিক প্রশান্তির পথও দেখায়। আল্লাহ আমাদের এসব আমল করার তাওফিক দিন। আমিন!