বুধবার, ২২ এপ্রিল ২০২৬, ০৩:৪৩ পূর্বাহ্ন
অনলাইন ডেস্ক ,
লালমনিরহাটে তিস্তার পানি কমতে শুরু করেছে, ফলে বন্যা পরিস্থিতি কিছুটা শান্ত হয়েছে। তবে দুঃখ ও কষ্ট এখনও কমেনি বানভাসিদের।
রোববার (৫ অক্টোবর) সন্ধ্যায় ভারত নিয়ন্ত্রিত গজলডোবা ব্যারাজের ৫৪টি গেট হঠাৎ খুলে দেয়ার ফলে তিস্তা নদীর পানি ডালিয়া পয়েন্টে বিপৎসীমার ওপরে প্রবাহিত হয়েছিল। এতে লালমনিরহাটের ৫টি উপজেলার ৩০ গ্রামের প্রায় লাখো মানুষ পানিবন্দি হয়ে পড়েন। তিস্তার পানি নেমে আসলেও কাঁচা-পাকা রাস্তা, ঘরবাড়ি ও শস্যক্ষেত ক্ষতিগ্রস্ত হয়েছে।
বানভাসিরা অভিযোগ করেছেন, হঠাৎ করে গেট খোলার ফলে চরম ভোগান্তি পোহাতে হচ্ছে। শিক্ষার্থীরা স্কুলে যেতে পারছে না, চাষাবাদ ও মাছের পুকুর নষ্ট হয়েছে। গবাদিপশুকে উঁচু স্থানে আশ্রয় নিতে হচ্ছে। খাদ্য ও পশুখাদ্যের সংকট দেখা দিয়েছে।
সরেজমিনে দেখা গেছে, মঙ্গলবার উজানের ঢল কমায় তিস্তার পানি বিপৎসীমার নিচে প্রবাহিত হচ্ছে। পানিবন্দি মুক্তি পেতে আরও ২–৩ দিন সময় লাগতে পারে। ঘরবাড়ি মেরামতের কাজ শুরু হবে পানি পুরোপুরি নেমে গেলে।
তিস্তাপারের মানুষগুলো বারবার ভারতের বন্যা পানি ছেড়ে দেয়ার কারণে গ্রাম প্লাবিত, ঘরবাড়ি ভেসে, ফসল নষ্ট হয়। তিস্তাপারের মানুষ মৃত্যুর সঙ্গে সংগ্রাম করে বেঁচে থাকে।
মহিষখোঁচা ইউনিয়নের ৭০ বছরের মনছুর শেখ বলেন, “চোখে ঘুম নেই, পেটে ভাত নেই। শুধু স্মৃতি তাড়া করছে।”
লালমনিরহাট পানি উন্নয়ন বোর্ডের নির্বাহী প্রকৌশলী সুনিল কুমার জানিয়েছেন, নদীতে পানি কমলেও পাড়ে ভাঙন দেখা দিতে পারে। জেলা প্রশাসক এইচ এম রকিব হায়দার বলেন, বানভাসিদের তালিকা তৈরি করে সহায়তা প্রদান করা হবে।