বুধবার, ২২ এপ্রিল ২০২৬, ১২:২৯ পূর্বাহ্ন
অনলাইন ডেস্ক ,
আইসিটি মামলায় যাদের বিরুদ্ধে আনুষ্ঠানিক অভিযোগ গঠন হয়েছে, তারা আগামী নির্বাচনে অংশগ্রহণ করতে পারবেন না এবং সরকারি কোনো পদে দায়িত্ব পালনেও অযোগ্য হবেন।
আইন মন্ত্রণালয় গত সোমবার (৬ অক্টোবর) এ সংক্রান্ত প্রজ্ঞাপন জারি করেছে। আন্তর্জাতিক অপরাধ (ট্রাইব্যুনাল) আইন, ১৯৭৩-এর সংশোধনের মাধ্যমে এই বিধান কার্যকর করা হয়েছে। রাষ্ট্রপতি মো. সাহাবুদ্দিন অধ্যাদেশ জারি করে আইনে নতুন ২০(গ) ধারা সংযোজন করেন, যা জারি হওয়ার সঙ্গে সঙ্গে কার্যকর হয়েছে।
নতুন ধারা অনুযায়ী, আইসিটি আইনের ৯(১) ধারার অধীনে যাদের বিরুদ্ধে অভিযোগ দাখিল হয়েছে, তারা সংসদ সদস্য, স্থানীয় সরকার প্রতিনিধি, কমিশনার, চেয়ারম্যান, মেয়র বা প্রশাসক হিসেবে নির্বাচিত হওয়া এবং প্রজাতন্ত্রের সরকারি চাকরিতে নিয়োগে অযোগ্য হবেন। তবে পরবর্তীতে ট্রাইব্যুনাল থেকে অব্যাহতি বা খালাস প্রাপ্ত হলে এই অযোগ্যতা তুলে নেওয়া হবে।
অভিযুক্তদের মধ্যে রয়েছেন সাবেক প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা, আসাদুজ্জামান খান কামাল, হাসানুল হক ইনু, মাহবুব উল আলম হানিফ, মোহাম্মদ সাইফুল ইসলাম, সাদরুদ্দিন খান, আজগর আলী, আতাউর রহমান আতা, পুলিশের সাবেক মহাপরিদর্শক চৌধুরী আবদুল্লাহ আল-মামুন, সাবেক ডিএমপি কমিশনার হাবিবুর রহমান, সাবেক রংপুর মেট্রোপলিটন কমিশনার মো. মুনিরুজ্জামান এবং সাবেক ঢাকা রেঞ্জ ডিআইজি সৈয়দ নুরুল ইসলামসহ অন্যান্যরা।
আইসিটির প্রধান প্রসিকিউটর তাজুল ইসলাম বলেছেন, এই সংশোধন দেশের বর্তমান পুনর্গঠন পরিস্থিতির প্রয়োজনেই আনা হয়েছে।
তবে বিশিষ্ট আইনজীবী শাহদীন মালিক এর সমালোচনা করে বলেন, অভিযুক্তকেও অপরাধ প্রমাণিত না হওয়া পর্যন্ত নির্দোষ ধরা হয়; শুধুমাত্র অভিযোগের ভিত্তিতে নির্বাচনে অংশগ্রহণ বা সরকারি চাকরি থেকে বঞ্চিত করা ন্যায়সঙ্গত নয়।
এ পর্যন্ত জুলাই বিদ্রোহের সময় মানবতাবিরোধী অপরাধের সাতটি মামলায় ৬৭ জনের বিরুদ্ধে আনুষ্ঠানিক অভিযোগ দাখিল করা হয়েছে।