শুক্রবার, ২৬ জুন ২০২৬, ০৫:৩৫ অপরাহ্ন
বিশ্বের বিভিন্ন দেশে শিয়া মুসলিমরা গভীর শোক, প্রার্থনা এবং ধর্মীয় আনুষ্ঠানিকতার মধ্য দিয়ে পবিত্র আশুরা পালন করেছেন। সাম্প্রতিক সময়ে ইরান ও লেবাননে যুক্তরাষ্ট্র-ইসরায়েলের হামলা, সংঘাত ও যুদ্ধের প্রেক্ষাপটে এ বছরের আশুরা বিশেষ গুরুত্ব বহন করছে। বৃহস্পতিবার থেকেই বিভিন্ন দেশে আনুষ্ঠানিকতা শুরু হয় এবং শুক্রবার জুমার নামাজকে কেন্দ্র করে বিশেষ দোয়া ও ধর্মীয় কর্মসূচির আয়োজন করা হয়।
গণমাধ্যমের প্রতিবেদনে বলা হয়েছে, ৬৮০ খ্রিস্টাব্দে কারবালার প্রান্তরে ইমাম হুসাইন উমাইয়া শাসকের প্রতি আনুগত্য স্বীকারে অস্বীকৃতি জানিয়ে পরিবারের সদস্য ও সঙ্গীদের সঙ্গে শাহাদাত বরণ করেন। তাঁর এই আত্মত্যাগ ইসলামের ইতিহাসে সুন্নি-শিয়া বিভাজনের অন্যতম গুরুত্বপূর্ণ অধ্যায় হিসেবে বিবেচিত হয়। একই সঙ্গে অন্যায় ও অত্যাচারের বিরুদ্ধে অবিচল অবস্থানের প্রতীক হিসেবেও এ ঘটনাকে দেখা হয়।
ইরানের রাজধানী তেহরানে কালো পোশাক পরিহিত শোকাহত মানুষ মসজিদ, হোসাইনিয়া ও বিভিন্ন সড়কে সমবেত হয়ে মাতম করেন। এ উপলক্ষে শহরের বহু ব্যবসাপ্রতিষ্ঠান বন্ধ রাখা হয়। স্বেচ্ছাসেবীরা অংশগ্রহণকারীদের মধ্যে চা ও খেজুর বিতরণ করেন।
আশুরার আগের সন্ধ্যায় ইমাম রুহুল্লাহ খোমেনীর মাজারে আয়োজিত শোকানুষ্ঠানে অংশ নেন ইরানের প্রেসিডেন্ট মাসুদ পেজেশকিয়ানসহ ঊর্ধ্বতন সরকারি কর্মকর্তারা। সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে প্রকাশিত এক বার্তায় প্রেসিডেন্ট পেজেশকিয়ান বলেন, ইমাম হুসাইন মানুষকে অন্যায়ের বিরুদ্ধে দৃঢ়ভাবে দাঁড়ানোর শিক্ষা দিয়েছেন। তিনি আরও উল্লেখ করেন, কাউকে অত্যাচার করা, অত্যাচার মেনে নেওয়া কিংবা অন্যায়ের সামনে নীরব থাকা—কোনোটিই গ্রহণযোগ্য নয়।
এদিকে লেবাননের উপকূলীয় শহর টায়ারে হিজবুল্লাহর হয়ে নিহত যোদ্ধা ও প্যারামেডিকদের পরিবারের সদস্যরা শোকসভায় অংশ নেন। অনুষ্ঠানে ধর্মীয় বক্তারা কারবালার ঐতিহাসিক ঘটনার সঙ্গে বর্তমান সময়ের সংগ্রামের বিভিন্ন দিক তুলে ধরেন। আশুরা উপলক্ষে শহরের বিভিন্ন সড়ক ইমাম হুসাইনের নামে লাল ও কালো ব্যানারে সজ্জিত করা হয়।