রবিবার, ২৮ জুন ২০২৬, ০৩:০৫ পূর্বাহ্ন
কাজের পথে রক্তাক্ত সমাধি, মিশরে কিশোরদের কান্না!
অনলাইন ডেস্ক
মিশরের এক সড়কে ট্রাক ও মাইক্রোবাসের মুখোমুখি সংঘর্ষে প্রাণ হারিয়েছেন ১৯ জন। মাইক্রোবাসে দিনমজুরদের কর্মস্থলে নিয়ে যাওয়া হচ্ছিল। নিহতদের বেশিরভাগই ছিল কিশোর-কিশোরী, যার মধ্যে মাত্র ১৪ বছর বয়সী এক মেয়েও ছিল।
কায়রোর উত্তরের মেনোফিয়া প্রদেশের আশমুন শহরে শুক্রবার (২৮ জুন) ভোরে আঞ্চলিক সড়কে ঘটে এই মর্মান্তিক দুর্ঘটনা। কাফর আল-সানাবসা গ্রামের শ্রমিকদের বহনকারী মাইক্রোবাসটিকে একটি ট্রাক সজোরে ধাক্কা দিলে এই ট্রাজেডি ঘটে।
সরকারি সংবাদপত্র আল-আহরাম জানিয়েছে, নিহতদের অধিকাংশই ছিল কিশোর বয়সের। মিশরের বিভিন্ন সংবাদমাধ্যম তাদের ‘প্রতিদিনের রুটি সংগ্রহের শহীদ’ হিসেবে আখ্যা দিয়েছে।
মিশরে প্রায় ১৩ লাখ শিশু শ্রমিক রয়েছে বলে সরকারি তথ্য থেকে জানা যায়। এ শিশুদের অনেকে প্রতিদিন ঝুঁকিপূর্ণ যানবাহনে করে কাজের উদ্দেশ্যে বের হয়, যার কারণে এমন দুর্ঘটনা লেগেই থাকে।
এই দুর্ঘটনায় বেঁচে ফিরেছেন মাত্র তিনজন, যাদের আশমুনের একটি হাসপাতালে ভর্তি করা হয়েছে।
মিশরের শ্রমমন্ত্রী মোহাম্মদ গেবরান জানিয়েছেন, নিহতের পরিবারকে দুই লাখ মিশরীয় পাউন্ড (প্রায় ৪ হাজার মার্কিন ডলার) এবং আহতদের বিশ হাজার পাউন্ড (প্রায় ৪০০ ডলার) করে ক্ষতিপূরণ দেওয়া হবে।
মেনোফিয়া প্রদেশের গভর্নর ইব্রাহিম আবু লাইমন জানিয়েছেন, দুর্ঘটনার কারণ তদন্ত করা হচ্ছে। প্রাথমিকভাবে ধারণা করা হচ্ছে, অতিরিক্ত গতির কারণেই এই দুর্ঘটনা ঘটেছে। তিনি আঞ্চলিক সড়কের নিরাপত্তা ব্যবস্থা নতুন করে খতিয়ে দেখার নির্দেশ দেন।
প্রসঙ্গত, ওই সড়কেই গত এপ্রিল মাসে একটি পরিবারের পাঁচজন সদস্য সড়ক দুর্ঘটনায় মারা যান।
মিশরে প্রতিবছর হাজার হাজার মানুষ সড়ক দুর্ঘটনায় প্রাণ হারান। ২০২৩ সালের অক্টোবর মাসে কায়রো-আলেক্সান্দ্রিয়া মরুভূমি সড়কে একটি বাস ও কয়েকটি গাড়ির সংঘর্ষে ৩৫ জন নিহত হয়, যাদের অন্তত ১৮ জন আগুনে পুড়ে মারা গিয়েছিলেন। স্থানীয় সংবাদপত্র এটিকে ভয়াবহ দুর্ঘটনা হিসেবে উল্লেখ করেছিল।