রবিবার, ২৬ এপ্রিল ২০২৬, ০৬:৫৪ অপরাহ্ন
চট্টগ্রামে ভর্তি পরীক্ষায় কোটা বৈষম্য নিরসনের দাবিতে ছাত্রদের বিক্ষোভ সমাবেশ
ভর্তি পরীক্ষায় কোটা বৈষম্য নিরসনের দাবিতে চট্টগ্রামে বিক্ষোভ সমাবেশ করেছে বৈষম্যবিরোধী ছাত্র আন্দোলন। আজ সোমবার সকাল ১১টার দিকে নগরীর জামালখান এলাকায় এই কর্মসূচি অনুষ্ঠিত হয়। এতে সব ধরনের ভর্তি পরীক্ষায় কোটা বৈষম্য দূর করার দাবি জানানো হয়।
সমাবেশ উপলক্ষে সকাল থেকেই শিক্ষার্থীরা চট্টগ্রাম প্রেসক্লাব চত্বরে জড়ো হতে থাকেন। এ সময় তাঁরা বিভিন্ন স্লোগানের মাধ্যমে তাঁদের দাবি জানান। বক্তারা বলেন, ‘যে কোটা সংস্কারের জন্য আবু সাঈদ, ওয়াসিম, শান্ত, ফারুকসহ অনেক ভাই নিজেদের জীবন উৎসর্গ করেছেন, সেই কোটার কারণে আমরা মেধাকে অবমূল্যায়িত হতে দিতে পারি না। কারও স্বপ্ন ধুলিসাৎ হতে দেওয়া যাবে না।’
কর্মসূচিতে বক্তব্য দেন বৈষম্যবিরোধী ছাত্র আন্দোলনের কেন্দ্রীয় নির্বাহী সদস্য রাসেল আহমেদ। তিনি বলেন, ‘যার বায়োলজি বা কেমিস্ট্রির প্রাথমিক জ্ঞানই নেই, সে যদি মেডিকেলে সুযোগ পায়, তাহলে কীভাবে সে মেডিকেলের শিক্ষা অর্জন করবে? আমরা চাই, প্রতিটি বিশ্ববিদ্যালয়ে কোটার নামে বৈষম্য দূর করে সবাইকে সমান সুযোগ দেওয়া হোক।’
রাসেল আহমেদ আরও বলেন, ‘যে স্বপ্নে আমাদের ভাইয়েরা রক্ত দিয়েছেন, সেই স্বপ্ন পূরণে বিশ্ববিদ্যালয়, ইঞ্জিনিয়ারিং এবং মেডিকেলসহ সব ভর্তি পরীক্ষায় কোটার অবসান ঘটাতে হবে। আমরা এর আগেও বলেছিলাম, মুক্তিযোদ্ধা কোটাকে ন্যূনতম পর্যায়ে আনতে হবে।’
পোষ্য কোটার বিষয়ে এক প্রশ্নের জবাবে তিনি বলেন, ‘কোটা সংস্কারের জন্য আমরা রাস্তায় নেমেছিলাম। আমাদের ভাইয়েরা জীবন দেওয়ার পর সেই দাবি সংস্কারের দিকে এগিয়েছিল। কিন্তু রাষ্ট্রের উচিত ছিল এই কাঠামোকে পুরোপুরি ভেঙে নতুন করে গঠন করা। এখন আবার কেন কোটা নিয়ে আমাদের রাস্তায় নামতে হচ্ছে?’
বক্তব্য শেষে সমাবেশে উপস্থিত অন্যান্য সমন্বয়ক ও মেডিকেল শিক্ষার্থীরাও বক্তব্য দেন। সমাবেশ শেষে একটি বিক্ষোভ মিছিল নগরীর চেরাগী পাহাড় মোড় ঘুরে প্রেসক্লাবের সামনে গিয়ে শেষ হয়। মিছিলে অংশগ্রহণকারীরা ‘কোটা না মেধা, মেধা মেধা’, ‘যে কোটায় ভাই মরে, সে কোটা আনল কারা’—এমন স্লোগান দেন।
সম্প্রতি মুক্তিযোদ্ধা কোটার মাধ্যমে কম নম্বর পেয়েও মেডিকেলে ভর্তির সুযোগ পাওয়া নিয়ে সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে বেশ কিছু পোস্ট ছড়িয়ে পড়ে। এতে এই বিষয়ে ব্যাপক আলোচনা ও সমালোচনা শুরু হয়। এর পরিপ্রেক্ষিতে গতকাল রোববার রাতে বৈষম্যবিরোধী ছাত্র আন্দোলনের পক্ষ থেকে চট্টগ্রামে বিক্ষোভ সমাবেশের ঘোষণা দেওয়া হয়।