বৃহস্পতিবার, ২৫ জুন ২০২৬, ০৬:১৩ অপরাহ্ন
দেশে বর্তমানে প্রায় ৮২ লাখ মানুষ কোনো না কোনো ধরনের অবৈধ মাদক ব্যবহার করছে, যা মোট জনসংখ্যার প্রায় ৪ দশমিক ৮৮ শতাংশ। এই পরিস্থিতি মোকাবিলায় মাদকাসক্তদের জন্য চিকিৎসা ও পুনর্বাসন সেবা আরও উন্নত এবং সহজলভ্য করতে সরকার বিভিন্ন উদ্যোগ বাস্তবায়ন করছে বলে জানিয়েছেন স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী সালাহউদ্দিন আহমদ।
বৃহস্পতিবার (২৫ জুন) সচিবালয়ে স্বরাষ্ট্র মন্ত্রণালয়ের সম্মেলন কক্ষে ‘মাদকদ্রব্যের অপব্যবহার ও অবৈধ পাচারবিরোধী আন্তর্জাতিক দিবস-২০২৬’ উপলক্ষে আয়োজিত সংবাদ সম্মেলনে তিনি এসব তথ্য তুলে ধরেন। অনুষ্ঠানে নির্বাচিত বেসরকারি মাদকাসক্তি নিরাময় কেন্দ্রগুলোর মধ্যে সরকারি অনুদানের চেকও বিতরণ করা হয়।
স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী জানান, মাদকদ্রব্য নিয়ন্ত্রণ অধিদপ্তরের তত্ত্বাবধানে পরিচালিত এক জরিপে দেশে প্রায় ৮২ লাখ মাদক ব্যবহারকারীর তথ্য উঠে এসেছে। তাদের মধ্যে উল্লেখযোগ্য সংখ্যক তরুণ মাদকের ওপর নির্ভরশীল হয়ে পড়েছেন। এ কারণে দ্রুত চিকিৎসার আওতায় আনতে সরকার বিভিন্ন পদক্ষেপ গ্রহণ করেছে।
তিনি বলেন, সরকার পরিচালিত ঢাকার তেজগাঁওয়ের কেন্দ্রীয় মাদকাসক্তি নিরাময় ও পুনর্বাসন কেন্দ্রসহ তিনটি বিভাগীয় শহরের নিরাময় কেন্দ্রের শয্যাসংখ্যা বৃদ্ধি করা হয়েছে। পাশাপাশি ঢাকার কেন্দ্রীয় নিরাময় কেন্দ্রকে ২৫০ শয্যায় উন্নীত করার কাজও চলমান রয়েছে।
এছাড়া ১৪৩ কোটি টাকা ব্যয়ে চট্টগ্রাম, রাজশাহী, খুলনা, বরিশাল, রংপুর, সিলেট ও ময়মনসিংহে ২০০ শয্যাবিশিষ্ট মাদকাসক্তি নিরাময় ও পুনর্বাসন কেন্দ্র নির্মাণ প্রকল্প শুরু হয়েছে। প্রকল্প বাস্তবায়িত হলে চিকিৎসার পাশাপাশি প্রশিক্ষণের মাধ্যমে মাদকাসক্তদের সমাজের মূলধারায় পুনর্বাসনের সুযোগ তৈরি হবে বলে তিনি আশা প্রকাশ করেন।
মন্ত্রী বলেন, মাদকাসক্তের সংখ্যার তুলনায় সরকারি চিকিৎসা সুবিধা এখনো পর্যাপ্ত নয়। তাই বেসরকারি উদ্যোগকে উৎসাহিত করতে সরকার বিভিন্ন কর্মসূচি বাস্তবায়ন করছে। বেসরকারি নিরাময় ও পুনর্বাসন কেন্দ্রগুলোর সেবার মান উন্নয়ন এবং মানবসম্পদ বিকাশে আর্থিক সহায়তাও দেওয়া হচ্ছে।
তিনি আরও জানান, ২০২৫–২৬ অর্থবছরে লাইসেন্সপ্রাপ্ত ৪০৩টি বেসরকারি মাদকাসক্তি নিরাময় ও পুনর্বাসন কেন্দ্রের মধ্যে ৭৩টিকে মোট ১ কোটি ১০ লাখ টাকা অনুদান দেওয়া হচ্ছে। এর ফলে সংশ্লিষ্ট প্রতিষ্ঠানগুলোর চিকিৎসা সেবার মান আরও উন্নত হবে বলে আশা করা হচ্ছে।
বেসরকারি নিরাময় কেন্দ্রগুলোকে সংশ্লিষ্ট বিধিমালা ও জাতীয় গাইডলাইন অনুসরণ করে পরিচালিত হওয়ার আহ্বান জানিয়ে স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী বলেন, আগামী ২৬ জুন ‘মাদকদ্রব্যের অপব্যবহার ও অবৈধ পাচারবিরোধী আন্তর্জাতিক দিবস’ উপলক্ষে রাজধানীতে বিভিন্ন কর্মসূচি পালিত হবে। মৎস্য ভবন এলাকা থেকে শুরু হওয়া মাদকবিরোধী র্যালি ওসমানী স্মৃতি মিলনায়তনে গিয়ে শেষ হবে।
এরপর সেখানে আলোচনা সভা, প্রামাণ্যচিত্র প্রদর্শন, মাদকাসক্তি থেকে সুস্থ হয়ে ওঠা ব্যক্তিদের অভিজ্ঞতা বিনিময়, বার্ষিক মাদক প্রতিবেদন প্রকাশ এবং বিভিন্ন প্রতিযোগিতার বিজয়ীদের মধ্যে পুরস্কার বিতরণ করা হবে। শুক্রবার জুমার নামাজের বিষয়টি বিবেচনায় রেখে নির্ধারিত সময়ের মধ্যেই অনুষ্ঠান শেষ করা হবে বলেও জানান তিনি।