বুধবার, ২২ এপ্রিল ২০২৬, ০৩:৪৮ পূর্বাহ্ন
পাকা ধান ঘরে তোলার হিড়িক পরশুরামে, মিলছে না শ্রমিক—দাম ছাড়িয়েছে ধানের চেয়েও বেশি!
অনলাইন ডেস্ক
চলতি বোরো মৌসুমে বর্ষা নামার আগেই ফেনীর পরশুরাম উপজেলার কৃষকেরা পাকা ধান ঘরে তুলতে মরিয়া হয়ে উঠেছে। একযোগে মাঠের ধান পাকায় সবাই ধান কাটায় নেমেছে, যার ফলে দেখা দিয়েছে তীব্র শ্রমিক সংকট। এমনকি ফলন ভালো হলেও একজন শ্রমিক জোগাড় করতেও হিমশিম খাচ্ছে কৃষকরা।
আকাশে মেঘ জমতে শুরু করায়—টানা বৃষ্টি শুরু হলে ঘরে ধান তুলতে বড়সড় বিপদে পড়তে হবে এমন শঙ্কায় দিন গুনছে হাজারো কৃষক। শ্রমিক না মেলায় অনেকে সময়মতো ধান তুলতে পারছেন না, ফলে চোখে মুখে দুশ্চিন্তার ছাপ।
বৈশাখের ঝড় আসার আগেই ক্ষেতের সোনালি স্বপ্ন ঘরে তোলার যুদ্ধে মাঠে নেমেছে কৃষকেরা। ইতোমধ্যে মাঠের প্রায় ৮০ শতাংশ ধান পাকেছে। আবহাওয়া ধান কাটার পক্ষে থাকায় সবার একসঙ্গে ধান কাটা শুরু করায় শ্রমিক সংকটে পড়েছে এলাকা। ফলে চড়া দামেও মিলছে না শ্রমিক।
যেখানে কয়েকদিন আগেও শ্রমিক পাওয়া যেত ৭০০ থেকে ৮০০ টাকায়, এখন সেখানে একজন শ্রমিকের দাম ১৩০০ টাকা—কোনো কোনো জায়গায় ১৪০০ টাকাও ছাড়িয়েছে! সঙ্গে দুইবেলা খাবার, চা-নাস্তা তো রয়েছেই। অথচ এক মণ ধানের বাজারদর মাত্র ৯৫০ থেকে ১০০০ টাকা—যেখানে খরচই বেশি।
পরশুরামের কৃষক আব্দুস সোবহান বলেন, “ফলন ভালো হলেও লাভ নেই, খরচ আর শ্রমিকের দাম সব খেয়ে ফেলছে।”
কৃষকেরা জানান, ৪০ শতক জমিতে এবার সেচ, সার, বীজের দাম বাড়া এবং বৃষ্টির অভাবে উৎপাদন খরচ দাঁড়িয়েছে ২২-২৩ হাজার টাকা। ধান কাটা-মাড়াইয়ের খরচ তো আছেই।
অন্য এক কৃষক আবদুল খালেক বলেন, “ধান পেকে গেছে, অথচ কাটতে পারছি না—শ্রমিকই নেই। এখন ৪০ শতক জমির ধান তুলতে খরচ হবে আরও ৬ হাজার টাকা।”
তবে আশার কথা হলো, ফলন ভালো হওয়ায় ধানের পাশাপাশি খড়ও সংগ্রহ করতে পারছেন অনেকে, যা গবাদিপশুর খাদ্য হিসেবে গুরুত্বপূর্ণ।
উপজেলা কৃষি অফিসের উপ-সহকারী কৃষি কর্মকর্তা গণমাধ্যমকে বলেন, “এবার বোরো ধানে ফলন খুবই ভালো হয়েছে। উপজেলার লক্ষ্যমাত্রা ছিল ৪ হাজার ২৫০ হেক্টর, ইতোমধ্যে কাটা শুরু হয়ে গেছে। প্রাকৃতিক দুর্যোগ না হলে কৃষকেরা ফলন ঘরে তুলতে পারবেন।”
তিনি আরও বলেন, “একসঙ্গে ধান পাকায় শ্রমিক সংকট দেখা দিয়েছে। সবাই ধান তোলায় ব্যস্ত, শ্রমিকের চাহিদা বেড়েছে। তবে আশা করছি, এ সংকট বেশিদিন থাকবে না।”