রবিবার, ২৬ এপ্রিল ২০২৬, ০৩:২৪ পূর্বাহ্ন
কুষ্টিয়া জেলা প্রতিনিধি
কুষ্টিয়ার জেলা প্রশাসক মো. তৌফিকুর রহমান সাফ জানিয়ে দিয়েছেন—এবারের লালন স্মরণোৎসবে লালনের মাজার ও আশপাশের এলাকায় গাঁজা ও মাদক সেবন সম্পূর্ণ নিষিদ্ধ। তিনি হুঁশিয়ারি উচ্চারণ করে বলেন, “যদি কেউ মাজার চত্বরে মাদক সেবন বা বিক্রি করতে দেখা যায়, তাহলে কঠোর আইনানুগ ব্যবস্থা নেওয়া হবে।” বুধবার (৫ মার্চ) জেলা প্রশাসকের সম্মেলন কক্ষে অনুষ্ঠিত প্রস্তুতি সভায় সভাপতির বক্তব্যে তিনি এ ঘোষণা দেন।
সভাটি সঞ্চালনা করেন অতিরিক্ত জেলা প্রশাসক (সার্বিক) মো. জাহাঙ্গীর আলম। এতে উপস্থিত ছিলেন কুষ্টিয়া জেলা বিএনপির সভাপতি কুতুব উদ্দিন আহমেদ, বাউল ফিরোজ সাঁই, রাজ্জাক সাঁই, শফি সাঁই, কুষ্টিয়া সাংবাদিক ইউনিয়নের সভাপতি আব্দুর রাজ্জাক বাচ্চু, নাগরিক প্রতিনিধি আলমাস হোসেন মামুনসহ বিশিষ্ট ব্যক্তিবর্গ। প্রশাসনের অন্যান্য শীর্ষ কর্মকর্তারাও উপস্থিত ছিলেন, যার মধ্যে ছিলেন অতিরিক্ত জেলা প্রশাসক (রাজস্ব) মোহা. আব্দুল ওয়াদুদ, স্থানীয় সরকার শাখার উপ-পরিচালক মো. মিজানুর রহমান, সদর উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা পার্থ প্রতীম শীল ও অতিরিক্ত পুলিশ সুপার ফয়সাল মাহমুদ।
এবারের স্মরণোৎসব আগের বছরের মতো তিন দিনব্যাপী নয়, বরং মাত্র এক দিনের জন্য অনুষ্ঠিত হবে। পবিত্র রমজান মাসের কারণে এই সংক্ষিপ্ত সিদ্ধান্ত নেওয়া হয়েছে। ফলে আলোচনাসভা, সাংস্কৃতিক অনুষ্ঠান ও গ্রামীণ মেলা থাকছে না। তবে লালন একাডেমির পক্ষ থেকে ১৩ মার্চ সন্ধ্যায় বাউল ভক্তদের জন্য বাল্যসেবার ব্যবস্থা করা হয়েছে এবং পরদিন ১৪ মার্চ দুপুরে খেলাফতধারী বাউল ফকিরদের নিজস্ব উদ্যোগে পূর্ণসেবা প্রদান করা হবে।
প্রতিবছর দোল পূর্ণিমা উপলক্ষে লালনের ভক্তরা দেশের বিভিন্ন স্থান থেকে এসে স্মরণোৎসবে যোগ দেন। লালন ফকির নিজে তার জীবদ্দশায় এই উৎসব পালন করতেন এবং সেই ধারাবাহিকতা আজও বজায় আছে। এছাড়াও, প্রতি বছর অক্টোবর মাসে তিন দিনব্যাপী লালন তিরোধান দিবসও উদযাপিত হয়। এবার মাদক নিয়ন্ত্রণ ও নিরাপত্তা ব্যবস্থা জোরদার করার পাশাপাশি উৎসবের সার্বিক পরিবেশ সুস্থ ও পরিচ্ছন্ন রাখার ওপর বিশেষ গুরুত্ব দিয়েছে প্রশাসন।