বুধবার, ২২ এপ্রিল ২০২৬, ০৬:৪০ পূর্বাহ্ন
মনপুরার জমি বিবাদের সংঘর্ষে চারজনের মাথা ফাটা আহত!
বনি আমিন, মনপুরা উপজেলা প্রতিনিধি
ভোলার মনপুরা উপজেলায় ভূমি সংক্রান্ত বিরোধ নিয়ে দুই পক্ষের মধ্যে সংঘর্ষের ঘটনা ঘটেছে, এ সময় উভয় পক্ষের অন্তত ৪ জন আহত হয়েছে। ঘটনাটি ঘটেছে ১৩ জুলাই রবিবার বিকেল ৩ টায় উপজেলার ২ নং হাজীরহাট ইউনিয়নের চর ফৈজউদ্দিন গ্রামের ৮ নং ওয়ার্ড এর হোসেন মাষ্টার এর বাড়ীর সামনে পাকা রাস্তার উপরে এ ঘটনা ঘটে । আহতদের স্থানীয় রা উদ্ধার করে মনপুরা উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্স নিয়ে যায়।
এলাকার স্থানীয় বাসিন্দারা জানান , হোসেন মাষ্টার এবং রওশনা বেগম ও মোঃ রজন মিজি গংদের মধ্যে দীর্ঘদিন ধরে একটি জমি নিয়ে বিরোধ চলে আসছে। এই ঘটনায় স্থানীয় মেম্বার চেয়ারম্যান সহ একাধিক বার বসা বসি হলেও কোনো মিমাংসা করতে পারেনি তাহারা। ঘটনার দিন বিকেলে আকলিমা’র সাথে হোসেন মাষ্টার এবং হাসনা বেগম এর কথা কাটাকাটি হয়। এর পর প্রথমে হাসনা বেগম এর পর হোসেন মাষ্টার এবং তার বাবা তিনজন মিলে আকলিমা এবং মহাজেরা’র উপর হামলা করে।
ঘটনার দিনের একটি ভিডিও ফুটেজে দেখা যায় হাসনা বেগম, আকলিমা এবং মহাজেরা’র উপর হামলা করে।
এ বিষয়ে রওশনা বেগম এর মেয়ে আকলিমা বেগম বলেন ,হোসেন মাষ্টার আমার পাড়া প্রতিবেশী হয়। হোসেন মাষ্টার অত্যন্ত খারাপ প্রকৃতির লোকজন। হোসেন মাষ্টার আমার ওয়ারিশ সম্পত্তি জোর পূর্বক দখল করার পায়তারা করে। বিষয়টি নিয়ে স্থানীয় গন্যমান্য ব্যক্তিবর্গের নিকট বিচার দিলে হোসেন মাষ্টার তাহাদের কথার কোন তোয়াক্কা করে না। সর্বশেষ ইং-১৩/০৭/২৫ তারিখ বেলা অনুমানিক ৩:০০ টার সময় আমি আমার বাড়ীর সামনে পাকা রাস্তার উপর হোসেন মাষ্টার এবং তার স্ত্রী প্রাইমারি স্কুল শিক্ষিকা হাসনা বেগম পূর্বের জমিজমার বিষয় ধরিয়া আমার পথ রোধ করে অযথা গালমন্দ শুরু করে। আমি হোসেন এবং হাসনাকে গালমন্দ করতে নিষেধ করিলে তাহারা ৩-৪ জন আমাকে এবং আমার সাথে সাথে থাকা মোসাঃ মাহমুদা (২১), পিতা-মোঃ নূর মোহাম্মাদ মোসাঃ মহাজেরা (৩৫), স্বামী মোঃ আমিনুল ইসলাম কে এলোপাথাড়ী কিল ঘুষি দিয়ে শরীরের বিভিন্ন স্থানে নীলাফুলা জখম করে। মারধরের একপর্যায়ে আমার কোলে থাকা ২ বছরের শিশু সন্তান কে হাসনা বেগম আমার কোল থেকে টেনে হিছরে নামাইয়া রাস্তার পাশে ফেলে দেয়। তখন আমাদের ডাকচিৎকার শুনে আশে পাশের লোকজন ঘটনাস্থলে আসিলে তাদের সামনে আমাদেরকে বিভিন্ন ধরনের হুমকি প্রদান করে ঘটনাস্থল ত্যাগ করে। এই বিষয়ে আমরা মনপুরা থানায় একটি জিডি করেছি।
আমি এর সুষ্ঠু বিচার চাই।
ঘটনা সম্পর্কে হাসনা বেগম বলেন, আমি ১৩ তারিখ রবিবার বিকেল ৩ টায় স্কুল শেষ করে আমার শশুর বাড়িতে যাওয়ার সময় শামীম এবং তার শশুর বাড়ির লোকজন আমার পথ অবরুদ্ধ করে ধারায়। এর পর আমাকে এলোপাতাড়ি মারধর করে।
এবিষয়ে মনপুরা থানার এসআই (নিরস্ত্র) মোঃ রাজিবুল আলম জানান, ১৩ তারিখে আকলিমা বেগম বাদি হয়ে মনপুরা থানায় একটি জিডি করেন। জিডি নাম্বার হচ্ছে ৩৬৭ জিডি টি আমরা কোটে আবেদন দিয়েছি।