বৃহস্পতিবার, ২৩ এপ্রিল ২০২৬, ০৫:০৫ পূর্বাহ্ন
সন্ত্রাসী শফির বিরুদ্ধে সত্য বের করার লড়াই শুরু হলো!
আনারুজ্জামান – বিশেষ প্রতিনিধি।
বুধবার বিকেলে পাইকগাছা রিপোর্টার্স ইউনিটির কার্যালয়ে এক তাৎপর্যপূর্ণ সংবাদ সম্মেলনে বিস্ফোরক অভিযোগ তুলে ধরেছেন উপজেলা স্বেচ্ছাসেবক দলের আহ্বায়ক এবং উপজেলা বিএনপির সম্মেলন প্রস্তুতি কমিটির যুগ্ম আহ্বায়ক কাজী সাজ্জাত আহম্মেদ মানিক। লিখিত বক্তব্যে তিনি জানান, সম্প্রতি উপজেলার কাঁটাখালী বাজারে ঘটে যাওয়া একটি ঘটনাকে কেন্দ্র করে তাকে এবং তার সহকর্মীদের বিরুদ্ধে উদ্দেশ্যপ্রণোদিতভাবে মিথ্যা ও বানোয়াট অভিযোগ ছড়ানো হচ্ছে, যার পেছনে রয়েছে রাজনৈতিক প্রতিহিংসা ও ভূমি দখলের মত গুরুতর ষড়যন্ত্র।
কাজী মানিক বলেন, গত ১০ জুন, মঙ্গলবার কাঁটাখালী বাজারে আলোচিত এক সন্ত্রাসী, পরিচিত ডাকাত শফি গাজীর বিরুদ্ধে সাধারণ মানুষ মানববন্ধন করে। এই মানববন্ধনের মাধ্যমে এলাকাবাসী সাহস করে একটি অপরাধীর বিরুদ্ধে মুখ খুললেও, উল্টোভাবে আমি ও আমার সহযোদ্ধারা রাজনৈতিক চক্রান্তের শিকার হই। তিনি অভিযোগ করেন, মানববন্ধনের দিন তাকে, শ্রমিক দলের যুগ্ম আহ্বায়ক শেখ ইব্রাহিম এবং যুবদল নেতা আনারুল ইসলামকে জড়িয়ে একদল দুর্বৃত্ত মিথ্যা বক্তব্য ছড়ায়, যাতে মূল অপরাধীরা আড়াল পায় এবং জনগণের দৃষ্টি অন্যদিকে ঘুরিয়ে দেওয়া যায়।
তিনি আরও বলেন, মূল অপরাধী শফি গাজী দীর্ঘদিন ধরে আওয়ামী লীগের আশ্রয়ে থেকে তার বাহিনী দিয়ে এলাকায় ত্রাস সৃষ্টি করছে। তার অন্যতম সহযোগী মোস্তফা গাজী, ইমরান হোসেন সরদার, বজলুর রহমান ও শেফালী বেগমসহ আরও কয়েকজন আওয়ামী ফ্যাসিস্ট গোষ্ঠীর হয়ে কাজ করছে। তাদের মূল লক্ষ্য হচ্ছে – স্থানীয় রাজনীতিকে কলুষিত করে ব্যক্তিগত লাভ হাসিল করা এবং বিরোধী মতকে দমন করা। এমনকি আমার মৎস্য খাল দখলের উদ্দেশ্যেও তারা সক্রিয়, যা প্রমাণ করে রাজনৈতিক ষড়যন্ত্রের পাশাপাশি অর্থনৈতিক স্বার্থও জড়িত রয়েছে।
মানিক স্পষ্টভাবে জানান, তিনি কখনও কোনো সন্ত্রাসী কার্যকলাপে জড়িত ছিলেন না এবং তার দলের কেউও অপরাধীদের আশ্রয়-প্রশ্রয় দেয় না। বরং যারা এই অপপ্রচার চালাচ্ছে, তারাই দীর্ঘদিন ধরে এলাকায় ভীতি ছড়িয়ে নিজেদের অপরাধমূলক কর্মকাণ্ড চালিয়ে আসছে। তিনি বলেন, “আমার রাজনৈতিক পরিচিতি ও জনপ্রিয়তাকে নষ্ট করতেই তারা মিথ্যার আশ্রয় নিয়েছে। কিন্তু আমি জনগণের ওপর আস্থাশীল। সত্য একদিন প্রকাশ হবেই।”
সংবাদ সম্মেলনে আরও উপস্থিত ছিলেন শ্রমিক দলের যুগ্ম আহ্বায়ক শেখ ইব্রাহিম, স্বেচ্ছাসেবক দল নেতা বিশ্বজিৎ সাধু, সাইফুল ইসলাম, শংকর কুমারসহ বেশ কয়েকজন স্থানীয় নেতৃবৃন্দ। সবাই একবাক্যে দাবি করেন—এটি নিছক রাজনৈতিক হয়রানি এবং প্রকৃত অপরাধীদের রক্ষা করার কৌশল মাত্র।
এই সংবাদ সম্মেলন নতুন করে আলোচনায় এনেছে পাইকগাছার স্থানীয় রাজনীতির অস্থির পরিস্থিতি, যেখানে ক্ষমতা, স্বার্থ ও হুমকির রাজনীতি একসূত্রে গাঁথা হয়ে উঠছে সাধারণ মানুষের জন্য ভয়ংকর এক বাস্তবতায়।