বৃহস্পতিবার, ২৩ এপ্রিল ২০২৬, ০৫:১৫ পূর্বাহ্ন
টিনশেড ঘরে গাঁজার আস্তানা, সাগর এখনও অধরা!
মামুন মোল্লা – খুলনা জেলা প্রতিনিধি
খুলনায় গাঁজার গুদাম! ডিবির গোপন অভিযানে ৬০ কেজি গাঁজা উদ্ধার, পলাতক চিহ্নিত মাদক কারবারি সাগর
খুলনায় আবারও গোপন অভিযানে হোঁচট খেল মাদক চক্র। নগর গোয়েন্দা পুলিশের (ডিবি) গোপন সংবাদের ভিত্তিতে চালানো এক ঝটিকা অভিযানে খুলনা বাইপাস সড়কের পাশে একটি টিনশেড বাড়ি থেকে উদ্ধার করা হয়েছে বিপুল পরিমাণ গাঁজা। মঙ্গলবার (১১ জুন) দিবাগত রাত ১টার দিকে খুলনা মেট্রোপলিটন পুলিশের ডিবি পরিদর্শক (নিরস্ত্র) জনাব তৈমুর ইসলামের নেতৃত্বে একটি চৌকস টিম অভিযান চালিয়ে আড়ংঘাটা থানাধীন মোস্তর মোড় এলাকায় এ সাফল্য অর্জন করে।
ডিবি সূত্রে জানা যায়, মো. হাসানুজ্জামান নামের এক ব্যক্তির টিনশেড বাড়ির ভাড়াটিয়া হিসেবে থাকতেন মো. সাগর নামের এক ব্যক্তি। তার ঘরের ভেতরেই মজুত রাখা ছিল ৬০ কেজি গাঁজা। তবে পুলিশের উপস্থিতি টের পেয়ে চতুর সাগর সুকৌশলে পালিয়ে যেতে সক্ষম হয়। পলাতক সাগর খুলনার খালিশপুর এলাকার বাসিন্দা এবং মাদক ব্যবসায় দীর্ঘদিন ধরে সক্রিয় এক ‘চিহ্নিত মুখ’।
সাগরের ব্যাপারে সিডিএমএস (ক্রাইম ডেটা ম্যানেজমেন্ট সিস্টেম) বিশ্লেষণ করে জানা যায়, তার বিরুদ্ধে খালিশপুর, সোনাডাঙ্গা এবং আড়ংঘাটা থানায় মাদকদ্রব্য নিয়ন্ত্রণ আইনে একাধিক মামলা রয়েছে। এসব মামলার বেশিরভাগই বিচারাধীন রয়েছে এবং সে প্রতিবারই জামিনে বেরিয়ে এসে পুনরায় মাদক ব্যবসা চালিয়ে যাচ্ছে বলে গোয়েন্দা সূত্রে জানা গেছে।
ডিবির এক কর্মকর্তা জানান, “পলাতক আসামি মো. সাগরকে গ্রেপ্তারে অভিযান অব্যাহত রয়েছে। সে দীর্ঘদিন খুলনা মহানগরীর বিভিন্ন এলাকায় গাঁজা ক্রয়-বিক্রয় করে আসছে। এবার তার বিরুদ্ধে কঠোর আইনি ব্যবস্থা নেওয়া হবে।”
এ ঘটনায় আড়ংঘাটা থানায় সাগরের বিরুদ্ধে মাদকদ্রব্য নিয়ন্ত্রণ আইনে নিয়মিত মামলা দায়ের করা হয়েছে। আইন-শৃঙ্খলা রক্ষাকারী বাহিনীর তৎপরতায় খুলনার মাদক চক্রে বড় ধাক্কা লাগলেও, মূল হোতা এখনও অধরা – যা নতুন করে উদ্বেগের জন্ম দিচ্ছে। তবে পুলিশ জানিয়েছে, দ্রুতই তাকে আইনের আওতায় আনা হবে।
স্থানীয়দের অনেকে জানান, সাগর একজন পরিচিত মাদক কারবারি হলেও বহুদিন ধরে পুলিশের চোখ ফাঁকি দিয়ে তার ব্যবসা চালিয়ে আসছিল। এই অভিযানকে তারা স্বাগত জানিয়ে প্রশাসনের প্রতি কৃতজ্ঞতা প্রকাশ করেছেন এবং চিহ্নিত মাদক ব্যবসায়ীদের দ্রুত গ্রেপ্তারের দাবি জানিয়েছেন।
খুলনায় মাদকের বিরুদ্ধে চলমান অভিযানের অংশ হিসেবে এ ধরনের সফলতা আইন-শৃঙ্খলা রক্ষাকারী বাহিনীর জন্য ইতিবাচক বার্তা। জনগণও প্রত্যাশা করছে—এ অভিযানের ধারাবাহিকতা বজায় রেখে মাদকমুক্ত খুলনা গড়ে তোলা সম্ভব হবে।