বৃহস্পতিবার, ২৩ এপ্রিল ২০২৬, ০৫:১৪ পূর্বাহ্ন
রাজশাহীর কোরবানিতে বাজল রেকর্ডের ঢাক, বাকিরা হতবাক!
গোলাম কিবরিয়া – রাজশাহী জেলা প্রতিনিধি
রাজশাহী বিভাগ আবারও প্রমাণ করল কেন তারা দেশের অন্যতম ধর্মনিষ্ঠ অঞ্চল—২০২৫ সালের ঈদুল আজহায় কোরবানির সংখ্যা দিয়ে অন্য সব বিভাগকে পিছনে ফেলে দিয়েছে এই অঞ্চল। গোটা দেশের মানুষ যখন ধর্মীয় আবেগ ও আত্মত্যাগের মহোৎসবে একত্রিত হয়েছেন, তখন রাজশাহীবাসী যেন ঈদুল আজহাকে পরিণত করেছে এক বিশাল উৎসবে।
সরকারি হিসাবে দেখা যাচ্ছে, এবারের ঈদে সারা দেশে কোরবানি দেওয়া হয়েছে ৯১ লাখ ৩৬ হাজার ৭৩৪টি পশু। যার মধ্যে গরু ও মহিষ মিলিয়ে ছিল ৪৭ লাখ ৫ হাজার ১০৬টি এবং ছাগল ও ভেড়া ছিল ৪৪ লাখ ৩০ হাজার ৬৬৮টি। এমনকি অন্যান্য পশুও ছিল ৯৬০টি। এত বিপুল সংখ্যক কোরবানির পশু গোটা জাতির ধর্মীয় আত্মার প্রকাশই যেন।
এই সংখ্যা বের করা হয়েছে স্তরায়িত দৈব নমুনা পদ্ধতির (Stratified Random Sampling) মাধ্যমে, যাতে দেশের প্রতিটি উপজেলার একটি ছোট, একটি মাঝারি এবং একটি বড় গ্রামের অন্তত এক শতাংশ তথ্য সংগ্রহ করা হয়। ফলে এই পরিসংখ্যান শুধু কাগজে-কলমে নয়, মাঠ পর্যায়ের বাস্তবতারই প্রতিচ্ছবি।
তথ্য বিশ্লেষণে বেরিয়ে এসেছে সবচেয়ে চমকপ্রদ দিক—এবার রাজশাহী বিভাগে কোরবানির সংখ্যা দাঁড়িয়েছে ২৩ লাখ ২৪ হাজার ৯৭১টি। সংখ্যাটা শুধু বড়ই নয়, তা দেশের মধ্যে শীর্ষস্থানও দখল করেছে। এরপরে রয়েছে রাজধানী ঢাকা বিভাগ, যেখানে কোরবানি হয়েছে ২১ লাখ ৮৫ হাজার ৪০টি পশু। চট্টগ্রাম বিভাগও পিছিয়ে নেই—সেখানে কোরবানি হয়েছে ১৭ লাখ ৫৩ হাজার ৭৩২টি গবাদিপশু।
অন্যদিকে, ঈদুল আজহার এই ব্যাপক উদযাপনের মাঝে কিছু বিভাগের অংশগ্রহণ তুলনামূলক কম ছিল। সিলেট বিভাগে কোরবানির সংখ্যা সবচেয়ে কম—মাত্র ৩ লাখ ১৯ হাজার ৮২৩টি। এরপর রয়েছে ময়মনসিংহ বিভাগ, যেখানে কোরবানি হয়েছে ৩ লাখ ৮৩ হাজার ১৬২টি পশু।
বাকি বিভাগের কোরবানির চিত্রও প্রকাশিত হয়েছে:
তবে এত বিপুল কোরবানির মাঝেও কিছু পশু অবিক্রীত থেকে গেছে। প্রাণিসম্পদ অধিদপ্তরের হিসাব অনুযায়ী, ৩৩ লাখ ১০ হাজার ৬০৩টি গবাদিপশু বিক্রি না হওয়ায় খামারিদের মাঝে কিছুটা হতাশা দেখা গেলেও, সংশ্লিষ্ট কর্মকর্তারা জানান—এগুলো ভবিষ্যতের বিভিন্ন ধর্মীয় বা সামাজিক অনুষ্ঠানে কাজে লাগানো যাবে। ফলে উৎপাদিত পশুর অপচয়ের তেমন শঙ্কা নেই।
যদিও অনেকে বলছেন, চাহিদার চেয়ে বেশি পশু প্রস্তুত হওয়ায় কিছু পশু অবিক্রীত থেকে গেছে, তবে এটিও খামারিদের সক্ষমতা ও দেশের প্রাণিসম্পদ খাতে ব্যাপক উন্নয়নেরই নিদর্শন।
ধর্মপ্রাণ মুসলমানদের ত্যাগ, উৎসাহ এবং সামর্থ্যের এই ব্যতিক্রমী চিত্র শুধু ঈদের নয়—সমগ্র জাতির ঐক্য, ধর্মীয় অনুভূতি ও প্রাণিসম্পদের বিকাশের প্রমাণ। হয়তো আগামী বছর এ সংখ্যা আরও ছাড়িয়ে যাবে নতুন একটি রেকর্ড গড়তে।