বৃহস্পতিবার, ২৩ এপ্রিল ২০২৬, ০৫:১৪ পূর্বাহ্ন
নারী নির্যাতন ও লুটপাট, বিচার না হলে আবার ঘটবে!
অনলাইন ডেস্ক
কুষ্টিয়ার কুমারখালীতে টাকা ও মাংস চুরির অভিযোগে রিনা খাতুন (৪০) নামের এক নারীকে গাছে বেঁধে নির্মমভাবে পেটানো এবং নির্যাতন চালানো হয়েছে। এ ঘটনার সময় তার মাথার চুল কেটে ফেলা হয়। পাশাপাশি ওই নারীর বাড়িতে হামলা চালিয়ে ভাঙচুর করা হয়েছে এবং গরু, ছাগল ও স্বর্ণালংকারসহ মূল্যবান জিনিসপত্র লুটপাটের অভিযোগও উঠেছে।
এ ঘটনার পর মঙ্গলবার (১০ জুন) কুমারখালী থানায় ভুক্তভোগী রিনা খাতুনের অভিযোগে মামলা দায়ের করা হয়েছে। মামলায় তিনজন নারীকে গ্রেপ্তার করা হয়েছে বলে নিশ্চিত করেছেন কুমারখালী থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) মো. সোলাইমান শেখ।
পূর্বের দিন, সোমবার রাত ৮টার দিকে উপজেলার শিলাইদহ ইউনিয়নের মির্জাপুর গ্রামে এ নৃশংস ঘটনা ঘটে। বর্তমানে রিনা উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সে চিকিৎসাধীন রয়েছেন এবং তার শরীরের বিভিন্ন অংশে আঘাতের চিহ্ন স্পষ্ট দেখা যায়।
ঘটনার কয়েকটি ভিডিও সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে ভাইরাল হয়েছে, যা নিয়ে চলছে ব্যাপক আলোচনা ও সমালোচনা। রিনা খাতুন কুমারখালীর মির্জাপুর গ্রামের জাহাঙ্গীর আলমের স্ত্রী।
রিনা খাতুন গণমাধ্যমকে বলেন, সোমবার বিকেলে প্রতিবেশী ইলেকট্রিক মিস্ত্রি রিপনের বাড়িতে গিয়ে ডাক পেলাম। তখন তার স্ত্রী মুক্তি খাতুন মাংস চুরির ভুল অভিযোগ এনে আমাকে গাছে বেঁধে রাখেন। কিছুক্ষণ পর আমাকে ছেড়ে দেওয়া হলেও রাতেই আবার গ্রামের লোকজন নিয়ে বাড়ি থেকে তুলে এনে গাছে বেঁধে পেটানো হয়। মুক্তি ও পারভিন মিলে আমার মাথার চুলও কেটে দেয়। আমার বাড়িতে ভাঙচুর চালানো হয় এবং গরু, ছাগল ও স্বর্ণালংকারসহ মালামাল লুটপাট করা হয়। এ ভয়াবহতার কারণে আমার স্বামী পালিয়ে গেছেন। আমি সঠিক বিচার ও জড়িতদের কঠোর শাস্তি চাই।
রিনাকে ধরে নিয়ে যাওয়ার সময়ের কয়েকটি ভিডিও ভাইরাল হয়েছে। ভিডিওতে দেখা যায়, বহু লোক তাকে ধরে নিয়ে যাচ্ছে, কেউ তার মাথার কাপড় সরিয়ে দিচ্ছেন, কেউ মারতে উদ্যত, কেউ হুমকি দিচ্ছে। অনেকেই মোবাইলে ভিডিও ধারণ করছে এবং কেউ কেউ এসব দৃশ্যের মধ্যে আনন্দ করছে।
স্থানীয় বাসিন্দারা জানান, গত সোমবার বিকেলে রিনা খাতুন প্রতিবেশী রিপন আলীর বাড়িতে ঢুকে ফ্রিজ থেকে মাংস চুরি করেছে বলে অভিযোগ ওঠে। এরপর তাকে রিপন ও তার স্ত্রী বাড়ির উঠানে পেঁয়ারা গাছে বেঁধে পেটানো হয়। পরে তার স্বামী জাহাঙ্গীর তাকে উদ্ধার করে নিয়ে যান।