বৃহস্পতিবার, ২৩ এপ্রিল ২০২৬, ০৪:৫৬ পূর্বাহ্ন
সরকারি হাসপাতালে ওষুধ দুর্নীতি, রোগীর জীবনে অন্ধকার!
অনলাইন ডেস্ক
সাতক্ষীরা মেডিকেল কলেজ হাসপাতালে রোগীদের যেন দুর্ভোগের অন্ত নেই। সরকারি ওষুধ কিনতে বাধ্য করা, পরীক্ষা-নিরীক্ষার জন্য প্রাইভেট ক্লিনিকে পাঠানো, কমিশন বাণিজ্য এবং হুইলচেয়ার ব্যবহারের নাম করে অর্থ আদায়—এসব অনিয়মের নানা ছবি উঠে এসেছে হাসপাতালে। এসব কারণে সঠিক চিকিৎসা পেতে রোগীরা মারাত্মক সমস্যায় পড়ছেন।
মঙ্গলবার (১০ জুন) রাতের দিকে সাতক্ষীরা মেডিকেলে গিয়ে এসব অভিযোগ পাওয়া যায়।
খবর পেয়ে দ্রুত ঘটনাস্থল পরিদর্শন করেন সেনাবাহিনীর একটি দল। তারা সরকারি ওষুধ বিক্রি ও মেয়াদোত্তীর্ণ ওষুধ রোগীদের দেওয়ার অভিযোগে মেডিসিন বিভাগের ওয়ার্ড বয় হরষিতকে জিজ্ঞাসাবাদ করেন।
হরষিত থেকে সরকারি ওষুধ কিনে বিপাকে পড়া সাতক্ষীরা শহরের কাটিয়া এলাকার মোহাম্মদ আলী বলেন, ঈদের পরদিন আমার স্ত্রীকে হাসপাতালে ভর্তি করি। ডাক্তার প্রেসক্রিপশন দিলে তারা বলল ওষুধ সাপ্লাই নেই, বাইরে থেকে আনতে হবে। এরপর থেকেই আমি বাইরে থেকে ওষুধ আনছি।
মোহাম্মদ আলী আরও জানান, হঠাৎ একজন ওয়ার্ড বয় আমাকে জিজ্ঞেস করল, ওষুধ বাইরে কত টাকা করে কিনি? আমি বললাম ৮৫০ টাকা। সে বলল তার কাছে ওই সরকারি ওষুধ আছে, প্রতি পিস ৫০০ টাকায় দিতে পারবে। আমি বাধ্য হয়ে ওষুধটি কিনেছি।
তিনি জানান, স্ত্রীর শরীরে চারটি ওষুধ প্রয়োগের পর জ্বালা-জ্বালানি হয় এবং জ্বর হয়। এক আত্মীয় মেয়াদোত্তীর্ণ ওষুধ দেখে আমাকে সতর্ক করেন।
সেনা সদস্যদের সামনে ওষুধ বিক্রির কথা স্বীকার করে হরষিত জানান, ছয়-সাত মাস আগে হাসপাতালের ডাস্টবিন থেকে কিছু ওষুধ সংগ্রহ করে বিক্রি করেছেন।
হরষিতের কাছ থেকে কেনা ছয়টি ওষুধের মধ্যে দুইটির মেয়াদ চলতি বছরের ফেব্রুয়ারি থেকে শেষ হয়েছে।
তালা উপজেলার জাতপুর থেকে আসা রবিউল ইসলাম বলেন, আমরা গরিব, আর্থিক অসুবিধায় সরকারি হাসপাতালে আসি। কিন্তু এখানে পরীক্ষা-নিরীক্ষার জন্য টাকা দিতে হয়, যা খুব কষ্টদায়ক।
আরেক রোগীর স্বজন সাইফুল ইসলাম জানান, স্ট্রোক আক্রান্ত আম্মাকে প্রথমে জরুরি বিভাগ থেকে তিনতলা মেডিসিন বিভাগে পাঠানো হয়। হুইলচেয়ার ব্যবহার করতেই ওয়ার্ড বয় টাকা নেয়। প্রেসার ও ডায়াবেটিস পরীক্ষা করাতেও টাকা দাবি করা হয়।
তিনি আরও বলেন, দুপুরে প্রেসার মাপা হলে ডাক্তার আবার মাপতে পাঠায়। ওয়ার্ড বয় বলল এখন আসতে পারব না, আধা ঘণ্টা পর আসতে হবে। আমার আম্মুর অবস্থা খারাপ বলে বললে ওয়ার্ড বয় গম্ভীরভাবে বলল, “আপনার আম্মু মারা যাক, আমার কিছু যায় আসে না।”
আব্দুল গফুর নামের একজন বলেন, এখানে টাকা ছাড়া কোনো কাজ হয় না। পরীক্ষার জন্য, হুইলচেয়ার দিয়ে টয়লেটে নিলে ১০০ টাকা দিতে হয়। টাকা নিয়ে সব কাজ হওয়ায় প্রশ্ন, এটা কি সরকারি হাসপাতাল?
সাতক্ষীরা জেলা নাগরিক কমিটির আহ্বায়ক অ্যাডভোকেট আজাদ হোসেন বেলাল গণমাধ্যমকে বলেন, বিষয়গুলো নিয়ে আমরা হাসপাতাল কর্তৃপক্ষের সঙ্গে বিভিন্নবার মিটিং করেছি। ডাক্তারদের দায়িত্বশীলতার অভাব, গাড়ি গ্যারেজে অতিরিক্ত টাকা আদায়সহ বিভিন্ন অনিয়মের বিরুদ্ধে আমরা প্রতিবাদ করেছি। হাসপাতালের স্টোরে ওষুধ থাকলে সুষ্ঠু বিতরণ নিশ্চিত করা উচিত। ওষুধ ওয়ার্ড বয়ের মাধ্যমে বিক্রি হওয়ায় সুষ্ঠু তদন্ত দরকার।
সাতক্ষীরা মেডিকেল কলেজ হাসপাতালের পরিচালক ডা. কুদরতে খোদা গণমাধ্যমকে বলেন, ওষুধ বিক্রির বিষয়ে আমার কোনো তথ্য ছিল না। রোগীর কেউ অভিযোগ দিলে আমি দ্রুত ব্যবস্থা নেব এবং দায়িত্বশীলদের শাস্তি নিশ্চিত করব।