বুধবার, ০৩ জুন ২০২৬, ০৫:৪৩ পূর্বাহ্ন
মহানবী হজরত মুহাম্মদ (সা.)-এর জীবন মুসলমানদের জন্য এক অনন্য আদর্শ। তিনি শুধু একজন শাসক, দাঈ বা রাষ্ট্রনায়কই ছিলেন না, বরং দাম্পত্য জীবনে স্বামী হিসেবেও ছিলেন অতুলনীয়। তাঁর জীবন থেকে পাওয়া যায় দাম্পত্য সুখের রহস্য, যা আজকের যুগেও সম্পর্কের মজবুত বন্ধনের মূল চাবিকাঠি হতে পারে।
নবিজি (সা.) শুধু নিজেই নয়, বরং সাহাবিদেরও শিক্ষা দিয়েছেন স্ত্রীকে শ্রদ্ধা, সম্মান ও ভালোবাসায় আগলে রাখার। তিনি বলেছেন, ‘তোমাদের মধ্যে সেই ব্যক্তি সর্বোত্তম, যে নিজের স্ত্রীর সঙ্গে উত্তম আচরণ করে। আর আমি আমার স্ত্রীর কাছে তোমাদের মধ্যে সর্বোত্তম।’ (তিরমিজি, ইবনে মাজাহ)
এবার জেনে নেওয়া যাক মহানবী (সা.)-এর ১০টি অসাধারণ সুন্নাহ, যা দাম্পত্য জীবনকে করে তুলবে আরও মধুর ও সুখময়—
১. একই জায়গায় ঠোঁট রেখে পানি পান করা
হজরত আয়েশা (রা.) বলেছেন, তিনি যখন পানীয় পান করতেন, নবিজি (সা.) পরবর্তীতে সেই একই স্থানে মুখ রেখে পান করতেন। এমনকি হাড় চিবানোতেও তিনি একই জায়গায় মুখ দিতেন। (মুসলিম ৫৭৯)
২. স্ত্রীর কাছ থেকে চুল আঁচড়ানো
হজরত আয়েশা (রা.) বলেছেন, ‘আমি হায়েজ অবস্থায় থাকলেও রাসুল (সা.) আমাকে দিয়ে তাঁর চুল আঁচড়িয়ে নিতেন।’ (বুখারি ২৯৫)
৩. স্ত্রীর কোলে মাথা রেখে ঘুমানো
হজরত আয়েশা রাদিয়াল্লাহু আনহা বর্ণনা করেছেন, তিনি এক সফরে নবিজি সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লামের সঙ্গে ছিলেন। তিনি বলেন, আমি তার সঙ্গে দৌড় প্রতিযোগিতা করে তার আগে চলে গেলাম। এরপর আমি মোটা হয়ে যাওয়ার পর তার সঙ্গে আবারও দৌড় প্রতিযোগিতা করলাম, এবার তিনি আমাকে পেছনে ফেলে দিলেন, বিজয়ী হলেন। তিনি বলেন, এ বিজয় সেই বিজয়ের বদলা।’ (আবু দাউদ ২৫৭৮)
৪. স্ত্রীর সঙ্গে দৌড় প্রতিযোগিতা করা
আয়েশা (রা.) বলেন, প্রথমবার নবিজি (সা.)-কে দৌড়ে হারিয়ে দিয়েছিলেন, পরে যখন তিনি মোটা হয়ে যান, নবিজি (সা.) প্রতিশোধ নেন। (আবু দাউদ ২৫৭৮)
৫. স্ত্রীর সঙ্গে গোসল করা
হজরত আয়েশা (রা.) বলেন, ‘আমি ও নবিজি (সা.) একই পাত্র থেকে গোসল করতাম।’ (বুখারি ২৫০)
৬. স্ত্রীর কোলে হেলান দিয়ে কোরআন তেলাওয়াত করা
হজরত আয়েশা রাদিয়াল্লাহু আনহা বর্ণনা করেছেন, নবিজি সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম আমার কোলে হেলান দিয়ে কোরআন তেলাওয়াত করতেন। আর তখন আমি হায়েজের অবস্থায় ছিলাম।’ (বুখারি ২৯৭)
৭. স্ত্রীর মিসওয়াক ব্যবহার করা
হজরত আয়েশা রাদিয়াল্লাহু আনহা বর্ণনা করেছেন যে, ‘আবদুর রহমান ইবনু আবু বকর রাদিয়াল্লাহু আনহু নবিজি সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লামের কাছে এলেন। তখন আমি নবিজি সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লামকে আমার বুকে হেলান দেয়া অবস্থায় রেখেছিলাম এবং আবদুর রহমানের হাতে তাজা মিসওয়াকের ডাল ছিল যা দিয়ে সে দাঁত পরিষ্কার করছিল। তখন রাসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম তার দিকে দৃষ্টি নিবদ্ধ করলেন। আমি মিসওয়াকটি নিলাম এবং তা চিবিয়ে নরম করলাম। তারপর তা নবিজি সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লামকে দিলাম। তখন নবিজি সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম তা দিয়ে দাঁত মর্দন করলেন। আমি তাকে এর আগে এত সুন্দরভাবে মিসওয়াক করতে আর কখনও দেখিনি। ইন্তিকালের আগে নবিজি (সা.) আয়েশা (রা.)-এর সাহায্যে দাঁত মিসওয়াক করেন এবং বলেন, ‘উচ্চে সমাসীন বন্ধুর সঙ্গে মিলিত হতে চাই।’ (বুখারি ৪৪৩৮)
৮. ঘর থেকে বের হওয়ার সময় স্ত্রীকে চুমু দেওয়া
নামাজের জন্য বের হওয়ার আগে নবিজি (সা.) তাঁর এক স্ত্রীকে চুম্বন করে বের হতেন। (ইবনে মাজাহ ৫০২)
৯. স্ত্রীর প্রশংসা করা
তিনি বলতেন, আয়েশার মর্যাদা অন্য নারীদের তুলনায় তেমন, যেমন সুস্বাদু খাবারের মধ্যে সেরা খাবার সারীদ। (বুখারি ৩৪১১)
১০. স্ত্রীর কাজে সহায়তা করা
নবিজি (সা.) ঘরের কাজ করতেন এবং পরিবারের কাজে সহায়তা করতেন। (বুখারি ৬৭৬)
আধুনিক যুগের দাম্পত্য জীবনে সুখী হতে চাইলে নবিজি (সা.)-এর সুন্নাহগুলো অনুসরণ করাই হতে পারে চূড়ান্ত সমাধান।