বুধবার, ০৩ জুন ২০২৬, ০৫:৪৩ পূর্বাহ্ন
নামাজ ইসলামের পাঁচটি স্তম্ভের অন্যতম এবং এটি ঈমানের পরেই সবচেয়ে গুরুত্বপূর্ণ ফরজ বিধান। নামাজ আদায়ের ক্ষেত্রে কিছু নির্দিষ্ট নীতিমালা রয়েছে, যা অবশ্যই মানা উচিত। মসজিদে সকল মুসল্লির অধিকার সমান; আগে যে যাবে, সে-ই আগে জায়গা পাবে। এটাই ইসলামি শরিয়তের নিয়ম। অনেকেই প্রশ্ন করেন, জায়নামাজ বিছিয়ে নামাজের স্থান নির্ধারণ করা বৈধ কি না।
ফুকাহায়ে কেরাম এর উত্তরে বলেন যে, জায়নামাজ বিছিয়ে আগে থেকেই জায়গা নির্ধারণ করে রাখা শরিয়তের দৃষ্টিতে সঠিক নয়। এটি ইসলামি শরিয়তের মূলনীতির সঙ্গে সামঞ্জস্যপূর্ণ নয়। নামাজের প্রথম কাতারে স্থান পেতে হলে আগে মসজিদে যাওয়া উচিত। পরে এসে আগে থেকে জায়নামাজ বিছিয়ে জায়গা দখল করা এবং অন্য মুসল্লিদের কষ্ট দিয়ে সামনে যাওয়াও অনুচিত।
মসজিদে প্রবেশের পর মহান আল্লাহর ঘরে সব ধরনের সামাজিক ভেদাভেদ, গৌরব ও অহংকার ভুলে গিয়ে একই কাতারে দাঁড়ানো ইসলামের শিক্ষার অন্যতম অংশ।
একটি হাদিসে উল্লেখ আছে, আল্লাহর রাসুল সল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম একবার জুমার খুতবা দিচ্ছিলেন। তখন এক ব্যক্তি অন্যদের ঘাড় ডিঙিয়ে সামনে যাওয়ার চেষ্টা করছিল। রাসুল সল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম তাকে বললেন, ‘বসো! তুমি মানুষকে কষ্ট দিলে।’ (আবু দাউদ: ১১১৮)।
মানুষের ঘাড়ের ওপর দিয়ে যাওয়ার ফলে অন্যদের মধ্যে বিরক্তি সৃষ্টি হয়। এ কারণেই আল্লাহর রাসুল সল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম এমন কাজ নিষেধ করেছেন। (আল বাহরুর রায়েক: ২/৩৬)