বুধবার, ০৩ জুন ২০২৬, ০৫:৪৪ পূর্বাহ্ন
সাতক্ষীরায় জামায়াতে ইসলামীর আয়োজনে যাকাত শীর্ষক এক সেমিনারে আলোচনার ঝড় ওঠে, যেখানে বক্তারা যাকাত না দেওয়া নিয়ে কঠোর মন্তব্য করেন। জামায়াতের কেন্দ্রীয় সাংগঠনিক সম্পাদক মুহাদ্দিস আব্দুল খালেক বলেন, “যাকাতের ব্যাপারে গরিমসি, অনীহা ও সংকীর্ণতা শিরকের লক্ষণ। কেউ যাকাত অস্বীকার করলে সে কাফের, আর কেউ যাকাতের একটি রশি দিতেও রাজি না হলে সে মুনাফিক।”
সাতক্ষীরা সদর উপজেলা জামায়াতের আয়োজনে ৫ রমজান (৬ মার্চ) আল-আমিন ট্রাস্টের কাজী শামসুর রহমান মিলনায়তনে অনুষ্ঠিত সেমিনারে তিনি আরও বলেন, “কুরআনে নামাজের পাশাপাশি যাকাতের গুরুত্ব স্পষ্টভাবে উল্লেখ রয়েছে। যাকাতের মাধ্যমে সম্পদের পবিত্রতা অর্জিত হয় এবং বরকত বৃদ্ধি পায়।”
তবে তার সবচেয়ে বিতর্কিত বক্তব্য আসে তখন, যখন তিনি বলেন, “যাকাতের ব্যাপারে তুচ্ছ-তাচ্ছিল্য করা বা গুরুত্ব না দেওয়া কুফর। যাকাতের প্রতি অনীহা কিংবা অবহেলা ঈমানের পরিপন্থী এবং হত্যাযোগ্য অপরাধ।”
জামায়াতের বক্তব্যে এতটা কড়া দৃষ্টিভঙ্গি জনমনে মিশ্র প্রতিক্রিয়া তৈরি করেছে। বিশেষজ্ঞ মহলের মতে, ধর্মীয় বিষয়ে এমন চরমপন্থী অবস্থান সামাজিক বিভক্তি সৃষ্টি করতে পারে।
সেমিনারে সভাপতিত্ব করেন সাতক্ষীরা সদর উপজেলা জামায়াতের আমীর মাওলানা মোশাররফ হোসেন। বিশেষ অতিথি হিসেবে প্রবন্ধ উপস্থাপন করেন জেলা আমীর উপাধ্যক্ষ শহিদুল ইসলাম মুকুল। সঞ্চালনায় ছিলেন উপজেলা জামায়াতের সেক্রেটারি মাওলানা হাবিবুর রহমান।
অনুষ্ঠানে আরও বক্তব্য রাখেন জেলা জামায়াতের সেক্রেটারি মাওলানা আজিজুর রহমান, সহকারী সেক্রেটারি প্রভাষক ওবায়দুল্লাহ, সাবেক সদর উপজেলা আমীর মাওলানা শাহাদাৎ হোসেন, উপজেলা নায়েবে আমীর মাস্টার হাবিবুর রহমানসহ জেলা ও উপজেলা পর্যায়ের নেতৃবৃন্দ।
এই বক্তব্যের পর রাজনৈতিক ও সামাজিক মহলে আলোচনা শুরু হয়েছে। কেউ একে ইসলামী বিধান অনুযায়ী স্বাভাবিক মনে করছেন, আবার কেউ এটিকে চরমপন্থী দৃষ্টিভঙ্গি বলে অভিহিত করছেন। আপনি কী ভাবছেন? যাকাতের বিষয়ে এমন কঠোর অবস্থান কতটা যুক্তিসঙ্গত?