বৃহস্পতিবার, ১৬ এপ্রিল ২০২৬, ০২:০৮ পূর্বাহ্ন
হারাম উপার্জনকারীর ইবাদত আল্লাহর দরবারে গ্রহণযোগ্য হয় না—এ কথা ইসলাম স্পষ্টভাবে নির্দেশ করে।
এই ক্ষণস্থায়ী দুনিয়ায় জীবনধারণের জন্য মানুষকে উপার্জন করতেই হয়। চাকরি, ব্যবসা-বাণিজ্য কিংবা কৃষিকাজসহ নানা উপায়ে মানুষ জীবিকা নির্বাহ করে। ইসলাম উপার্জনকে উৎসাহিত করেছে, তবে তা অবশ্যই হতে হবে হালাল ও বৈধ পথে। হালাল উপায়ে অর্জিত সম্পদে আল্লাহ সন্তুষ্ট হন, আর হারাম উপায়ে উপার্জন করলে আল্লাহ অসন্তুষ্ট হন। হারাম সম্পদ ভক্ষণ করলে ইবাদত ও দোয়া কবুল হয় না। অনেকেই নামাজ, রোজা, হজ আদায় করেন এবং দোয়া করেন, কিন্তু জীবনে শান্তি বা বরকত আসে না। এর অন্যতম কারণ হারাম উপার্জন। আল্লাহ তায়ালা পবিত্র কোরআনে ইরশাদ করেন, ‘হে মানবজাতি। পৃথিবীতে যা কিছু বৈধ ও পবিত্র খাদ্যবস্তু রয়েছে, তা থেকে তোমরা আহার কর এবং শয়তানের পদাঙ্ক অনুসরণ করো না, নিশ্চয় সে তোমাদের প্রকাশ্যে শত্রু।’ (সুরা বাকারা : ১৬৮)। এখানে পবিত্র খাদ্যের অর্থ হলো হালাল ও বৈধ উপায়ে অর্জিত খাদ্য।
আল্লাহ তায়ালা আরও বলেন, ‘হে ইমানদাররা, তোমাদেরকে আমি যে সব পবিত্র বস্তু দিয়েছি, তা থেকে আহার করো এবং আল্লাহর নিকট কৃতজ্ঞতা প্রকাশ করো, যদি তোমরা শুধু তারই ইবাদাত করে থাকো।’ (সুরা বাকারা : ১৭২)। আরও ইরশাদ হয়েছে, ‘নামাজ সমাপ্ত হলে তোমরা পৃথিবীতে (হালাল উপার্জনের জন্য) ছড়িয়ে পড়ো এবং আল্লাহর অনুগ্রহ তালাশ কর ও আল্লাহকে অধিক পরিমাণে স্মরণ কর, যাতে তোমরা সফলকাম হও।’ (সুরা জুমআ : ১০)। অর্থাৎ নামাজের পর হালাল জীবিকার সন্ধান করা গুরুত্বপূর্ণ নির্দেশ। অসৎ উপায়ে উপার্জিত সম্পদ থেকে দান-সদকা করলেও তা গ্রহণযোগ্য হয় না। হারাম সম্পদের মাধ্যমে আল্লাহর সন্তুষ্টি অর্জন সম্ভব নয়। রাসুলুল্লাহ (সা.) বলেন, ‘পবিত্রতা ছাড়া নামাজ আর চুরি ও আত্মসাতের সম্পদের সদকা কবুল হয় না।’ (মুসলিম)
মানবদেহের যে অংশ হারাম সম্পদ দ্বারা পুষ্ট হয়, তা জান্নাতে প্রবেশের যোগ্য নয়। হারাম উপার্জন মানুষকে জাহান্নামের দিকে ধাবিত করে। রাসুল (সা.) ইরশাদ করেন, ‘যে ব্যক্তি হারাম সম্পদ অর্জন করে, তা থেকে সদকা করলেও তা কবুল হয় না। ব্যয় করলেও তাতে বরকত থাকে না। আর যদি সেই সম্পদ রেখে মারা যায়, তা জাহান্নামের পাথেয় হবে। আল্লাহ তায়ালা মন্দ দ্বারা মন্দ দূর করেন না; বরং ভালো কাজ দ্বারা মন্দ দূর করেন। নাপাক জিনিস কখনো নাপাক দূর করতে পারে না।’ (মুসনাদে আহমদ : ৩৬৭২)
হারাম খাদ্য মানুষের শরীরের প্রতিটি অংশে প্রভাব ফেলে। ফলে তার দোয়া আল্লাহর দরবারে গ্রহণযোগ্য হয় না। রাসুলুল্লাহ (সা.) বলেন, ‘এক ব্যক্তি দীর্ঘ সফরে ক্লান্ত হয়ে রাতে জেগে নামাজ পড়ে এবং আল্লাহর কাছে দোয়া করে—হে আল্লাহ! আমার গুনাহ মাফ করো। কিন্তু তার খাদ্য, পানীয় ও পোশাক সবই হারাম। তাই সে যতই আন্তরিকতার সঙ্গে দোয়া করুক, তা কবুল হবে না।’ (মেশকাত)। সুতরাং উপার্জনের ক্ষেত্রে সতর্ক থাকা এবং হারাম থেকে দূরে থাকা অত্যন্ত জরুরি।