মঙ্গলবার, ২১ এপ্রিল ২০২৬, ১১:১৪ অপরাহ্ন
কক্সবাজারে বিমানবাহিনীর ঘাঁটিতে এক বিস্ময়কর সংঘর্ষের ঘটনা ঘটেছে। স্থানীয় একদল দুর্বৃত্তের হামলায় বিমানবাহিনীর চার সদস্য আহত হয়েছেন, পাশাপাশি এক যুবকের মৃত্যুকে ঘিরে ছড়িয়ে পড়েছে নানান গুঞ্জন।
সোমবার (২৪ ফেব্রুয়ারি) কক্সবাজার সংলগ্ন সমিতিপাড়ার কয়েকশো লোকজন হঠাৎ বিমানবাহিনী ঘাঁটির দিকে ধেয়ে আসে। আইএসপিআর-এর সংবাদ বিজ্ঞপ্তি জানায়, ঘটনার সূত্রপাত হয় তখন, যখন বিয়াম স্কুলের পাশের চেকপোস্টে এক ব্যক্তির মোটরসাইকেলের কাগজপত্র না থাকায় তাকে বিমানবাহিনীর প্রভোস্ট জিজ্ঞাসাবাদের জন্য ঘাঁটির ভেতরে নিয়ে যায়। তবে বিষয়টি স্থানীয়দের মধ্যে উত্তেজনার জন্ম দেয়, যা মুহূর্তেই ভয়াবহ রূপ নেয়।
প্রত্যক্ষদর্শীদের মতে, দুই শতাধিক উত্তেজিত স্থানীয় লোকজন চেকপোস্ট এলাকায় জড়ো হয়ে সংঘর্ষে জড়িয়ে পড়ে। পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণে আনতে বিমানবাহিনী ফাঁকা গুলি ছোড়ে, যা প্রচারিত বিভিন্ন গুজবের বিপরীতে প্রাণঘাতী ছিল না। কিন্তু এই সংঘর্ষে ইট-পাটকেলের আঘাতে চার বিমানসেনা আহত হন, যার মধ্যে একজন কর্মকর্তা রয়েছেন। এদিকে, শিহাব কবির নাহিদ নামে এক যুবক গুরুতর আহত হলে, তাকে দ্রুত হাসপাতালে নেওয়া হয়, কিন্তু শেষ রক্ষা হয়নি।
আইএসপিআর জানায়, একটি স্বার্থান্বেষী গোষ্ঠী এই ঘটনার ভুল ব্যাখ্যা ছড়িয়ে বিভ্রান্তি তৈরি করছে। বিশেষ করে, বিমানবাহিনীর গুলিতে ওই যুবকের মৃত্যু হয়েছে বলে সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে অপপ্রচার চালানো হচ্ছে। তবে প্রকাশিত গুলির খোসার ছবি পর্যালোচনা করে দেখা গেছে, সেগুলো কেবল শব্দ তৈরির জন্য ব্যবহৃত ফাঁকা গুলি, যা প্রাণঘাতী নয়।
এদিকে, বিমানবাহিনী ঘাঁটির নাম নিয়ে আরও একটি বিভ্রান্তি ছড়ানো হচ্ছে। কিছু সংবাদমাধ্যম ইচ্ছাকৃতভাবে ঘাঁটিটির নাম ‘বিমানবাহিনী ঘাঁটি শেখ হাসিনা’ উল্লেখ করছে, যা সম্পূর্ণ ভিত্তিহীন। সরকারি প্রজ্ঞাপন অনুযায়ী, ২০২১ সালের ২ ডিসেম্বর থেকে এটি ‘বিমানবাহিনী ঘাঁটি কক্সবাজার’ নামে পরিচিত এবং সেটিই বর্তমানে বহাল রয়েছে।
আইএসপিআর আরও জানায়, রাষ্ট্রীয় গুরুত্বপূর্ণ স্থাপনা রক্ষায় বিমানবাহিনীর সদস্যরা সর্বোচ্চ সতর্কতার সঙ্গে দায়িত্ব পালন করেছে। স্থানীয়রা ইট-পাটকেল ছোড়ার পাশাপাশি ঘাঁটির আশপাশের ঝোপঝাড়ে আগুন দেওয়ার চেষ্টাও করেছিল। তবে পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণে আসার পর বড় ধরনের ক্ষয়ক্ষতির আশঙ্কা আর থাকেনি।
বিমানবাহিনী এই অনাকাঙ্ক্ষিত ঘটনায় নিহত যুবকের পরিবারকে গভীর শোক ও সমবেদনা জানিয়েছে। পাশাপাশি তারা দেশবাসীকে বিভ্রান্তিকর তথ্য থেকে সতর্ক থাকার আহ্বান জানিয়ে বলেছে, বিমানবাহিনী জনগণের নিরাপত্তা ও কল্যাণে সর্বদা নিয়োজিত থাকবে।