রবিবার, ১৯ জুলাই ২০২৬, ১২:৩৭ পূর্বাহ্ন
গাইবান্ধার পলাশবাড়ীতে ৮১ ফুট উচ্চতার ‘রামমূর্তি’ নির্মাণের ঘোষণা দিয়ে আলোচনায় আসা হরিদাস চন্দ্র তরণী দাসকে গ্রেপ্তারের পর চার দিনের রিমান্ডে পাঠানোর নির্দেশ দিয়েছেন আদালত। সন্দেহজনক আর্থিক লেনদেনসংক্রান্ত মামলায় তাকে জিজ্ঞাসাবাদের জন্য এ আদেশ দেওয়া হয়।
সোমবার বিকেলে ঢাকার মেট্রোপলিটন ম্যাজিস্ট্রেট রিপন হোসেনের আদালত রিমান্ড মঞ্জুর করেন। এর আগে মামলার তদন্ত কর্মকর্তা ডিবি পুলিশের ইন্সপেক্টর (নিরস্ত্র) কে এম রাকিবুল হুদা আসামিকে আদালতে হাজির করে সাত দিনের রিমান্ড আবেদন করেন।
মামলার অভিযোগে বলা হয়েছে, সাধারণ ব্যবসার আড়ালে হরিদাস চন্দ্র তরণী দাস দেশি-বিদেশি মুদ্রা পাচার এবং হুন্ডি ব্যবসার সঙ্গে জড়িত। অনুসন্ধানে তার নামে থাকা পাঁচটি ব্যাংক হিসাব ও চারটি এমএফএস হিসাবে বিভিন্ন সন্দেহজনক উৎস থেকে মোট ৯ কোটি ৩৫ লাখ ৩২ হাজার ৪৫১ টাকা জমার তথ্য পাওয়া গেছে। অভিযোগ অনুযায়ী, এসব হিসাবে দেশের বিভিন্ন স্থান থেকে ব্যবসাবহির্ভূত নগদ অর্থ জমা হয়েছে।
গণমাধ্যম-এর গাইবান্ধা প্রতিনিধি প্রত্যক্ষদর্শীদের বরাতে জানান, রোববার রাতে জেলা গোয়েন্দা পুলিশ (ডিবি) পরিচয়ে কয়েকজন ব্যক্তি মন্দির প্রাঙ্গণে প্রবেশ করেন। পরে তারা হরিদাস চন্দ্রকে বাইরে ডেকে এনে হাতকড়া পরিয়ে একটি গাড়িতে করে নিয়ে যান।
পলাশবাড়ী থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) সরোয়ার আলম খান বলেন, এ ঘটনাকে কেন্দ্র করে মন্দির এলাকায় কোনো অপ্রীতিকর পরিস্থিতির সৃষ্টি হয়নি। আইনশৃঙ্খলা পরিস্থিতি স্বাভাবিক রয়েছে এবং সেখানে পর্যাপ্ত পুলিশ মোতায়েন করা হয়েছে।
হরিদাস চন্দ্র তরণী দাস গাইবান্ধার পলাশবাড়ী উপজেলার হোসেনপুর ইউনিয়নের কোমরপুরের মধ্যরামচন্দ্রপুর (নয়াপাড়া) গ্রামের বাসিন্দা। তিনি মৃত গোপিনাথ চন্দ্র তরণী দাসের ছেলে। ১৯৯১ সালে তার জন্ম। তার তিন ভাই—গোবিন্দ, গৌরাঙ্গ ও আনন্দ চন্দ্র দাস—দীর্ঘদিন ধরে ভারতে বসবাস করছেন।
ষষ্ঠ শ্রেণিতে অধ্যয়নরত অবস্থায় তিনি ভারতে যান। সেখানে উচ্চ মাধ্যমিক সম্পন্ন করার পাশাপাশি ইলেক্ট্রনিক বিষয়ে দুই বছরের বিশেষ প্রশিক্ষণ নেন। পরে দেশে ফেরার পর তার মধ্যে উগ্র হিন্দুত্ববাদী কর্মকাণ্ডের সম্পৃক্ততা শুরু হয়েছে বলে ধারণার কথা প্রতিবেদনে উল্লেখ করা হয়েছে।
২০১০ সালে দেশে ফিরে রাজধানীর উত্তরায় পুরোনো এসি মেকানিক হিসেবে কাজ শুরু করেন। গোয়েন্দা সংস্থার নথি অনুযায়ী, ২০১৯ সালে ইসলাম ধর্ম গ্রহণ করে তিনি তাওহীদ ইসলাম নাম ব্যবহার শুরু করেন। একই বছরে ময়মনসিংহের ফুলবাড়িয়া উপজেলার ছাইতানতলা এলাকার সবজি বিক্রেতা রফিকুল ইসলামের মেয়ে স্মৃতি আক্তারকে বিয়ে করেন।
গণমাধ্যম-এর অনুসন্ধানে দাবি করা হয়েছে, একসময় রোহিঙ্গা ক্যাম্পে কথিত ব্যবসায় সক্রিয় থাকাকালে শেখ হাসিনার ফুপাতো ভাই শেখ সেলিমের সঙ্গে তার ঘনিষ্ঠ সম্পর্ক গড়ে ওঠে।
প্রতিবেদনে আরও বলা হয়েছে, মানবতাবিরোধী অপরাধের দায়ে মৃত্যুদণ্ডপ্রাপ্ত পলাতক প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনার সঙ্গে নিজের ছবি যুক্ত করে ২০১৪ সালের দিকে তিনি প্রতারণা শুরু করেন। এরপর চাকরি, বদলি, টেন্ডারসহ বিভিন্ন বিষয়ে তদবিরের আশ্বাস দিয়ে বিভিন্ন ব্যক্তির কাছ থেকে অর্থ আত্মসাতের অভিযোগ রয়েছে।
এর আগে ২০১৮ সালে প্রতারণার একটি মামলায় র্যাব তাকে গ্রেপ্তার করেছিল। পরে তিনি জামিনে মুক্তি পান।
চলতি বছরের জুনে গাইবান্ধার পলাশবাড়ীতে দেশের বৃহত্তম ‘রামমূর্তি’ নির্মাণের ঘোষণা দিয়ে আলোচনায় আসেন হরিদাস চন্দ্র। পরে ধর্মীয় সম্প্রীতি ও আইনশৃঙ্খলা পরিস্থিতি বজায় রাখার স্বার্থে জুনের শেষ দিকে শ্রী রাধা গোবিন্দ ও কালী মন্দির কমিটি নির্মাণকাজ স্থগিতের ঘোষণা দেয়।