শনিবার, ০২ মে ২০২৬, ০৮:০১ পূর্বাহ্ন
২০২৫ সালে কানাডায় প্যারেন্ট অ্যান্ড গ্রান্ডপ্যারেন্টস স্পন্সরশিপ (পিজিপি) প্রোগ্রামের অধীনে স্থায়ী আবাসনের (পিআর) আবেদন গ্রহণ করা বন্ধ হয়ে যাবে বলে জানানো হয়েছে কানাডার অভিবাসন, উদ্বাস্তু ও নাগরিকত্ব বিষয়ক বিভাগ (আইআরসিসি) থেকে। এ পরিবর্তনের ফলে কানাডায় স্থায়ীভাবে বসবাসকারী নাগরিকরা আর তাদের বাবা-মা, দাদা-দাদি অথবা নানা-নানির জন্য পিআর পেতে পারবেন না।
আইআরসিসি জানিয়েছে, ২০২৪ সালে যারা পিজিপির জন্য আবেদন করেছিলেন, তাদের আবেদনই নতুন বছরে বিবেচনা করা হবে। তবে কেউ যদি চান, তারা সুপার ভিসা ব্যবস্থার মাধ্যমে নিজের আত্মীয়দের কানাডায় থাকার সুযোগ দিতে পারেন, যার মাধ্যমে তারা ৫ বছর একটানা কানাডায় থাকতে পারবেন।
আইআরসিসি ২০২৫ সালে অভিবাসী সংখ্যা কমানোর জন্য পিআর সুবিধা ২০% কমানোর সিদ্ধান্ত নিয়েছে, যার প্রভাব পড়েছে পিজিপি প্রোগ্রামের ওপর। পিজিপি প্রোগ্রামে ২০২৫ সালে সাড়ে ২৪ হাজার মানুষের স্থায়ী আবাসনের ব্যবস্থা করা হবে। কানাডার প্রধানমন্ত্রী জাস্টিন ট্রুডো সম্প্রতি জানিয়েছেন যে, অভিবাসীর সংখ্যা কমানোর লক্ষ্য নিয়ে কানাডার অভিবাসন নীতি আরও কঠোর করা হবে।
এ বছর, প্রতি বছর ৫ লাখ পিআর প্রদান করার পরিকল্পনা ছিল, তবে সেটি কমিয়ে ৩ লাখ ৯৫ হাজার অভিবাসীকে পিআর দেওয়ার লক্ষ্য রাখা হয়েছে। পরবর্তী কয়েক বছরেও পিআর সংখ্যা কমানোর পরিকল্পনা রয়েছে। ২০২৫ সালে ৯৪,৫০০ ফ্যামিলি ভিসা দেওয়ার পরিকল্পনা রয়েছে, যার মধ্যে ৭০ হাজার ভিসা পাবে স্থায়ীভাবে বসবাসকারী নাগরিকদের স্ত্রী ও সন্তানরা।
এই নীতি গ্রহণের উদ্দেশ্য হলো কানাডার জনসংখ্যা বৃদ্ধি রোধ করা, কারণ অতিরিক্ত অভিবাসন জনস্বাস্থ্য এবং আবাসন সেবায় চাপ সৃষ্টি করছে। অভিবাসন বিষয়ে কঠোর নীতি ফলে ২০২৫ সালে প্রায় ১২ লাখ অস্থায়ী বিদেশি নাগরিককে কানাডা ছাড়তে হতে পারে, এমন খবরও প্রকাশিত হয়েছে।
কানাডায় বসবাসরত বাংলাদেশিরা এই পরিবর্তনের ফলে উদ্বিগ্ন হয়ে পড়েছেন। কেরানীগঞ্জের প্রসেনজিৎ দাশ জয় (৩৫), যিনি কানাডার একটি রেস্তোরাঁয় কাজ করছেন, বলেন, “পিআর পেতে এখন আর আগের মতো সহজ নয়, কারণ পয়েন্ট সিস্টেম কঠিন করা হয়েছে।” আরেক ব্যবসায়ী সালাহউদ্দিন বাচ্চু (৩৭) জানান, একসময় তার পরিবারকে আমন্ত্রণ জানানো সহজ ছিল, কিন্তু এখন তা কঠিন হয়ে গেছে। পিজিপির জন্য অনেক আবেদনকারী থাকলেও লটারির মাধ্যমে সুযোগ পেতে পারা কিছু ব্যক্তির জন্যই তা সম্ভব।
বাংলাদেশ হাইকমিশনের সর্বশেষ তথ্য অনুযায়ী, বর্তমানে কানাডায় এক লাখের বেশি বাংলাদেশি স্থায়ীভাবে বসবাস করছেন। ৮০’র দশকের শেষের দিকে বাংলাদেশিদের সংখ্যা বৃদ্ধি পেতে শুরু করে এবং গত দুই দশকে তা উল্লেখযোগ্যভাবে বেড়েছে। তবে বর্তমানে পিআর সুবিধার জন্য নতুন কঠোর নিয়মের কারণে তাদের অবস্থা আরও জটিল হয়ে উঠেছে।