মঙ্গলবার, ১৬ জুন ২০২৬, ০৫:৩৪ অপরাহ্ন
ফিরছে না ফ্যাসিবাদ, জনতার জাগরণে জেগে উঠছে ঐকমত্য!
অনলাইন ডেস্ক
অধ্যাপক আলী রীয়াজ বলেছেন, দেশের জনগণ আর ফ্যাসিবাদের করাল ছায়া দেখতে চায় না—তারা চায় গণতন্ত্রের আলোয় উদ্ভাসিত এক রাষ্ট্র, যেখানে নাগরিক অধিকার কেবল কাগজে-কলমে নয়, বাস্তবেও রক্ষা পায়।
বৃহস্পতিবার (১৫ মে) বাংলাদেশের সমাজতান্ত্রিক দল (বাসদ) এবং জাতীয় ঐকমত্য কমিশনের মধ্যকার এক গুরুত্বপূর্ণ সংলাপের সূচনালগ্নে এমন মন্তব্য করেন কমিশনের সহসভাপতি অধ্যাপক আলী রীয়াজ।
তিনি বলেন, “বাংলাদেশের মানুষ প্রতিবার ইতিহাসে রক্ত দিয়ে ফ্যাসিবাদের পতন ঘটিয়েছে—জুলাইয়ের অভ্যুত্থানে তা স্পষ্ট। তারা আশা করে, আর কোনো অন্ধকার অতীত ফিরবে না। গণতান্ত্রিক কাঠামো, সমান অধিকার আর ন্যায়ভিত্তিক রাষ্ট্রচিন্তাই জনগণের আকাঙ্ক্ষা।”
আলোচনার শুরুতেই তিনি এই সংলাপ উদ্যোগকে ‘জনগণের প্রত্যাশার প্রতিধ্বনি’ হিসেবে আখ্যায়িত করেন। মতবিরোধ থাকতেই পারে, তবে গণতান্ত্রিক চর্চার মর্মবাণী হলো—সংলাপ, ছাড় আর দায়িত্বশীলতা। বিশেষ করে কাঠামোগত সংস্কারে রাজনৈতিক দলগুলোর সুদৃঢ় অঙ্গীকার এখন সময়ের দাবি।
তিনি আরও বলেন, “জুলাই-আগস্টে মানুষ শুধু রাগ দেখায়নি, তারা আশাও প্রকাশ করেছে। তারা এমন একটি বাংলাদেশ চায় যেখানে কোনো রকম বৈষম্য থাকবে না—নয় অর্থনৈতিক, নয় সামাজিক।”
ঐকমত্য কমিশন এ কারণেই রাজনৈতিক দলগুলোর সঙ্গে আলোচনার টেবিলে বসেছে—গণতান্ত্রিক রূপরেখা তৈরির পথনকশা নির্ধারণে। এ কাজে দলগুলোর আন্তরিক সহযোগিতা এখন অতীব প্রয়োজন।
অধ্যাপক রীয়াজের নেতৃত্বে আয়োজিত এই বৈঠকে অংশ নেন কমিশনের সদস্য বিচারপতি মো. এমদাদুল হক, বদিউল আলম মজুমদার, সফর রাজ হোসেন, ইফতেখারুজ্জামান এবং প্রধান উপদেষ্টার বিশেষ সহকারী (ঐকমত্য) মনির হায়দার।
অন্যদিকে বাসদের পক্ষ থেকে দলের কেন্দ্রীয় সাধারণ সম্পাদক বজলুর রশীদ ফিরোজের নেতৃত্বে উপস্থিত ছিলেন সহকারী সাধারণ সম্পাদক রাজেকুজ্জামান রতন, কেন্দ্রীয় ফোরামের সদস্য নিখিল দাস, জনার্দন দত্ত নান্টু, শম্পা বসু, মনীষা চক্রবর্ত্তী, জুলফিকার আলী, আহসান হাবিব বুলবুল, খালেকুজ্জামান লিপন, আবু নাঈম খান বিপ্লব এবং গাজীপুর জেলা কমিটির সদস্যসচিব রাহাত আহম্মেদ।