মঙ্গলবার, ১৬ জুন ২০২৬, ০৫:৩৩ অপরাহ্ন
আওয়ামী লীগ নিষিদ্ধ, রাজনীতিতে ভাঙলো দীর্ঘস্থায়ী আধিপত্যের দাপট!
অনলাইন ডেস্ক
নিষিদ্ধ হলো আওয়ামী লীগ, নেতা-কর্মীদের বিরুদ্ধে কার্যকর হলো নিষেধাজ্ঞা। মঙ্গলবার (১৩ মে) অন্তর্বর্তীকালীন সরকারের এক বিস্ফোরক বিবৃতিতে এ সিদ্ধান্তের ঘোষণা আসে। এর আগে সোমবার (১২ মে) স্বরাষ্ট্র মন্ত্রণালয়ের মাধ্যমে জারি হয় আলোচিত প্রজ্ঞাপন, যার মাধ্যমে দলটির যাবতীয় রাজনৈতিক কর্মকাণ্ডে নিষেধাজ্ঞা আরোপ করা হয়। আজকের বিবৃতিতে সরকার সেই সিদ্ধান্তের পুঙ্খানুপুঙ্খ ব্যাখ্যা দেয়।
বিবৃতিতে বলা হয়, ‘বাংলাদেশ সরকারের স্বরাষ্ট্র মন্ত্রণালয় সন্ত্রাসবিরোধী আইনের আওতায় আওয়ামী লীগের কর্মকাণ্ড নিষিদ্ধ ঘোষণা করে ১২ মে যে প্রজ্ঞাপন জারি করে, তা এখন থেকে কার্যকর। বিচারাধীন আন্তর্জাতিক অপরাধ ট্রাইব্যুনাল কর্তৃক চূড়ান্ত রায় না হওয়া পর্যন্ত আওয়ামী লীগ এবং এর অঙ্গ, সহযোগী ও ভ্রাতৃপ্রতিম সংগঠনগুলোর কোনো রকম প্রচার, মিছিল, সভা-সমাবেশ, সম্মেলন, অনলাইন বা সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে সক্রিয়তা সম্পূর্ণভাবে নিষিদ্ধ থাকবে। এই নিষেধাজ্ঞা নেতা-কর্মী, সদস্য, এমনকি সমর্থকদের ওপরও প্রযোজ্য।’
তবে বিবৃতিতে আশ্বস্ত করা হয়, ‘এই প্রজ্ঞাপন কোনোভাবেই অন্য রাজনৈতিক দল, মতপ্রকাশের স্বাধীনতা বা আইনি বিশ্লেষণকে দমন করে না। আওয়ামী লীগের কর্মকাণ্ড এবং সরকারের গৃহীত পদক্ষেপ নিয়ে গঠনমূলক আলোচনা বা আইনি মূল্যায়নের অধিকার রয়ে গেছে।’
বিবৃতিতে আরও দাবি করা হয়, ‘গত ১৫ বছরে, বিশেষ করে ছাত্র-জনতার ঐতিহাসিক গণঅভ্যুত্থান চলাকালে আওয়ামী লীগ ও তাদের সংগঠনগুলোর বিরুদ্ধে সন্ত্রাস, গুম, খুন, নির্যাতন ও মানবতাবিরোধী অপরাধের অসংখ্য অভিযোগ উঠেছে। এই অভিযোগে অনেক মামলা বিচারাধীন রয়েছে আন্তর্জাতিক অপরাধ ট্রাইব্যুনাল ও ফৌজদারি আদালতে।’
সরকারের ভাষ্যমতে, ‘আওয়ামী লীগ ৫ আগস্টের গণঅভ্যুত্থানের পরপরই মামলার বাদী ও সাক্ষীদের ভয় দেখাতে থাকে এবং বিচার প্রক্রিয়া ব্যাহত করার মতো কর্মকাণ্ডে জড়িয়ে পড়ে। ফলে দেশের নিরাপত্তা ও আইনশৃঙ্খলা পরিস্থিতির অবনতি ঘটার শঙ্কা তৈরি হয়, যার পরিপ্রেক্ষিতে এই সিদ্ধান্ত অনিবার্য হয়ে পড়ে।’
৫ আগস্টের সেই ঐতিহাসিক দিনে আওয়ামী লীগ সরকার পতনের পর তৎকালীন প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা দেশ ছেড়ে ভারতে পালিয়ে যান। এরপর থেকেই গ্রেপ্তার, মামলা ও তদন্তে ব্যস্ত থাকে প্রশাসন। বহু নেতা-কর্মী আটক হন। শেখ হাসিনাসহ শীর্ষ নেতাদের বিরুদ্ধে মামলা হয় একে একে।
আন্দোলনে নেতৃত্বদানকারী বৈষম্যবিরোধী ছাত্র আন্দোলনের পাশাপাশি জাতীয় নাগরিক পার্টি (এনসিপি) ও অন্যান্য সংগঠনগুলো বহুদিন ধরেই আওয়াজ তুলে আসছিল আওয়ামী লীগের নিষিদ্ধ ঘোষণার দাবিতে। অবশেষে সেই দাবি বাস্তবায়িত হলো। নির্বাচন কমিশনও দলটির নিবন্ধন স্থগিত করে সিদ্ধান্তকে পূর্ণতা দেয়। “গণমাধ্যম”-এর হাতে আসা সূত্র অনুযায়ী, এ নিষেধাজ্ঞা দেশের রাজনীতিতে এক নতুন অধ্যায়ের সূচনা করতে যাচ্ছে।