শনিবার, ০২ মে ২০২৬, ০৮:০১ পূর্বাহ্ন
চীনের সঙ্গে ড. ইউনূসের মেগা চুক্তি ঘিরে নতুন উত্তেজনা!
অনলাইন ডেস্ক
বাংলাদেশের দক্ষিণ-পশ্চিমাঞ্চলের প্রবেশদ্বার খুলনার পাশে পশুর নদীর তীরে গড়ে ওঠা মংলা বন্দর ১৯৫০ সালে যাত্রা শুরু করে। সময়ের সঙ্গে বন্দরটি শুধু টিকে থাকেনি—পরিণত হয়েছে দেশের দ্বিতীয় বৃহত্তম সমুদ্রবন্দরে। বর্তমানে এখানে পাঁচটি জেটি এবং ২২টি নোঙর পয়েন্টে একযোগে ৪৭টি জাহাজ ভিড়তে পারে। তবে সময় এখন থেমে থাকার নয়। বৈশ্বিক লজিস্টিক্স দুনিয়ার সঙ্গে তাল মেলাতে এবং আঞ্চলিক বাণিজ্যে আরও বড় ভূমিকা রাখতে বাংলাদেশ সরকার নিয়েছে এক বিশাল আধুনিকায়ন পরিকল্পনা।
এই মহাপরিকল্পনার অন্যতম গুরুত্বপূর্ণ মাইলফলক হিসেবে সম্প্রতি চীনের সঙ্গে একটি স্মরণীয় চুক্তি স্বাক্ষরিত হয়েছে। “মংলা বন্দরের সম্প্রসারণ ও আধুনিকায়ন” প্রকল্পটি বাস্তবায়িত হলে, এটি দক্ষিণ এশিয়ার অন্যতম আধুনিক বাণিজ্যকেন্দ্রে পরিণত হবে বলে আশাবাদী সংশ্লিষ্ট মহল।
মংলা বন্দর কর্তৃপক্ষের (MPA) উপপরিচালক মো. মাকরুজ্জামান জানান, ২০২৫ সালের ২৫ মার্চ চীনের রাষ্ট্রায়ত্ত প্রতিষ্ঠান চায়না সিভিল ইঞ্জিনিয়ারিং কনস্ট্রাকশন কর্পোরেশন (CCECC)-এর সঙ্গে সরকারি-থেকে-সরকারি (G2G) ভিত্তিতে ঐতিহাসিক এই চুক্তিটি সম্পন্ন হয়। এর আগে, ২ ফেব্রুয়ারি জাতীয় অর্থনৈতিক পরিষদের নির্বাহী কমিটি (একনেক) প্রকল্পটির অনুমোদন দেয়।
৪ হাজার ৬৮ কোটি ২২ লাখ টাকার এই প্রকল্পে বাংলাদেশের পক্ষ থেকে ৪৭৫ কোটি ৩২ লাখ টাকা দেওয়া হবে এবং বাকি ৩ হাজার ৫৯২ কোটি ৯০ লাখ টাকা আসবে চীনের ঋণ সহযোগিতা হিসেবে। প্রকল্পের আওতায় বন্দরে অবকাঠামো উন্নয়ন, নতুন জেটি নির্মাণ, ড্রেজিং এবং অত্যাধুনিক কনটেইনার হ্যান্ডলিং প্রযুক্তি সংযোজনের পরিকল্পনা রয়েছে।
প্রকল্প বাস্তবায়ন শেষ হলে বন্দরের পণ্য পরিবহণ সক্ষমতা বছরে ১৫ মিলিয়ন মেট্রিক টনে উন্নীত হবে। পাশাপাশি কনটেইনার হ্যান্ডলিং ক্ষমতা ১.৫ লাখ টিইইউ থেকে বাড়িয়ে ৪ লাখ টিইইউ করা হবে।
মংলা বন্দর কর্তৃপক্ষের চেয়ারম্যান রিয়ার অ্যাডমিরাল শাহীন রহমান বলেন, ‘এই প্রকল্প বাস্তবায়িত হলে মংলা একটি পূর্ণাঙ্গ, আধুনিক ও স্বয়ংক্রিয় বন্দরে রূপ নেবে। আমরা ইতোমধ্যে কাঠামোগত উন্নয়ন করেছি, এখন বন্দরটির সক্ষমতা কাজে লাগানোর সময়।’
এদিকে খুলনা সিভিক সোসাইটির সদস্য সচিব অ্যাডভোকেট বাবুল হাওলাদার বলেন, ‘এই চুক্তি নিঃসন্দেহে দেশের জন্য গেম-চেঞ্জার হবে। তবে সরকারকে নিশ্চিত করতে হবে, যাতে স্থানীয় জনগণ প্রকল্পে অংশগ্রহণ ও উপকারভোগী হতে পারে।’
এই উন্নয়ন শুধু মংলা নয়, বরং খুলনা ও গোটা দক্ষিণাঞ্চলের অর্থনীতিকে নতুন গতিতে এগিয়ে নেবে বলে মনে করছেন বিশেষজ্ঞরা। শিল্পাঞ্চল, অবকাঠামো, পর্যটন এবং কর্মসংস্থানের ক্ষেত্রেও এই প্রকল্প হবে এক দীর্ঘমেয়াদি আশীর্বাদ।