মঙ্গলবার, ১৬ জুন ২০২৬, ০৮:২৩ অপরাহ্ন
এনবিআর বিভাজন ভুল, বাজেট সংকটে অর্থনীতি বিপদের মুখে!
অনলাইন ডেস্ক
সেন্টার ফর পলিসি ডায়ালগের সম্মানীয় ফেলো (সিপিডি) ড. দেবপ্রিয় ভট্টাচার্য গণমাধ্যমকে বলেছেন, জাতীয় রাজস্ব বোর্ড (এনবিআর) দুইভাগ করার প্রক্রিয়া যথাযথ হয়নি। কোনো পরামর্শ বা আলোচনা ছাড়া পেশাজীবীদের জায়গা সংকুচিত করে ও অন্যান্য অংশগ্রহণকারীদের নিয়ন্ত্রণের মধ্যে রেখে যেটা করা হয়েছে, সেটা মোটেও গ্রহণযোগ্য নয়। এখন এই ভুল সংশোধন করা জরুরি হয়ে পড়েছে।
সোমবার (১৯ মে) এসডিজি বাস্তবায়নে নাগরিক প্ল্যাটফর্ম আয়োজিত “বাংলাদেশ অর্থনীতি ২০২৫-২৬: নীতি সংস্কার ও জাতীয় বাজেট” শীর্ষক সেমিনারে মূল প্রবন্ধ উপস্থাপনের সময় তিনি এসব কথা বলেন।
দেবপ্রিয় ভট্টাচার্য বলেন, এনবিআর নিয়ে চলমান আলোচনা নিয়ে বলতে গেলে, দুইভাগ করার বিষয়টি ঠিক ছিল এবং আমাদের শ্বেতপত্রেও সুপারিশ করা হয়েছিল। কিন্তু যেভাবে প্রক্রিয়াটি সম্পন্ন হয়েছে, সেটা সঠিক নয়। আলোচনা ছাড়া পেশাজীবীদের অংশ সংকুচিত এবং অন্যান্য অংশগ্রহণকারীদের নিয়ন্ত্রণে রেখে যা করা হয়েছে, সেটি গ্রহণযোগ্য নয়। এখন সেটি ঠিক করার দিকে মনোযোগ দেওয়া প্রয়োজন।
তিনি আরও বলেন, বর্তমান পরিস্থিতিতে পরিসংখ্যান বিশ্লেষণে দেখা যাচ্ছে, তৃতীয় প্রান্তিকে প্রবৃদ্ধি কমেছে, ঋণ প্রবাহ উল্লেখযোগ্য নয়, মূলধন যন্ত্রপাতি আমদানি কমেছে, এডিআই (বিদেশি প্রত্যক্ষ বিনিয়োগ) হ্রাস পেয়েছে এবং পুঁজিবাজারের সব সূচক নিম্নমুখী। এই পরিস্থিতিতে কর্মসংস্থান বৃদ্ধির প্রশ্ন দেখা দিয়েছে। বেকারত্বের হার বেড়ে ৪ শতাংশের উপরে দাঁড়িয়েছে। শ্রমিকদের মজুরি বৃদ্ধির হার মূল্যস্ফীতির চেয়ে কম হওয়ায় প্রকৃত মজুরি কমে যাচ্ছে। অর্থনৈতিক পুনর্জাগরণ সম্পর্কে এখন আশাবাদী হওয়া মুশকিল। জিডিপি প্রবৃদ্ধির হার ১০ শতাংশের নিচে অবস্থান করছে এবং আগামী অর্থবছরেও একই রকম থাকবে। এছাড়া, পরোক্ষ কর বৃদ্ধি বেশি হওয়ায় সাধারণ মানুষের ওপর করের বোঝা বাড়ছে বলে মনে হচ্ছে।
বাজেট ব্যয়ের দিকে ইঙ্গিত করে তিনি বলেন, সবচেয়ে বেশি ব্যয় হচ্ছে সুদ এবং ভর্তুকির খাতে। সরকারের অর্থনীতি পরিচালনায় কোনো সুস্পষ্ট নীতি না থেকে এডহক সিদ্ধান্ত গ্রহণ চলছে। মূল্যস্ফীতি নিয়ন্ত্রণে সরকার দুর্বলতার পরিচয় দিয়েছে, কারণ মুদ্রানীতি এখনও এর প্রভাব দেখাচ্ছে না। মূল্যস্ফীতি ৮ থেকে ৯ শতাংশের মধ্যে এলে একটু স্থিতিশীলতার ইঙ্গিত পাওয়া যাবে। দেশের চরম দারিদ্র্যসীমার নিচে থাকা মানুষের সংখ্যা বাড়ছে এবং যুব দারিদ্র্যও বেড়ে চলেছে।
দেবপ্রিয় ভট্টাচার্য বলেন, সরকারের কিছু অর্থনৈতিক সংস্কারের উদ্যোগ চোখে পড়ছে। টাস্কফোর্সের মাধ্যমে দ্বিবার্ষিক পরিকল্পনা প্রণয়নের পরামর্শ দেওয়া হয়েছে। যদিও সরকার বৈষম্য কমাতে যথেষ্ট পদক্ষেপ নিতে পারেনি। বর্তমানে কার্যকর হচ্ছে পুরোনো ফিসক্যাল নীতিমালা, যা গত সরকারের আমলে তৈরি হয়েছিল। কাঠামোগত সংস্কারে অগ্রগতি ধীরগতি কিংবা নেই বললেই চলে। এছাড়া ভারত, মিয়ানমারসহ প্রতিবেশীদের সঙ্গে জটিলতার মধ্য দিয়ে বাংলাদেশ অর্থনৈতিকভাবে যাচ্ছে। বহুপাক্ষিক অর্থনৈতিক ব্যবস্থাপনায় সংকট প্রবল। এই পরিস্থিতিতেই সরকার বাজেট তৈরি করতে যাচ্ছে।
দেশের আমলাতন্ত্র আরও শক্তিশালী হওয়ার কথাও উল্লেখ করে তিনি বলেন, আওয়ামী লীগের আমলে চোরতন্ত্র তৈরি হয়েছিল, যেখানে আমলা, ব্যবসায়ী ও রাজনীতিবিদরা জড়িত ছিলেন। এখন রাজনীতিবিদরা সরে গেছেন, ব্যবসায়ীরা ক্রমান্বয়ে দুর্বল হয়ে পড়ছেন আর আমলারা আবার শক্তি সঞ্চয় করছে।
এর আগে প্রধান উপদেষ্টার বিশেষ সহকারী অনিসুজ্জামান চৌধুরী বাংলাদেশ অর্থনৈতিক যাত্রার বিশ্লেষণে বলেন, ‘বাস্কেট কেস’ ধরনের নেতিবাচক পুরনো ধারণা থেকে বেরিয়ে এসে দেশের উন্নয়ন ও সক্ষমতা নিয়ে আত্মবিশ্বাসী হওয়া প্রয়োজন। তিনি উন্নয়নশীল দেশের জন্য স্থিতিশীল ও ন্যায্য আন্তর্জাতিক অর্থনৈতিক কাঠামোর অভাবকেও প্রধান চ্যালেঞ্জ হিসেবে উল্লেখ করেন।