শনিবার, ১৮ এপ্রিল ২০২৬, ১১:৪৭ অপরাহ্ন
ব্যবসায়ী অপহরণ, ৬ কোটি টাকা চাঁদাবাজি— ডিবি প্রধান হারুনের সিন্ডিকেটের অন্ধকার চক্র ফাঁস
ডিবি কার্যালয়ে নিয়ে গিয়ে ভয়ঙ্কর নির্যাতন, ৬ কোটি টাকার চাঁদা দাবি— এমন চাঞ্চল্যকর ঘটনায় এবার আলোচিত ব্যবসায়ী আবু সাদেককে কারাগারে পাঠানোর নির্দেশ দিয়েছেন আদালত। সোমবার (৩ ফেব্রুয়ারি) মেট্রোপলিটন ম্যাজিস্ট্রেট জিএম ফারহান ইশতিয়াক তার জামিন আবেদন নামঞ্জুর করে কারাগারে পাঠানোর আদেশ দেন।
এর আগে, রোববার রাত দেড়টায় রাজধানীর মোহাম্মদপুর হাউজিং সোসাইটির বিলাসবহুল ফ্ল্যাট থেকে সাদেককে গ্রেপ্তার করেন মামলার তদন্ত কর্মকর্তা, রমনা থানার সাব-ইন্সপেক্টর আব্দুল কাদের। এরপর সোমবার সকালে আদালতে হাজির করা হয়।
মামলার তদন্ত কর্মকর্তা জানান, ভুক্তভোগী ব্যবসায়ী জুলফিকার আলী ২১ জানুয়ারি রমনা থানায় মামলা করেন, যেখানে আবু সাদেককে প্রধান আসামি করা হয়। তার বিরুদ্ধে অভিযোগ, সাবেক ডিবিপ্রধান হারুন অর রশিদের ছত্রছায়ায় থেকে ভয়ঙ্কর এক অপহরণ ও চাঁদাবাজির চক্র চালাতেন তিনি।
কে কে জড়িত?
এ মামলার বাকি আসামিদের তালিকায় আছেন সাবেক ডিবিপ্রধান হারুন অর রশিদ, ডিবির সাবেক ডিসি গোলাম সবুর, তৎকালীন এক অতিরিক্ত ডিআইজি, ঢাকা জেলা আওয়ামী লীগের সাধারণ সম্পাদক পনিরুজ্জামান তরুণ এবং আবু সাদেকের ডানহাত হিসেবে পরিচিত ম্যানেজার মো. শামিম। পাশাপাশি ৫-৭ জন অজ্ঞাতনামা ব্যক্তির নামও মামলায় রয়েছে।
অপহরণের পর নির্যাতন— চাঁদার খেলা
মামলার এজাহারে বলা হয়েছে, ২০২৩ সালের ১৩ ফেব্রুয়ারি আবু সাদেক ও তার দলবল জুলফিকার আলীকে অপহরণ করে ডিবি কার্যালয়ে নিয়ে যান। সেখানে তাকে ভয়াবহ নির্যাতন চালিয়ে ৬ কোটি টাকা চাঁদা দাবি করা হয়। টাকা জোগাড়ের জন্য এক সপ্তাহ সময় বেঁধে দেওয়া হয়। এরপর আরও দুবার তাকে ডিবি কার্যালয় এবং ধানমন্ডির ১ নম্বর রোডে অবস্থিত ‘ড্রিমস বিউটি পার্লার’ ও ফিটনেস ক্লাবে নিয়ে শারীরিক ও মানসিক নির্যাতন চালানো হয়।
এজাহারে আরও উল্লেখ রয়েছে, এই ‘ড্রিমস বিউটি পার্লার’ আসলে কোনো সাধারণ পার্লার নয়, বরং এটি আবু সাদেকের সিন্ডিকেটের গোপন আস্তানা। এখানে বসেই ঢাকা জেলা আওয়ামী লীগের সাধারণ সম্পাদক মনিরুজ্জামান তরুণসহ সিন্ডিকেটের সদস্যরা অপহরণ ও চাঁদাবাজির পরিকল্পনা করতেন।
সাবেক প্রতিমন্ত্রীর ছত্রছায়ায় রাজত্ব!
তবে শুধু চাঁদাবাজি নয়, নৌপরিবহন মন্ত্রণালয়ের ড্রেজার ব্যবসায় একচ্ছত্র আধিপত্য ছিল আবু সাদেকের। অভিযোগ রয়েছে, সাবেক নৌপরিবহন প্রতিমন্ত্রী খালিদ মাহমুদ চৌধুরীর ‘বিশ্বস্ত’ হিসেবে পরিচিত হওয়ায় তিনি তার প্রভাব খাটিয়ে বড় বড় সরকারি প্রকল্প দখলে নিতেন।
ডিবির সাবেক প্রধান হারুন অর রশিদের এই সিন্ডিকেটের বিরুদ্ধে আরও কী কী ভয়ঙ্কর তথ্য সামনে আসে, সেটাই এখন দেখার বিষয়।