শনিবার, ১৮ এপ্রিল ২০২৬, ১০:১০ অপরাহ্ন
রাজবাড়ীর কালুখালী উপজেলায় ট্রান্সফরমার চুরির অভিযোগে গণপিটুনির শিকার হয়ে এক যুবক মৃত্যুবরণ করেছেন। নিহত নাজমুল মোল্লা (৩৫) ফরিদপুরের মধুখালী উপজেলার পূর্ব গাড়াখোলা গ্রামের মৃত আহম্মদ মোল্লার সন্তান।
শনিবার ভোরে কালুখালী উপজেলার রতনদিয়া ইউনিয়নের হরিণবাড়িয়া গ্রামে ট্রান্সফরমার চুরির সময় নাজমুলকে ধাওয়া করে আটক করেন এলাকাবাসী। তাঁর সঙ্গী নজরুল কাজীসহ আরেক ব্যক্তি পালিয়ে যান। স্ত্রীর করা মামলায় ৯০ থেকে ১০০ জনকে আসামি করা হয়েছে।
পুলিশ ও স্থানীয়দের সূত্রে জানা যায়, ভোরে তিনজনকে ট্রান্সফরমার নিয়ে পালাতে দেখে এলাকাবাসী তাড়া করলে নাজমুল ধরা পড়েন। এরপর তাঁকে মারধর করে স্থানীয় বাজারে এনে পুনরায় পিটুনি দেওয়া হয়। গুরুতর আহত অবস্থায় স্থানীয়রা তাঁকে উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সের সামনে রেখে পালিয়ে যান। চিকিৎসাধীন অবস্থায় দুপুরে তাঁর মৃত্যু হয়।
উপজেলা স্বাস্থ্য ও পরিবার পরিকল্পনা কর্মকর্তা ইসরাত জাহান জানান, সকাল সাড়ে আটটার দিকে অজ্ঞাতপরিচয় কয়েকজন নাজমুলকে গুরুতর আহত অবস্থায় রেখে যান। ট্রান্সফরমার চুরির অভিযোগে গণপিটুনির শিকার হওয়ার পরই তাঁকে ভর্তি করা হয়। পুলিশ ও পরিবারকে অবহিত করার পর দুপুরে তিনি মারা যান। অতিরিক্ত রক্তক্ষরণের কারণে তাঁর মৃত্যু হয়েছে বলে ধারণা করা হচ্ছে।
বিকেলে নিহতের স্ত্রী আন্না বেগম ও পরিবারের সদস্যরা হাসপাতালে এসে তাঁর লাশ শনাক্ত করেন। আন্না বেগম অভিযোগ করেন, নিকটাত্মীয় নজরুল ইসলাম কাজীর বাড়িতে বেড়াতে এসে ট্রান্সফরমার চুরির সন্দেহে তাঁর স্বামীকে পিটিয়ে হত্যা করা হয়েছে। তিনি থানায় মামলা দায়ের করেন।
কালুখালী থানার ওসি মোহাম্মদ জাহেদুর রহমান জানান, নাজমুলের লাশ ময়নাতদন্তের জন্য রাজবাড়ী সদর হাসপাতালে পাঠানো হয়েছে। তাঁর স্ত্রী ৯০ থেকে ১০০ জনের বিরুদ্ধে হত্যা মামলা করেছেন। তবে এ পর্যন্ত কেউ গ্রেপ্তার হয়নি।
অতিরিক্ত পুলিশ সুপার মো. রেজাউল করিম জানান, নাজমুলের বিরুদ্ধে ১১টি মামলা রয়েছে, যার মধ্যে তিনটি ডাকাতি প্রস্তুতি, ছয়টি চুরি এবং একটি মাদক মামলা। নজরুল কাজীর বিরুদ্ধেও ছয়টি চুরির মামলা রয়েছে।