শনিবার, ১৮ এপ্রিল ২০২৬, ১০:০১ অপরাহ্ন
চার বছরে হাট থেকে উধাও দেড় কোটি টাকা!
অনলাইন ডেস্ক
চৌগাছা পৌরসভার পশুহাট থেকে গত চার বছরে প্রায় দেড় কোটি টাকার রাজস্ব আত্মসাতের গুরুতর অভিযোগ উঠেছে সাবেক মেয়র নূর উদ্দীন আলম মামুন হিমেলের বিরুদ্ধে।
গণমাধ্যমের অনুসন্ধানে জানা যায়, ইজারাদার আবিদুর রহমান, তৎকালীন মেয়র হিমেল এবং স্থানীয় আওয়ামী লীগ ও বিএনপির শীর্ষ নেতারা মিলে গড়ে তোলেন রাজস্ব লুটের এক অদৃশ্য সিন্ডিকেট। বর্তমানে এই চক্রটি পুনরায় হাটের দখল নিতে মরিয়া হয়ে উঠেছে।
তথ্য অনুযায়ী, ২০২১ সালে ইয়ামুল অর রশীদ টিটো ৫৬ লাখ ২৮ হাজার ৫০০ টাকায় হাট ইজারা নিলেও ২৬ লাখ ৪ হাজার ২০০ টাকা বাকি রাখেন। ২০২২ সালে শামীম রেজা ৫৮ লাখ ৫০ হাজার টাকায় ইজারা নিলেও পৌরসভা পায়নি ৫৫ লাখ ১২ হাজার টাকা। ২০২৩ সালে আসিফ ইকবাল ভুট্টো ৫৯ লাখ ৫০ হাজার টাকায় ডাক নেন, যার মধ্যে ৩৩ লাখ ৩৮ হাজার টাকা বকেয়া রয়েছে। ২০২৪ সালে মিজানুর রহমান ৮০ লাখ ১৫ হাজার টাকায় ইজারা নিয়েও ৯ লাখ ৫৮ হাজার ৭৫০ টাকা পরিশোধ করেননি।
সর্বমোট ১ কোটি ২৪ লাখ ১২ হাজার ৯৫০ টাকা পৌরসভা থেকে লোপাট হয়েছে বলে গণমাধ্যমে উঠে এসেছে। অভিযোগে জড়িত রয়েছেন সাবেক মেয়র হিমেল, টিটো, শামীম, ভুট্টো, মিজানুর, আবিদুর রহমান এবং বিএনপির প্রভাবশালী নেতা ও পাতিবিলা ইউপি চেয়ারম্যান আতাউর রহমান লাল। কিন্তু পৌর প্রশাসনের পক্ষ থেকে এ নিয়ে দৃশ্যমান কোনো পদক্ষেপ দেখা যায়নি।
জানা গেছে, ২০২৪ সালের ৫ আগস্ট আওয়ামী লীগ সরকারের পতনের পর দেশের সকল পৌরসভার মেয়র ও কাউন্সিলরদের অপসারণ করে প্রশাসক নিয়োগ দেওয়া হয়। চৌগাছায় প্রথমে সহকারী কমিশনার গুঞ্জন বিশ্বাস এবং পরে প্রকৌশলী তাসমিন জাহান প্রশাসকের দায়িত্ব পান।
পদে যোগ দিয়েই তাসমিন জাহান পৌর কার্যক্রমে স্বচ্ছতা আনার লক্ষ্যে ২০২৫ সালের হাট ইজারার প্রকাশ্য টেন্ডার প্রক্রিয়া শুরু করেন। এতে করে সাবেক মেয়র হিমেলের ঘনিষ্ঠদের মধ্যে হাহাকার শুরু হয়। তারা আবারও হাট দখলে নিতে তৎপর হয়ে ওঠে। টেন্ডার প্রক্রিয়া উপেক্ষা করে বিএনপি-সম্পৃক্ত আবিদুর রহমান জোরপূর্বক হাট নিতে চাপ সৃষ্টি করে। ফলে বিষয়টি আদালত পর্যন্ত গড়ায়।
বর্তমানে হাট নিয়ে উচ্চ আদালতে মামলা চলমান রয়েছে। আদালতের নির্দেশ না আসা পর্যন্ত হাটের রাজস্ব খাস আদায়ে পৌরসভার তত্ত্বাবধানে পরিচালিত হবে।
চৌগাছার ঠিকাদার আতিকুর রহমান লেন্টু বলেন, মেয়র হিমেল, টিটো, শামীম, ভুট্টো, মিজানুর ও বিএনপি নেতা লাল মিলে প্রায় দেড় কোটি টাকা আত্মসাৎ করেছে। ডাকের টাকা না দিয়ে তারা হাট থেকে টাকা তুলে নানা অজুহাতে আত্মসাৎ করেছে।
তিনি আরও দাবি করেন, হিমেলের ঘনিষ্ঠ আবিদুর রহমান এবং বিএনপি নেতা লালের মাধ্যমে হাট পুনর্দখলের চেষ্টা চলছে।
এ বিষয়ে বিএনপি নেতা ও পাতিবিলা ইউপি চেয়ারম্যান আতাউর রহমান লাল বলেন, “পশুহাটটি আমার শ্বশুরের জায়গা মিলে গঠিত, তাই আমাকে উদ্দেশ্যপ্রণোদিতভাবে অভিযুক্ত করা হচ্ছে। আমি কোনো অর্থ আত্মসাতে জড়িত নই। যা কিছু করেছে, সব আওয়ামী লীগের লোকজনই করেছে।”
চৌগাছা পৌর প্রশাসক ও সহকারী কমিশনার (ভূমি) তাসমিন জাহান বলেন, “হাট নিয়ে মামলা চলছে। আদালতের রায় হাতে পাওয়ার পর নির্দেশ মোতাবেক পরবর্তী কার্যক্রম পরিচালনা করা হবে।”